কলকাতা :- উত্তরবঙ্গ সফরের শেষ দিনে নদীয়া জেলার প্রশাসনিক বৈঠক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিএসএফ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন। এদিন তিনি বলেন আইন-শৃঙ্খলা রাজ্যের বিষয় তাই বিএসএফের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে বিষয়টি দেখতে হবে। তিনি বলেন,‘‘নদিয়া জেলা বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী। বিএসএফ যাতে অনুমতি ছাড়া গ্রামে ঢুকে কোনও ঝামেলায় জড়িয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে হবে। বিএসএফ তাদের কাজ করবে, পুলিশ তাদের কাজ করবে। কিন্তু মাথায় রাখতে হবে, আইন শৃঙ্খলা রাজ্যের এক্তিয়ারে।’’
পাশাপাশি জেলার পুরসভাগুলিকে আরও ভাল করে কাজ করার নির্দেশ। মুখ্যমন্ত্রী জানান, কয়েক মাসের মধ্যেই পুর নির্বাচন করাবে সরকার। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী হওয়ায় নদিয়া জেলায় পুলিশকে বিএসএফ-এর সঙ্গে আরও ভাল সমন্বয় বজায় রেখে গোলমাল এড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন মমতা। পাশাপাশি বলেন, ‘‘যা খুশি তাই চাইলেই হবে না। রাজ্য জুড়ে প্রচুর কাজ চলছে। হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। সরকারের আর টাকা নেই।’’আমাদের লক্ষ্য কর্মসংস্থান বাড়ানো। নদিয়ার কৃষ্ণনগর রবীন্দ্র ভবনে প্রশাসনিক বৈঠকে স্পষ্ট জানান মুখ্যমন্ত্রী। এ জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেন সংশ্লিষ্ট সরকারি আধিকারিকদের।প্রশাসনিক বৈঠকে করোনা নিয়েও সতর্কতা বজায় রাখার কথা বলেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‘ওমিক্রন ছড়াচ্ছে। করোনার তৃতীয় ঢেউ যদি আসে, তা হলে রুখতে কি আমরা তৈরি?’’ জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিকরা জানান, অতিরিক্ত শয্যা ইতিমধ্যেই প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিএসএফ-এর নয়া নির্দেশিকা ঘিরে চাপানউতোর এ দিন ফের উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রীর মুখে।
এ দিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, নদিয়া জেলার বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে একটি করে শিল্প পার্ক তৈরি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আগের বিধি বদলে ৫ একর জমিতে শিল্প পার্ক তৈরি করার ছাড়পত্র দেবে। এই প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ‘‘বিধানসভা কেন্দ্র ধরে ধরে একটি করে শিল্প পার্ক আমরা করতে পারি।’’ মমতা আরও বলেন, ‘‘যেখানে আমাদের লোকেরা আছেন তাঁরা সমস্ত সহায়তা করবেন।’’
রাজ্য সরকারের প্রকল্প এবং পরিষেবা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত করতে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা করতে খোলা হয়েছে বাংলা সহায়তা কেন্দ্র । সেই কেন্দ্রগুলি ঠিক মতো চলছে কি না তা খতিয়ে দেখার জন্য এলাকার বিডিও এবং পুলিশ আধিকারিকদের বাড়তি উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশও দেন মুখ্যমন্ত্রী।
কলকাতা পুরভোটের পড়েই জেলার বাকি পুরসভা ও পুরনিগম গুলিতে ভোট করানো হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রায়গঞ্জের প্রশাসনিক বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন খুব শীঘ্রই পুরভোট হবে জেলায়, তৈরি থাকতে হবে পুর প্রশাসকদের। সেই একই বার্তা বৃহস্পতিবার নদিয়ায় দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তখনই নদিয়াতেও দলের গোষ্ঠীকোন্দল নিয়ে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। মুর্শিদাবাদের প্রশাসনিক বৈঠকে এই বিষয়ে সাবধান করেছিলেন কৃষ্ণেন্দু নারায়াণ অধিকারীকে। এবার নদিয়ায় এসে গোষ্ঠীকোন্দল মেটাতে প্রশাসনিক সভায় ধমক দেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে।
মুখ্যমন্ত্রী মহুয়াকে জানান, ‘মহুয়া এখানে আমি একটা স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই। কে কার পক্ষে বিপক্ষে দেখার আমার দরকার নেই। আমি সাজিয়ে গুছিয়ে কিছু লোক পাঠিয়ে ইউটিউবে অথবা ডিজিটালে অথবা পেপারে দিয়ে দিলাম, এই রাজনীতি একদিন চলতে পারে চিরদিন নয়। একই লোক চিরদিন এক জায়গায় থাকবে এটাও মেনে নেওয়াটা ঠিক নয়। যখন ভোট হবে পার্টি ঠিক করবে কে লড়বে কে না। এখানে মতপার্থক্যের কোনও জায়গা নেই। সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করতে হবে এটা আমি বলে গেলাম।’ এই ধমকের পিছনে মূল কারণ হিসেবে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। ২০২১-এর নির্বাচনে মহুয়া কিছু বিধায়কের টিকিটের জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে মহুয়ার সুপারিশ না মানায় একুশের নির্বাচনে বেছে বেছে দলীয় প্রার্থীদের জন্য প্রচারে নামেন তৃণমূল সাংসদ। এই বিষয়ে তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের কাছে অভিযোগ জানায় নদিয়ার প্রবীণ নেতারা। অন্যদিকে জেলায় বেশ কিছু পরিমাণে ইউটিউব পোটার সাংবাদিক গাড়িতে প্রেস লাগিয়ে ঘুরে বেড়ানোর বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এক সাংবাদিক।
তবে এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর নমনীয় মনোভাব লক্ষ্য করা যায়, তিনি জেলা প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেন প্রেস এবং লাল বাতির অপব্যবহার করেই বিভিন্ন অপরাধ মূলক ঘটনা ঘটে তাই সজাগ থাকতে হবে তবে, জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ইউটিউব পোর্টাল চ্যানেলগুলি অনেকেই বেশ ভালো কাজ করছে, স্থানীয় স্তরে সরকারি উন্নয়নগুলি তুলে ধরে তবে গাড়িতে নিজস্ব চ্যানেলের নাম লিখে রাখার উপদেশও শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রীর মুখ থেকে।
এদিনের প্রশাসনিক বৈঠকে সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মহুয়াকে কাছে পেয়েই ধমক দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে শুধুই মহুয়া নন, একই সঙ্গে বিডিও, জেলাশাসক, জেলার ওসি এবং আইসিদেরও সতর্ক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সকলকে একসঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করার বার্তাই দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।অপর এক সাংবাদিক, অভিমত পোষণ করেন ইউটিউব এবং পোর্টাল চ্যানেল থেকেই অনেকে উঠে এসেছেন, মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায়, কিন্তু মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার থেকে পোর্টাল ইউটিউব চ্যানেল গুলি সরকারের স্থানীয় স্তরের খবর বেশি তুলে ধরে।
স্থানীয় পত্রপত্রিকার পক্ষ থেকে এবং অপর এক মেইনস্ট্রিমের সাংবাদিক পি এ কার্ড, এবং অ্যাক্রিয়েশন কার্ড প্রদানের সংখ্যা বৃদ্ধির কথা বললে মুখ্যমন্ত্রী ডিআইসিওর সাথে যোগাযোগ করার কথা বলেন।তবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় উঠে আসে অপর এক সাংবাদিকের মুখ থেকে, তিনি দাবি জানান প্রশাসনিক এবং পুলিশের কাছ থেকে অনেক সময় তথ্য এবং অডিও ভিডিও বিবৃতি পেতে অসুবিধা হয়। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জেলা প্রশাসনকে স্পোকপার্সন বাড়ানোর কথা বলেন।
সাংবাদিকদের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার কথা আলোচনা হতেই মুখ্যমন্ত্রী মাভৈঃ প্রকল্পের কথা বলেন, তিনি এও বলেন সাধারণ মানুষ হিসেবে সমস্ত সরকারি সুযোগ সুবিধা নেওয়া যেতেই পারে।