গ্রামের পাতায়

মাতৃ সাধিকা আম্বৌলার ঝুমামা স্বপন দত্ত বাউলকে সম্মান দিলেন

কলকাতা:আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন শিল্পী , জাতীয় সম্মান প্রাপ্ত ,ও ভারতের প্রপ্তন রাষ্ট্রপতির প্রশংসিত শিল্পী খাজা আনোয়ার বেড় , পূর্ব বর্ধমানের স্বপন দত্ত বাউলের নিঃসার্থ বিনাপারিশ্রমিকে সমাজ সেবার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়া, সমাজের কুসংস্কার কুপ্রথা দুর করা, সমাজ সচেতন ও সমাজের মানুষের নানান সমস্যা সমাধান করা, দেশে বিদেশে শান্তি সম্প্রীতির বার্তা দিতে দেখে ঝুমা মা খুবই খুশী।এবং এই সব কাজ গুলি সম্পূর্ণ নিঃসার্থ বিনা পারিশ্রমিকে বাউলগানে ও তার বহুমুখী প্রতিভার মাধ্যমে করতে দেখে মুকদ্ধ হয়ে, সিদ্ধেশ্বরী কালি মায়ের চরণের দাসী মাতৃ সাধিকা শ্রদ্ধেয়া ঝুমা মা বাংলার বাউল ছেলে কে মায়ের আশির্বাদ দিয়ে, শুদ্ধ বস্ত্র ,উত্তরীয়, চাদর, মিষ্টান্ন ও সম্মান দক্ষিণা দিয়ে সম্মানিত করলেন । এবং প্রশংসা করে ভক্ত বৃন্দদের বললেন ঝুমা মা যে আমার এই বাউল ছেলে স্বপন দত্ত শুধু বাউল নয়গো, সে শিব জ্ঞানে জিব সেবার জন্য স্বামীজির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে স্বামীজি নামে সম্মান ও মহারাজ সম্মান পেয়েছে যেটা আমাদের কাছে বড় গর্বের।

শিবরাত্রি দিনে এমন সম্মান ও আশির্বাদ এবং মায়ের কাছে অন্ন সেবা করার সুযোগ পেয়ে স্বপন দত্ত বাউল মহারাজ বলেন আমার জীবন ধন্য। মা আপনি যেন আপনার আশির্বাদের হাত আমার মাথার উপর থেকে কখনো সরিয়ে নেবেন না এই শুধু কামনা করি । প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে হুগলী জেলার গোঘাট থানার আম্বৌলা গ্রামে জাগ্রত সিদ্ধেশ্বরী কালি মা ঝুমা মায়ের পুজো ও সাধনায় সন্তুষ্ট হয়ে দীর্ঘ বহুবছর ধরে পূজিত হয়ে আসছেন মহা সমারোহে। গ্রামবাসী সকলেই মাকে খুব ভক্তি করেন । সিদ্ধেশ্বরী কালি মায়ের পূজা করেন মায়ের চরণের দাসী মাতৃ সাধিকা ঝুমা মা । চারিদিক থেকে ভক্ত বৃন্দ যে যা মনের ইচ্ছা নিয়ে মায়ের কাছে আসে ঝুমা মা মাকে ডেকে সকল ভক্ত বৃন্দ দের নানা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন । বহু মানুষ উপকৃত ও তাদের সমস্যার সমাধান হয়েছে তার প্রমাণ ভক্ত বৃন্দ দের মুখ থেকেই জানা যায়।

ভক্ত বৃন্দরা উপকৃত হয়ে তারা ঝুমা মায়ের বাড়িতেই সুন্দর মন্দির ও মন্দিরের সামনে প্রবেশ পথে তোরণ সুন্দর গেট তৈরি করে দিয়েছে এবং শিব মন্দির তৈরি করে দিয়েছে। যা দেখে চোখ ফেরানো যায় না। ঝুমা মা ভক্ত বৃন্দদের সমস্যা সমাধান করে দেন নিঃসার্থ ভাবে । শুধু মাত্র পুজো ও হোম যজ্ঞ করতে যেসব উপকরণ লাগে সেগুলি ভক্ত বৃন্দদের কিনতে বলেন । ভক্ত বৃন্দরা মায়ের দরবারে মাথা ঠুকে কাজ পেয়ে তারা মায়ের মন্দির রক্ষণাবেক্ষণ ও পুজো পার্বণ উৎসব দরিদ্র নারায়ণ সেবা অন্ন কুট , যাত্রা পালা , ভক্তিমূলক অনুষ্ঠান প্রভৃতি আয়োজন করেন। প্রতি বছর মা ও বাবা মহাদেবের প্রতিষ্ঠা দিবসের তিন দিন ব্যাপী বার্ষিক অনুষ্ঠানে। প্রতি বছর মার্চ মাসে এক তারিখ থেকে তিন চার তারিখ পর্যন্ত এই অনুষ্ঠান মহা সমারোহে চলে ।

আম্বৌলা গ্রাম ছাড়াও অন্যান্য গ্রাম থেকে সকল ধর্মের মানুষ একসপ্তাহ ধরে এই মায়ের বাৎসরিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। এবং দুবেলা প্রতিদিন সকল ভক্ত বৃন্দ দের অন্নকুট সেবা করানো হয়।অনুষ্ঠান অন্ন কুটের ও পুজোর সকল খরচ ব্যায় ভার গ্রহন করে ভক্ত বৃন্দরা নিজেরা স্বইচ্ছায়, সিদ্ধেশ্বরী কালি মায়ের এমনই মহিমা কালিমা নিজেই তার অনুষ্ঠানের সব আয়োজন ভক্ত বৃন্দ দের দিয়ে করিয়ে নেন। ঝুমা মা কে কারো কাছে কিছু চাইতে হয় না ভাবলে অবাক লাগে যে ভক্ত বৃন্দরা মায়ের চরণে এসে উপকৃত হয়ে ভক্তরা মাকে গাড়ি উপহার দিয়েছে। এবং আগত ভক্ত বৃন্দদের থাকার জন্য মন্দির চত্বরেই গৃহ নির্মাণ করে দিয়েছে।মায়ের এখান , ওখান ভক্ত বৃন্দ দের ডাকে যেতে যাতে না কষ্ট হয় তারই জন্য মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে তারা সন্তানের কর্তব্য পালন করেন নিজের ইচ্ছাতেই। ঝুমা মা বাল্যকালে লেখা পড়া শেখার সময় থেকেই দেবী সিদ্ধেশ্বরী কালি মায়ের দয়া আশির্বাদ পেয়েছিলেন । মায়ের পূজা অর্চনা ও মাতৃ সাধনা করে শিশু কন্যা ঝুমা থেকে জগৎ মাঝারে আজ ঝুমা মা নামে লোক সমাজে পরিচিত। সিদ্ধেশ্বরী কালি মায়ের চরণের দাসী হয়ে মাকে ডেকে ভক্ত বৃন্দ দের নানা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে চলেছেন এবং অনেক ক্ষেত্রেই সফলতা অর্জন করেছেন তার স্বাক্ষর আম্বউলা গ্রামে বিশাল সুদৃশ্য মন্দির ও অসংখ্য ভক্ত বৃন্দ দের মুখে শুধু দিয়াসী ঝুমা মায়ের নাম । ছোটো বড় বৃদ্ধ বৃদ্ধা সকলেই ঝুমা মায়ের আশির্বাদ পাবার জন্য চরণে লুটিয়ে পড়ে মাকে শ্রদ্ধা জানান যা চোখে না দেখলে বিশ্বাস হবে না।

Related Articles

Back to top button