মায়াচরের মর্মান্তিক পরিনতি

মায়াচর! পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মহিষাদলের অন্তর্গত একটি গ্রাম। বলা ভুল ভালো, গ্রাম নয় যেন বিচ্ছিন্ন দ্বীপ৷
পূর্ব মেদিনীপুর ও হাওড়া জেলার মাঝখান দিয়ে বয়ে গিয়েছে রুপনারায়ণ নদী৷ আর সেই নদীর মাঝখানেই এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মায়াচর৷ সেখানে কয়েক হাজার মানুষের বাস।
খাতায় কলমে এই জনপদ পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মহিষাদল ব্লকের অমৃতবেড়িয়ার অন্তর্গত৷ যদিও এখানকার বাসিন্দাদের নির্ভরশীল থাকতে হয় হাওড়া জেলার উপর।
কারণ, পূর্ব মেদিনীপুর থেকে মায়াচরের মাঝে রয়েছে রুপনারায়ণে বিশাল নদী। ফলে পূর্ব মেদিনীপুর যেতে হলে বাসিন্দাদের এক এবং একমাত্র ভরসা বলতে ফেরি সার্ভিস৷
প্রতি মুহূর্তে নৌকাডুবির আশঙ্কা থাকেই৷ তাই মায়াচরের অধিকাংশরা বাসিন্দাই হাওড়া জেলাকে বেশি পছন্দ করেন। কিন্তু প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সীমা রেখার জেরে পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদল ব্লকের অমৃতবেড়িয়া গ্রামপঞ্চায়েতের নাগরিক। ফলে হাওড়া জেলার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা থাকলেও তা সম্ভব হচ্ছে না।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, পূর্ব মেদিনীপুরের পরিবর্তে তাঁদের ছোট জনপদটিকে হাওড়ার সঙ্গে যুক্ত করে দিলে প্রশাসনিক কাজ থেকে শুরু করে যাবতীয় হয়রানির হাত থেকে রেহাই পাবেন তাঁরা৷ অথচ দীর্ঘদিন ধরে এই দাবি জানিয়ে এলেও প্রশাসন থেকে রাজনৈতিক দল বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ৷
অগত্যা, মহিষাদল ব্লকের অমৃতবেড়িয়া থেকে মায়াচর যাওয়ার একামাত্র যাতায়াতের ভরসা ফেরি সার্ভিস। ফলে প্রাণ হাতে নিয়েই এলাকার মানুষকে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করতে হয়।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, যোগাযোগের একমাত্র পথ ফেরি সার্ভিস৷ অথচ তারও উপযুক্ত পরিকাঠামো নেই। গ্রীষ্মকালে যখন রুপনারায়ণে জল কমে যায়, তখন ফেরি সার্ভিসও বন্ধ থাকে৷ অগত্যা, পোষাক খুলে হাটুজল ডিঙিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হন বাসিন্দারা৷ এমনকি ফেরি সার্ভিসে নেই স্থায়ী ফেরিঘাটও।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভোট আসে ভোট যায়। সিপিএম থেকে তৃণমূল, অনেকেই অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কেউ কথা রাখেনি।
গত ইয়াস ঘুর্ণঝড়ে এই মায়াচরের ঊনিশ জায়াগায় নদী বাঁধ ভেঙ্গে উত্তাল রূপনারায়ন লন্ডভন্ড করে দেয় চরবাসীদের ঘরবাড়ি, জনপদ, ক্ষেতি,মাঠ-ঘাট, পুকুর থেকে সব কিছু। যা চাক্ষুষ না করলে বর্ণনা করা যায়না। স্থানীয়দের অতঙ্কিত অভিমত কয়েকদিন পরের কোটালের জলে তাদের চরম পরিণতি অবধারিত। এখনো বাঁধ মেরামতির কাজ শুরুই হয়নি।
সরকারি ত্রানও প্রয়োজনের তুলনায় নগন্য।
এমতাবস্থায় আরো অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠের মত কোলাঘাটের সংকেত ক্লাব একটি বেসরকারি ভ্রমণ সংস্থার সহযোগিতায় নদীপথেই ত্রান নিয়ে পৌঁছালো মায়াচরে। প্রায় দুশোটি পরিবারকে চাল,ডাল, আলু,পেঁয়াজ, ভূষিমাল সামগ্রী, বিস্কুট, পানীয়জল ইত্যাদি সরবরাহ করল।
সংস্থার পক্ষে রবীন্দ্রনাথ দাস জানান,- ” এই জেলার মানচিত্রেই এই মায়াচর দ্বীপে ইয়াস ঘুর্ণিঝড় যে ক্ষতিসাধন করে দিয়েছে তা ত্রাণ দিতে না এলে বুঝতে পারতাম না। ”



