আইএসএলের ইতিহাসে এটিকে মোহনবাগানের প্রথম হার গোয়ার কাছে, ভরাডুবি ফাতোর্দায়

নিজস্ব সংবাদদাতা : মান্ডবীর তীরে নৌকাডুবি। রবিবাসরীয় রাতে গোয়ার ফাতোর্দা স্টেডিয়ামে এফসি গোয়ার কাছে ০-৩ গোলে হারল এটিকে মোহনবাগান। আইএসএলের ইতিহাসে যা প্রথম। এর আগে সবুজ মেরুনকে হারাতে পারেনি গোয়া। তিনবার এটিকে মোহনবাগান জিতেছিল। একবার ম্যাচ ড্র হয়। কিন্তু রবিবার নিজেদের ডেরায় সেটা সুদে আসরে পুশিয়ে দিল গোয়া। প্রথম সাত মিনিটের নায়ক, নব্বই মিনিটের শেষে খলনায়ক। শুরুতেই তিনটে গোল বাঁচিয়ে এটিকে মোহনবাগানের পতন রুখেছিলেন বিশাল কেইত। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে তাঁর ভুলের মাসুল গুনতে হল। তবে যোগ্য দল হিসেবেই জিতেছে গোয়া। ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই সবুজ মেরুন রক্ষণে আক্রমণের ঢেউ আছড়ে পড়ে। প্রতিপক্ষকে অতিরিক্ত সমীহ করতে শুরু করে জুয়ান ফেরান্দোর দল। তার খেসারত দিতে হল। শুরুতে কোনওক্রমে দলের পতন রোধ করলেও শেষরক্ষা হল না। তবে বিশাল কেইত প্রথম সাত মিনিটে কয়েকটা ভাল সেভ না করলে লজ্জা আরও বাড়তে পারত। গতবছর এটিকে মোহনবাগানের দায়িত্ব নিয়েই নিজের প্রাক্তন দলের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচ জিতেছিলেন ফেরান্দো। কিন্তু এদিন আর তার পুনরাবৃত্তি ঘটল না। বরং প্রথম মরশুমেই কোচ হিসেবে নজর কাড়লেন কার্লোস পেনা। ৬ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের তিন নম্বরে উঠে এল এফসি গোয়া।
রবিবার রাতে শুরু থেকেই অলআউট ঝাঁপায় ভাসকুয়েজ, এডুরা। প্রথম সাত মিনিটের মধ্যে চারটে গোলের সুযোগ এফসি গোয়ার।পরপর নিশ্চিত গোল বাঁচান বিশাল কেইত। ঘরের মাঠে শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তুলেছিল গোয়া। কোনওক্রমে দুর্গ অক্ষত রাখে সবুজ মেরুন কিপার। ম্যাচের দু’মিনিটের মাথায় ভাসকুয়েজের শট বাঁচান বিশাল কেইত। তার তিন মিনিটের মধ্যে আবার গোয়ার স্ট্রাইকারের গোল বাঁচান এটিকে মোহনবাগানের গোলকিপার। তার এক মিনিটের মধ্যে আবার সেভ। এবার শরীর বাঁ দিকে ছুড়ে এডু বেদিয়ার শট ফিস্ট করেন বিশাল। সাত মিনিটের মাথায় ফের পরিত্রাতা বাগানের কিপার। এবার রোখেন এডু বেদিয়ার গড়ানো শট। ম্যাচের ২১ মিনিটে ভাসকুয়েজের গোল অফসাইডের জন্য বাতিল হয়ে যায়। শুরু থেকেই ব্যাকফুটে চলে যায় সবুজ মেরুন। আগাগোড়াই রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলতে দেখা গেল কাউকো, হুগোদের। যা একেবারেই মোহনবাগান সুলভ নয়। গোয়ার আক্রমণের ঝাপটায় ছন্নছাড়া হয়ে যায় ফেরান্দোর সাজানো বাগান।
ম্যাচে থিতু হতে সময় লাগে সবুজ মেরুন ফুটবলারদের। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্যভাবে। বিরতির পরও একই গতিতে শুরু করে গোয়া। ম্যাচের ৫০ মিনিটে আশিস রাইকে কাটিয়ে এফসি গোয়াকে এগিয়ে দেন আইবান ডোহলিং। সেখানেই খুলে যায় লকগেট। সেইভাবে কোনও পজিটিভ সুযোগ তৈরি করতে পারেনি লিস্টন, মনবীর, দিমিত্রিরা। গোটা ম্যাচেই আধিপত্য বেশি ছিল গোয়ার। ৭৬ মিনিটে কর্নার থেকে হেড করে ২-০ করেন ফারেস। দর্শক প্রীতম, শুভাশিসরা। ম্যাচের ৮২ মিনিটে গোয়ার হয়ে তৃতীয় গোল করেন নোয়া। বাগান কিপার বিশালের হাতে লেগে বল জালে জড়িয়ে যায়। মাত্র দু’মিনিট আগে মাঠে নেমেই নিজের নাম স্কোরশিটে তোলেন সুপারসাব। ফাউলের জন্য ৮৭ মিনিটে শুভাশিসের গোল বাতিল হয়ে যায়। তিন গোলের লজ্জা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় ফেরান্দোর দলকে।
এটিকে মোহনবাগান – ০
এফসি গোয়া – ৩ (আইবান, ফারেস, নোয়া)



