Safer Internet Day: নিরাপদ ‘অনলাইন জীবনের’ ৬ টিপস, টের পাবে না কাকপক্ষীও!
আজ সেফার ইন্টারনেট ডে। আজকের ডিজিটাল জীবনে প্রতিটি মুহূর্তে সুরক্ষিত থাকতে, নিরাপদে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে বিশ্বজুড়ে এই বিশেষ দিনটি পালিত হয়। ইন্টারনেটে সুরক্ষিত থাকার চাবিকাঠি কী, কী ভাবে আপনি একজন সুরক্ষিত ইন্টারনেট ব্যবহারকারী হয়ে উঠতে পারেন, সেই সব কিছু নিয়েই প্রতিবেদনটি লিখছেন আইইএম ল্যাবস-এর চিফ টেকনিক্যাল অফিসার হৃত্বিক লাল।
আপনার ডিভাইসে অ্যান্টিভাইরাস ফাংশন সবসময় অ্যাক্টিভ করে রাখুন, রাখুন আপডেটেডও। অ্যান্টিভাইরাস আপনার ইন্টারনেট সুরক্ষাকে জোরদার করে, ম্যালওয়্যার ডিটেক্ট এবং রিমুভও করতে পারে। এছাড়াও আপনার ডিভাইসের অপারেটিং সিস্টেম যে যে অ্যাপ্লিকেশন আপডেট করার সাজেশন দেবে, সেগুলো নিয়মিত আপডেটেড রাখুন। অপারেটিং সিস্টেম খুব ভাল ভাবে সুরক্ষা প্রদান করে থাকে।
ক্রোম, ব্রাউজ়ার থেকে যা ডাউনলোড করছেন, তা ম্যালওয়্যারযুক্ত নয় তো? সেই দিকটা কিন্তু অতি অবশ্যই আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে। যদি তা হয়, তাহলে আপনার ডিভাইসে ডাউনলোড হয়ে যাওয়া সেই ম্যালওয়্যার ফাইল থেকে খুব সহজেই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমনকি নিমেষে আপনার গোপন তথ্য পর্যন্ত চুরি হয়ে যেতে পারে।
আপনার ডিভাইস যদি কোনও ওয়াই-ফাই বা ভিপিএন-এর সঙ্গে কানেক্টেড থাকে, তাহলে সেই নেটওয়ার্ক অথেন্টিক কি না, একবার যাচাই করে নিন। কারণ, বেশ কিছু লোকাল বা প্রাইভেট নেটওয়ার্ক একটা নির্দিষ্ট এন্ডপয়েন্টের বাইরে গিয়ে আউটসাইট নেটওয়ার্ক মেশে। আর তখন আপনার ইন্টারনেটের সব তথ্য খুব সহজেই বিনিময় হতে পারে কিংবা ডিভাসে ‘ওয়ার্ম’ও ঢুকতে পারে।
ইন্টারনেটে বিভিন্ন সাইটে যেখানে আপনার অ্যাকাউন্ট রয়েছে, বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল, এমনকি ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিংয়ের জন্য জটিল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন। পাসওয়ার্ড বলতে যেগুলি প্রতারকের কাছে অনুমান করা সহজ, সেগুলি এড়িয়ে চলুন। যেমন, আপনার ফোন নম্বর। কখনও ফোন নম্বর পাসওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার করবেন না। চেষ্টা করুন, কিপ্যাডের বিভিন্ন ক্যারেক্টারের সংমিশ্রণে একটি জটিল, শক্তিশালী এবং ভিন্ন প্রোফাইলের বিভিন্ন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন। এর ফলে আদতে আপনার অনলাইন প্রোফাইলগুলি আরও সুরক্ষিত থাকবে।
যে কোনও অসাধু সাইট আপনার ডিভাইসের সমস্ত তথ্য জানতে চায় তাদের মার্কেটিং পলিসি বা বিজ্ঞাপন চালানোর জন্য। সে ক্ষেত্রে আপনাকে তৎপর হতে হবে, যাতে প্রতারকের খপ্পরে না পড়েন। আপনার ডিভাইসের সমস্ত প্রাইভেসি সেটিংস অন করে রাখতে হবে, যাতে যে কোনও সোর্স আপনার ল্যাপটপ বা মোবাইলের গোপন তথ্য অ্যাক্সেস করতে না পারে। সাধারণত সমস্ত ডিভাইসেই এমনতর সেটিংস থাকে।
জেনেশুনে যেমন আপনি বিপজ্জনক রাস্তায় পা বাড়াবেন না, তেমনই আবার না জেনেশুনে কখনওই কোনও সন্দেহজনক বা অজানা সাইটে সার্ফিং করবেন না। সাইবার জালিয়াতরা ঢের বোঝে যে, আম আদমি ঘুরেফিরে অফারের লোভে বা লোভনীয় বিজ্ঞাপন দ্বারা আকৃষ্ট হয়ে সেই সব সাইটে ঢুকে পড়েন। তাই টোপ আপনার জন্য তৈরিই থাকে, পাতা থাকে ফাঁদও, আর সেই ফাঁদে পা দিলে মুহূর্তে সব শেষ হয়ে যেতে পারে। আপনার ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিয়ে পারে প্রতারকরা, এমনকি আপনার ডিভাইসে ভাইরাস পর্যন্ত ঢুকিয়ে দিতে পারে তারা।
মনে রাখবেন, সুরক্ষিত ইন্টারনেট মানে সুরক্ষিত তথ্য আর সুরক্ষিত তথ্য মানেই সুরক্ষিত গোপনীয়তা। তাই সতর্ক থাকুন এবং সুরক্ষিতও থাকুন।



