খেলাধুলা

দ্বিশতরানের সামনে থাকা গিলের জন্য ড্রেসিংরুম থেকে কী বার্তা এসেছিল?

নিজস্ব সংবাদদাতা: তেইশে দুরন্ত ছন্দে রয়েছে টিম ইন্ডিয়া। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ওডিআই সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে জেতার পর, মেন ইন ব্লু এখন ব্যস্ত নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজে। আপাতত নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১-০ ব্যবধানে সিরিজে এগিয়ে গেল ভারত। শুভমন গিলের চওড়া ব্যাটে প্রথম ওডিআই ম্যাচে এসেছে ডাবল সেঞ্চুরি। যার সামনে ফিকে হয়ে গিয়েছে মাইকেল ব্রেসওয়েলের শতরান। ১৪৯ বলে ২০৮ রান করা শুভমন গিল পেয়েছেন ম্যাচের সেরার পুরস্কার। ম্যাচের শেষ গিল জানান, তিনি ভাবেননি ডাবল সেঞ্চুরি করবেন। একটা সময় ড্রেসিংরুম থেকে তাঁর জন্য আসে বিশেষ বার্তাও।

ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে আগ্রাসনেও নিয়ন্ত্রণ করেন শুভমন গিল। তা না হলে হয়তো আগেই দ্বিশতরান হয়ে যেত গিলের। ম্যাচের শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে আক্রমণাত্মক গিল নিজের আগ্রাসন নিয়ে বলেন, “আমার মনে হয়েছিল অনেক আগে থেকেই আক্রমণ দেখিয়ে খেলা দরকার। কিন্তু যখন আমরা পর পর উইকেট হারাচ্ছিলাম, তখন আর সেটা হয়ে ওঠেনি। আক্রমণ দেখিয়ে খেললে বোলার ডট বল করতে অতটা সাহস পাবে না। তবে পর পর উইকেট হারালেও আমি ঠিক করেছিলাম লক্ষ্য বুঝিয়ে দিয়ে খেলব। যাতে বোলার বুঝতে পারে খারাপ বল পেলেই তা আমি বাউন্ডারিতে পাঠাব।”

শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে তৃতীয় ওডিআই ম্যাচে ১১৬ রান করেন গিল। ডাবল সেঞ্চুরি থেকে অনেকটাই দূরে ছিলেন। তবে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিনি সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে পরিণত করতে পেরেছেন। তিনি এই নিয়ে বলেন, “শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রথম ও তৃতীয় ওডিআইতে বড় রানের আশা করেছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেটা হয়নি। আমি এখানে সেট হয়ে যাওয়ার পর একটাই জিনিস ভাবছিলাম। দলের জন্য যত বেশি সম্ভব পারি রান করব। ভীষণ ভালো লাগছে। ক্রিকেটে ধারাবাহিকতাই সব। আমি সেটাই ধরে রাখার চেষ্টা করি। ব্যাটার হিসেবে ধারাবাহিকতা বজায় রাখাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে এটা হতে থাকলে ভীষণ ভালো লাগে।”

তিনি আরও বলেন, “পরপর উইকেট হারানোর পর আমি ড্রেসিংরুম থেকে বার্তা পেয়েছিলাম, আমি যেন শেষ অবধি ব্যাট করে যাই। যে কারণে, আমি খানিকটা সতর্ক হয়ে খেলেছিলাম। কারণ, একজন সেট হওয়া ব্যাটসম্যানের উইকেট হারালে আমাদের শেষের দিকের ব্যাটসম্যানদের অসুবিধে হবে, সেটা আমরা জানতাম।”

৪৬-৪৭তম ওভারে গিয়ে গিলের মনে হয়েছিল ডাবল সেঞ্চুরিটা লেখা হয়ে যেতে পারে তাঁর ব্যাটে। এ বিষয়ে গিল বলেন, “প্রথমে আমি ঠিক করেছিলাম শেষ ৫ ওভারে বড় শট নেওয়ার চেষ্টা করব। কিন্তু যখন ওয়াশি (ওয়াশিংটন সুন্দর) ৪৪তম ওভারে আউট হয়ে গেল, তখন আমার কাছে বার্তা আসে, আমি যেন শেষ ৩ ওভারে বড় শট নিই। কিন্তু আমি মনে করি, ৪৬ বা ৪৭তম ওভারে আমি কয়েকটা ছয় মেরেছিলাম, কারণ আমার তখন মনে হয়েছিল এটাই বড় শট নেওয়ার সঠিক সময়। কারণ, বোলারকে পড়তে পেরেছিলাম।”

সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে ওডিআই ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড এখন গিলের নামের পাশে। যে কারণে, সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর জন্য শুভেচ্ছাবার্তার ঢল বইছে। ভারতের বর্তমান থেকে শুরু করে প্রাক্তন ক্রিকেটাররাও সেই তালিকায় রয়েছেন। ভারতের প্রাক্তন তারকা অলরাউন্ডার যুবরাজ সিং গিলের জন্য টুইট করেন। যুবরাজ সিংয়ের টুইটের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে গিল বলেন, “খুব ভালো লাগছে আমার। যুবি পাজি আমার মেন্টর, বড় ভাই। ওনার সঙ্গে লকডাউনে এবং তার পরও অনেক কাজ করেছি। ব্যাটিংয়ে কীভাবে উন্নতি করতে পারি, সে বিষয়ে ওনার সঙ্গে কথা হয় আমার। আমার ক্রিকেট খেলার শুরু থেকেই আমার বাবা আমার প্রথম কোচ। তাই আমার মনে হয়, যুবি পাজি ও আমার বাবাকে খুশি করতে পারাটা আমার কাছে বিশেষ গর্বের।”

এই ম্যাচে ভারতীয় অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়ার আউট নিয়ে তীব্র বিতর্ক দেখা দিয়েছে। যা নিয়ে গিলকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “নন স্ট্রাইকার এন্ড থেকে আমার মনে হয়নি বলটা স্টাম্পে লেগেছিল। যখন আমি রিপ্লে দেখেছিলাম, তখন কিছু ব্লাইন্ড স্পট দেখা যায়। এই স্টাম্পগুলো অন্যরকমের। আর তা ছাড়া দিনের শেষে তৃতীয় আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই সব। তাই তাঁর সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানোই শ্রেয়।”

Related Articles

Back to top button