পুলিশ শুধু আইন রক্ষা নয়, মানুষের পাশে— বেলিয়াগুড়িতে পুলিশের ‘সহায় ক্যাম্পে’ সচেতনতা শিবির ও শীতবস্ত্র বিতরণে ভরসা পেল গ্রামবাসী

অরূপ ঘোষ, ঝাড়গ্রাম:
চিচিড়ার বেলিয়াগুড়ি গ্রামের সকালটা অন্য দিনের মতো ছিল না। গ্রামের সরু রাস্তা দিয়ে যখন পুলিশের গাড়ি ঢুকল, তখন আতঙ্ক নয়—উৎসুক ভিড় এগিয়ে এল দেখতে। পুলিশের উপস্থিতি মানেই ভয়—এই ধারণা ভেঙে এবার পুলিশ পৌঁছেছিল অন্য বার্তা নিয়ে। মানবিকতা, সুরক্ষা এবং আইনি সচেতনতার সেই মিশেলেই শনিবার আয়োজন করা হল ঝাড়গ্রাম জেলা পুলিশের উদ্যোগে এবং জামবনি থানার পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় ‘সহায় ক্যাম্প’। মঞ্চে একের পর এক সচেতনতা আলোচনায় উঠে আসে বাল্যবিবাহ রোধ, সাইবার প্রতারণা, ট্র্যাফিক আইন, নারীর নিরাপত্তা, সেভ ড্রাইভ সেভ লাইফ সহ বিভিন্ন আইনি বিষয়। পুলিশের বক্তব্য স্পষ্ট— “আইন কেবল দণ্ডের ভাষা নয়, সমাজকে সঠিক পথে চালানোর দিশা।”আইনি বার্তার মধ্যেই শুরু হয় শীতবস্ত্র বিতরণ। গ্রামের আড়াইশো পরিবারের হাতে কম্বল ও শীতবস্ত্র তুলে দেন উপস্থিত পুলিশকর্তারা। তাঁরা বলেন, কেবল আইন বোঝানোই নয়—মানুষের পাশে দাঁড়ানোও পুলিশের দায়িত্ব। শীতবস্ত্র হাতে পেয়ে খুশিতে লাফিয়ে ওঠে অনেক শিশু। তাঁদের হাঁসিতে যেন পুরো অনুষ্ঠানটা অন্য মাত্রা পেল।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঝাড়গ্রামের এসডিপিও শামীম বিশ্বাস, জামবনি থানার আই.সি অভিজিৎ বসু মল্লিক, চিচিড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অনিমেষ প্রামাণিক সহ জেলা পুলিশের অন্যান্য আধিকারিকরা। পুরো অনুষ্ঠানকে ঘিরে ছিল মেলা-মেলার পরিবেশ। কেউ মনোযোগ দিয়ে পুলিশি পরামর্শ শুনছেন, কেউ ফোনে নোট নিচ্ছেন, আবার অনেকে পুলিশের সঙ্গে সেলফি তুলতে ব্যস্ত। গ্রামবাসীদের মুখেই শোনা গেল সবচেয়ে বড় প্রতিক্রিয়া “এমন উদ্যোগ আরও হওয়া উচিত। পুলিশ শুধু আইন রক্ষা করে না—মানুষের পাশে দাঁড়ালে সম্পর্কও গড়ে ওঠে।”বেলিয়াগুড়ির এই ক্যাম্প শুধু শীতবস্ত্র বিতরণ নয়—পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দূরত্ব পেরিয়ে এক বিশ্বাসের সেতু তৈরি করল, যা ভবিষ্যতে গ্রামাঞ্চলের নিরাপত্তা–সংস্কৃতিতে নতুন নজির রাখতে পারে।


