গ্রামের পাতায়

প্রত্যন্ত গ্রামে চিকিৎসা পৌঁছে দিতে ঝাড়গ্রামে চালু আধুনিক ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্য পরিষেবা

স্বাস্থ্য পরিষেবা এবার আর হাসপাতালে নয়, সরাসরি পৌঁছবে মানুষের দুয়ারে। বিশেষত পাহাড়ি ও অরণ্যঘেরা ঝাড়গ্রামের সেইসব গ্রামে—যেখানে স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও বহু মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসার নাগাল পান না। শুক্রবার ঝাড়গ্রাম জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক দফতরের প্রাঙ্গন থেকে উদ্বোধন হল অত্যাধুনিক ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা পরিষেবা যান। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে নতুন এই পরিষেবা পৌঁছাবে সেইসব লোধা-শবর ও অন্যান্য আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামে, যেখানে বহু মানুষ স্বাস্থ্য পরিষেবা নিতে অনীহা দেখান বা দূরত্বের কারণে চিকিৎসা করাতে আসতে পারেন না। জেলার চার বিধানসভায় চালু অত্যাধুনিক ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা পরিষেবা।

জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে নয়াগ্রাম, গোপীবল্লভপুর, ঝাড়গ্রাম এবং বিনপুর বিধানসভা এলাকার জন্য চারটি ভ্রাম্যমাণ গাড়ি বরাদ্দ হয়েছে। প্রতিটি বিধানসভায় প্রতি মাসে ছ’টি করে শিবির বসবে। অর্থাৎ, পুরো জেলায় মাসে মোট ২৪টি স্বাস্থ্য শিবির সংগঠিত হবে।

গাড়িপিছু থাকবেন একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স, ফার্মাসিস্ট এবং ল্যাব টেকনিশিয়ান। স্বাস্থ্যকর্মীরা শিবিরের আগে গ্রামে প্রচার চালাবেন, যাতে রোগীরা আগেই জানতে পারেন কোথায় এবং কখন চিকিৎসা মিলবে। চিকিৎসা থেকে পরীক্ষা—সব বিনামূল্যে একই গাড়িতে থাকবে রক্ত পরীক্ষা,যক্ষ্মা স্ক্রিনিং,ইসিজি,ইউএসজি,

দন্ত, ত্বক, ইএনটি ও সাধারণ রোগের চিকিৎসা সব পরিষেবাই দেওয়া হবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে, সঙ্গে বিনামূল্যে ওষুধও।জেলার পরিকাঠামো থাকলেও চাহিদা রয়ে গেছে বেশি। ঝাড়গ্রামে রয়েছে—১৮টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ৩০৪টি সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র।একাধিক গ্রামীণ হাসপাতাল ও ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ও সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল

তবুও জেলার কিছু দুর্গম অঞ্চলে চিকিৎসা পরিষেবা এখনও দুর্লভ—ফলে এই গাড়িগুলিকেই সেই শূন্যতা পূরণের পথে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ঝাড়গ্রামের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ভুবনচন্দ্র হাঁসদা বলেন— “স্বয়ংসম্পূর্ণ এই চিকিৎসা যান যতটা না প্রযুক্তির উন্নয়ন, তার থেকেও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছনোর প্রতিশ্রুতি। গ্রামবাসীদের আগেই জানানো হবে, যাতে কেউ চিকিৎসা ছাড়া না থাকে।” এই পরিষেবার ফলে প্রত্যন্ত গ্রাম বাংলার বহু মানুষজন উপকৃত হবেন। ঝাড়গ্রাম জেলা পরিষদের সভাধিপতি চিন্ময়ী মারান্ডী বলেন, “প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ, বিশেষত লোধা-শবর বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা চিকিৎসা নিতে আসতে পারেন না। তাঁদের দুয়ারেই এখন স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে যাবে। মুখ্যমন্ত্রী সকলের জন্য স্বাস্থ্যসুরক্ষার কথা ভেবেছেন।” সঙ্গে এদিন ঝাড়গ্রামের মহকুমা শাসক অনিন্দিতা রায় চৌধুরী বলেন, “আধুনিক ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্য পরিষেবা চালু হওয়ায় গ্রাম বাংলার বহু মানুষ উপকৃত হবেন। এটি কেবল একটি প্রকল্প নয়—মূলত একটি জীবনরক্ষাকারী উদ্যোগ।”

Related Articles

Back to top button