করোনার মারণ থাবা থেকে বাদ যাচ্ছে না শিশুরা
নয়াদিল্লি: এবছর কী ভাবে করোনার থাবা আরো চওড়া হচ্ছে। সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে বেসামাল গোটা দেশ। দিল্লির চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন করোনার মারণ থাবা থেকে বাদ যাচ্ছে না বাচ্চারা। নবজাতক এমনকী শিশুরা পর্যন্ত আক্রান্ত হচ্ছে।তবে ডাক্তাররা জানিয়েছেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও কখনও মারাত্মক আকার নিচ্ছে। তবে ৫-১২ বছরের শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
কিছু ক্ষেত্রে বাচ্চাদের সঙ্গে তাদের মায়েদের থাকতে হচ্ছে। প্রতিনিয়ত নানা রকমের লক্ষণ সামনে আসছে। এক বেসরকারি হাসপাতালের ৬ বছরের করোনা আক্রান্ত শিশুর মা জানিয়েছে, তার বাচ্চার ডায়রিয়া হয়েছিল, সঙ্গে কাশি ছিল। হাসপাতালে আনলে করোনা টেস্ট করা হয়। রিপোর্ট পজিটিভ আসে। ডাক্তাররা ওষুধ দিয়েছে এবং সে এখন সুস্থ আছে।
দিল্লির মধুকর রেইনবো শিশু হাসপাতালে, ডাক্তাররা এক সপ্তাহের মধ্যে ৫০টি করোনা আক্রান্ত শিশুর নাম লিপিবদ্ধ করেছেন এবং ৬৭ সংখ্যার শয্যার ব্যবস্থা করেছেন। ডাক্তাররা জানিয়েছেন ২০২০ সালের তুলনায় আরো উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে চলেছে। দ্বিতীয় ঢেউয়ে অল্পবয়সীরা আক্রান্ত হচ্ছে। আমরা সবসময় পাহাড়া দিতে পারি না। অভিভাবকদের অবশ্যই সমস্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং প্রয়োজনে চিকিত্সা সংক্রান্ত পরামর্শ নিতে হবে।
কেন বাচ্চারা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে ?
প্রবীণ শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ সঞ্জীব বাগাই বলেছেন, করোনাভাইরাসের মিউট্যান্ট স্ট্রেন চরিত্রগতভাবে আরও “গুরুতর” যা শিশুদের সুরক্ষাকে অকার্যকর করে দিচ্ছে। গত বছর গোটা বিশ্বের ১১ শতাংশ শিশু আক্রান্ত হয়েছিল।কিন্তু এবছর ৩০ শতাংশ শিশু আক্রান্ত হয়েছে।টি-সেল প্রতিরোধ ক্ষমতা, গলায় নাজাল প্যাসেজে রিসেপ্টারের অভাব এবং অন্যান্য সুরক্ষামূলক প্রোটিন কাজ করছে না।
আবার অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন বাড়িতে সঠিকভাবে করোনাবিধি মেনে চলা হয় না। প্রথমদিকে এই নিয়ম যতটা মানা হয়েছে এবারে সেক্ষেত্রে গলদ থেকেই যাচ্ছে। এছাড়া বাচ্চাদের বাইরে না নিয়ে যাওয়াই ভালো। এবং গ্যাস অম্বলের মত সমস্যা, ফুসকুড়ি, কনজেক্টিভাইটিস, ভাস্কুলাইটিস লক্ষণগুলি উপেক্ষা করা উচিত নয়। বাচ্চাদের জন্যে এখনও কোনো ভ্যাকসিন নেই।
বাচ্চাদের ক্ষেত্রে যে লক্ষণগুলো দেখা যাচ্ছে
ডায়রিয়া, বমি, ফুসকুড়ি, কনজেক্টিভাইটিস, ভাস্কুলাইটিস, কাশি, জ্বর।
বিস্তারিত পরীক্ষা ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক না দেওয়াই ভালো। দরকার হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বাবা-মা লক্ষণগুলো আরো ভালোভাবে নজর রাখতে হবে। এখনও পর্যন্ত প্রমান হয়নি যে করোনা পজিটিভ মায়ের স্তনদুগ্ধ পান করালে শিশুরও করোনা হবে। বাচ্চাদের স্তনদুগ্ধ পান করানোই ভালো।
তথ্যসূত্রঃ কলকাতা ২৪×৭


