অক্সিজেনের সরঞ্জামবাহী জাহাজে শুল্ক মুকুব করল মোদী সরকার।

নয়াদিল্লি: দেশে ক্রমেই বাড়ছে সংক্রমণ।তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চাহিদা বাড়ছে করোনা চিকিৎসা সরঞ্জামের।অক্সিজেনের জন্যে হাহাকার শুরু হয়েছে। মানুষ যেন অসহায় হয়ে পড়েছে। এমতবস্থায় বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। দেশের সমস্ত বড় বন্দরে অক্সিজেনবাহী বা অক্সিজেনের সরঞ্জামবাহী জাহাজে শুল্ক মুকুব করল মোদী সরকার।
কেন্দ্রের তরফে এদিন নয়া নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, দেশের সমস্ত বড় বন্দরে যেন মেডিক্যাল গ্রেড অক্সিজেন,অক্সিজেন ট্যাঙ্ক,অক্সিজেন বোতল,পোর্টেবল অক্সিজেন জেনারেটর,অক্সিজেন কনসেন্টেটর,অক্সিজেন সিলিন্ডার ইত্যাদি বহনকারী জাহাজগুলির শুল্ক মুকুব করে দেওয়া হয়। এই সমস্ত জাহাজ বা কার্গোকে বাড়তি গুরুত্বের দাবি সরকারের।পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত যেন এই নিয়ম কার্যকর থাকে তা স্পষ্ট জানানো হয়েছে সরকারের তরফ থেকে।
বন্দরের শীর্ষস্থানীয় আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তারা যেন ব্যক্তিগতভাবে লজিস্টিক অপারেশনগুলির তদারকি করে। কাস্টমসের সঙ্গে কথা বলে যেন দ্রুত ডকুমেন্টেশনের ব্যবস্থা করা হয় সেদিকেও নজর দিতে বলা হয়েছে। মিনিস্ট্রি অফ পোর্ট ওই সমস্ত জাহাজগুলোর তদারকি করবে।
প্রসঙ্গত,মেডিক্যাল অক্সিজেনের অপ্রতুলতার জেরে দেশে যে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা মেটাতে দফায় দফায় বিভিন্ন মহলের সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের তরফে একটি টুইটে বলা হয়েছে, অক্সিজেনের সমস্যা কাটাতে সরকারের নয়া সিদ্ধান্ত একটি বড় ঘটনা। তিনি জানান, ৫৫১ পিএসএ অক্সিজেন জেনারেশন প্ল্যান্টর জন্য অর্থ একত্রিত করার যে উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রী শুরু করেছেন , তার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে তিনি ধন্যবাদ জানাতে চান। প্রসঙ্গত দেশ জুড়ে এবার ৫৫১ টি অক্সিজেন প্ল্যান্ট এবার তৈরি হবে।
কোভিডের দাপটে দেশে সংক্রমণের মাত্রা বেড়েই চলেছে। দেখা যাচ্ছে করোনা রোগীদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা। তার জেরেই চাহিদা বাড়ছে মেডিক্যাল অক্সিজেনের।এদিকে রাজধানীতে কতটা অক্সিজেন সরবরাহ করবে কেন্দ্র সেই প্রেক্ষিতে মামলা দায়ের হয়েছে দিল্লি আদালতে । এ দিন এই মামলার শুনানি চলাকালীন বিষয়টি নিয়ে জোরদার তর্ক হয় কোর্টেই ৷ দিল্লি সরকারের পক্ষে আইনজীবী কোর্টকে জানান যে, ৪৮০ টন অক্সিজেন না পেলে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালগুলির ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে ৷ শুক্রবার মাত্র ২৯৭ টন অক্সিজেন পেয়েছে দিল্লি ৷ দিল্লি কত পরিমাণ অক্সিজেন পাবে আর কী ভাবে তা দেওয়া হবে, সে নিয়ে কেন্দ্রের কাছ থেকে বিস্তারিত উত্তর চেয়েছে দিল্লি সরকার ৷
তথ্যসূত্রঃ কলকাতা ২৪×৭


