রাজ্য

কফিন বন্দি হয়ে বাড়ি ফিরলো ঘরের ছেলে নন্দ

কৃষ্ণকান্ত মাইতি, তমলুক, পূর্ব মেদিনীপুর:কয়েক মাস আগেই বাড়ি এসেছিলেন নন্দ। বাড়ির লোকজনের পাশাপাশি পাড়া- প্রতিবেশীদের সঙ্গেও কাটিয়েছেন একাধিক মুহূর্ত। আগামী ২ জানুয়ারি নন্দ বাড়ি আসার কথা কিন্তু সেই নন্দ যে আজ আর নেই তা ভাবতেই পারছেন না পরিবারের পাশাপাশি পাড়া-প্রতিবেশীরাও। নন্দ বাবুর ছেলে এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছে যে মাধ্যমিক পরীক্ষা হবে সেই কারণে ছেলের ভালো রেজাল্ট যাতে হয় ছুটি নিয়ে বেশি সময় দেওয়ার জন্য বাড়িতে আসার কথা ছিল নন্দর। নন্দের এক মেয়ে তাও আবার 16 মাসের। মেয়েকে ঠিক মতন আদরও করতে পারেনি নন্দবাবু। মেয়ের জন্মের পর কয়েকদিনের ছুটি নিয়ে বাড়ি এসেছিলেন । মেয়ের সাথে কয়েকদিন সময় কাটানোর জন্য মুখিয়া হয়েছিল নন্দ। কিন্তু তা আর হয়ে উঠলো না। শেষমেষ নন্দ বাবু বাড়ি পৌঁছালো কফিনবন্দি হয়ে।

গত সোমবার সকালে মেঘলা আকাশ ছিল লাদাখে। আর ওই সকালেই পাহাড়ি রাস্তায় টহলদারির জন্য বের হয় ৪২নং ব্যাটেলিয়ানের চারজন জওয়ান। এমন সময় আচমকা  দুর্ঘটনার কবলে পড়ে সেনা জওয়ানদের ওই গাড়ি। সঙ্গে সঙ্গে পাশের খাদে পড়ে যায় জওয়ানদের গাড়িটি। গুরুতরভাবে জখম হন গাড়ির মধ্যে থাকা ৪ জন সেনা জওয়ান।

তাদের পরে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হলে সকাল নটা নাগাদ মৃত্যু হয় তমলুকের বাসিন্দা সেনা জওয়ান নন্দ রানার। বর্তমানে গুরুতর জখম অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন বাকি তিন সেনা জওয়ান। নন্দর মৃত্যুর খবর তাঁর বাড়ির লোকজনদের কাছে পৌঁছতেই ব্যাপক শোকের ছায়া নেমে আসে এলাকায়।  মঙ্গলবার ময়নাতদন্ত করার পর আজ সেনাবাহিনীর তৎপরতায়  তমলুকের নিজের গ্রামে আনা হয় তাঁর দেহ। এদিন শহীদ জওয়ান নন্দকে শেষ দেখা দেখার জন্য গোটা গ্রামবাসী রাস্তায় নামে। গ্রামবাসীরা শেষ শ্রদ্ধা জানান নন্দ বাবুকে। পরে সেনাবাহিনী ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে গার্ড অফ অনার এর মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন সেনাবাহিনী ও জেলা পুলিশর।

Related Articles

Back to top button