জানা-অজানা

সিকিমে চেরি ব্লসম উৎসব: পর্বতের বুকে গোলাপি স্বপ্নের জোয়ার 

প্রথমবারের মতো সিকিমে শুরু হল "অ্যাস্ট্রোট্যুরিজম"

 

 

সিকিমে চেরি ব্লসম উৎসব: পর্বতের বুকে গোলাপি স্বপ্নের জোয়ার 

 

শীতের শুরুতেই যখন উত্তর-পূর্ব ভারতের পাহাড়ি হাওয়ায় ঠান্ডা ছোঁয়া বাড়ছে, তখনই সিকিমের পাহাড় যেন এক অন্যরকম রঙে রাঙিয়ে ওঠে। চেরি ফুলের গোলাপি স্রোতে ভেসে যায় গোটা রাজ্য। প্রতি বছরের মতো এবারও সিকিমে শুরু হয়ে গেছে “ইন্টারন্যাশনাল চেরি ব্লসম ফেস্টিভ্যাল”, স্থানীয়ভাবে ‘পায়ুটুর’ নামে পরিচিত এই উৎসব। আর এই উৎসবকে কেন্দ্র করেই এখন পাহাড়জুড়ে উৎসবের আমেজ।

স্থানীয় মতে, ‘পায়ু গাছ’ বা চেরি ফুলের ফোটা মূলত ধান কাটার মরশুমের প্রতীক। এই ফুল সাধারণত ১৫ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত গাছে টিকে থাকে, তাই সেই সময়টিই উৎসবের আবহে ভরে ওঠে পাহাড়ি গ্রামগুলো।
প্রকৃতির সাজেই যেন মিশে আছে উৎসবের রঙ। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই গ্যাংটক, নামচি, রুমটেকের পথে পথে চেরি ফুলের পাপড়ি উড়ে বেড়াচ্ছে বাতাসে। সকালে সূর্যের আলোয় সেই ফুলে ঝলমল করছে পাহাড়, আর সন্ধ্যা নামলেই আলোকসজ্জায় সাজছে শহর।
সংগীত, সংস্কৃতি আর পাহাড়ের উচ্ছ্বাস:
উৎসব মানেই শুধু ফুল নয়—সঙ্গে রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, স্থানীয় নাচ-গান, খাদ্য মেলা ও ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পের প্রদর্শনী। ভারত ও বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিল্পীরা আসছেন সিকিমের এই উৎসবে অংশ নিতে। সন্ধ্যায় রক ব্যান্ড থেকে শুরু করে লোকসঙ্গীত—সব মিলিয়ে এক সুরেলা আবহ তৈরি হয়েছে পাহাড়ের বুকে।
প্রকৃতির কোলে এক রঙিন উৎসব:
জাপানের মতোই সিকিমেও এখন চেরি ফুলের উৎসব এক বড় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। পাহাড়ের নিসর্গ, মানুষের হাসি, আর ফুলের সমুদ্র—সব মিলিয়ে এই কয়েকটা দিন সিকিম যেন এক পরীর রাজ্য।

সীমান্তভিত্তিক পর্যটনে নতুন দিশা আনতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে অ্যাসোসিয়েশন ফর কনজারভেশন অ্যান্ড ট্যুরিজম (ACT)। তাদের উদ্যোগে ভুটানের ফুন্টশোলিংয়ের কাছে প্যাচু হারভেস্ট ফেস্টিভ্যাল এবং নেপালের ধানকুটায় হারভেস্ট ফেস্টিভ্যালের পর এবার উৎসবের সুবাস পৌঁছল দক্ষিণ সিকিমে।

এই উৎসবের মাধ্যমে সিকিমের তিনটি নতুন গ্রামকে যুক্ত করা হচ্ছে গ্রামীণ পর্যটনের মানচিত্রে। যার মধ্যে দুটি জনজাতি গ্রাম গ্যাংচুং ও বেন। পাশাপাশি, ৯,৫০০ ফুট উচ্চতার তেন্ডু হিল ট্রেক নতুন আকর্ষণ হিসেবে চালু হচ্ছে।

চালামথাংকে সিকিমের মডেল রুরাল ট্যুরিজম ভিলেজ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। এ বছর প্রথমবারের মতো সিকিমে শুরু হল “অ্যাস্ট্রোট্যুরিজম”। রাত্রিকালীন আকাশ দেখা ও মহাকাশ পর্যবেক্ষণের নতুন উদ্যোগ হিসেবে।

এই পুরো কর্মসূচির নেতৃত্বে রয়েছেন স্থানীয় বিধায়ক বেদুসিং পন্থ। গ্রামীণ পর্যটন ও হোমস্টে উন্নয়নের দায়িত্বে অমৃত শর্মা, অ্যাস্ট্রোট্যুরিজমের নেতৃত্বে প্রশান্ত লামিছানে, এবং সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বে রয়েছেন তন্নিষ্ঠা রক্ষিত।

স্থানীয় স্বাদে উৎসবের রসনা:

উৎসবে ভিড় জমাচ্ছেন খাদ্যরসিকরাও। সিকিমের বিখ্যাত থুকপা, মোমো, চ্যাং (স্থানীয় পানীয়) আর পাহাড়ি হার্বাল চা এখন পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ।

পর্যটকদের ঢল:

এই সময় রাজ্যের হোটেলগুলোতে বুকিং প্রায় ফুল। দেশ-বিদেশের হাজার হাজার পর্যটক আসছেন শুধু এই গোলাপি মায়া দেখতে। পর্যটন দফতর জানিয়েছে, ‘চেরি ব্লসম উৎসব’ এখন সিকিমের আন্তর্জাতিক পর্যটন ক্যালেন্ডারের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

Related Articles

Back to top button