কোন ভারতীয় ক্রিকেটারকে ‘ভয়’ পেত পাকিস্তান? সেই গল্প !

নিজস্ব সংবাদদাতা: ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই তরতরিয়ে উত্তেজনার পারদ ছড়িয়ে পড়া। ভারতে যতটা মাতামাতি থাকে এই ম্যাচ নিয়ে ঠিক ততটাই উত্তেজনা থাকে ওয়াঘার ওপারেও। অতীতে যতবারই এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মুখোমুখি হয়েছে, রুদ্ধশ্বাস ম্যাচের সাক্ষী হয়েছে ক্রিকেট প্রেমীরা। ভারত-পাক ম্যাচে দুই দলের ক্রিকেটারদের ওপরও থাকত আলাদা দায়িত্ব। যুযুধান দুই দল যখনই সম্মুখ সমরে থাকত, হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখার অপেক্ষায় থাকত ক্রিকেট বিশ্ব। ভারত-পাক ম্যাচ নিয়ে রয়েছে বহু গল্প। আবার অনেক গল্প এখনও রয়েছে অজানা। তেমনই এক অজানা গল্প শোনা গেল পাকিস্তানের প্রাক্তন তারকা ক্রিকেটার বসিত আলির মুখে।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের ঠিক আগে ড্রেসিংরুমে কী আলোচনা হয়? তা জানতে আগ্রহী আপামর ক্রিকেট প্রেমী। তেমনই এক ড্রেসিংরুমের অজানা গল্প তুলে ধরেছেন পাক তারকা ক্রিকেটার বসিত আলি। ২২ গজের মধ্যে একাধিক ক্রিকেটার প্রতিপক্ষ দলের ক্রিকেটারদের স্লেজিং করে থাকেন। ভারত-পাক ম্যাচেও তেমনটা দেখা গিয়েছে বহুবার। এই স্লেজিং করার জন্য অনেক পরিকল্পনাও করে থাকেন অনেকে। পাকিস্তানের ড্রেসিংরুমেও স্লেজিং নিয়ে আলোচনা হত। কিন্তু সেই তালিকা থেকে সব সময় বাদ রাখা হল ভারতের অধিনায়ক মহম্মদ আজহারউদ্দিনকে। কিন্তু কেন। স্মৃতির ঝাঁপি উজাড় করে বসিত তুলে ধরেছেন যার কারণ।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে মহম্মদ আজহারউদ্দিনের সঙ্গে আড্ডায় বসিত আলি বলেন, “ভারতের সঙ্গে ম্যাচের আগে আমাকে ভারতীয় প্লেয়ারদের স্লেজিং করার দায়িত্ব দেওয়া হত। আমাকে সচিন (তেন্ডুলকর), জাডেজা (অজয়), সিধু (নভজ্যোৎ), কাম্বলি (বিনোদ)-দের স্লেজিং করতে বলা হত। কিন্তু যখনই আজহার ভাইয়ের নাম আসত, পুরো দলের সকলেই বলে উঠত আমি যেন আজহার ভাইকে স্লেজ না করি। আমরা আজহার ভাইকে যতটা সম্মান করতাম, তা বর্ণনা করার মতো শব্দ আমার কাছে নেই।”
একইসঙ্গে বসিত আরও বলেন, “ওয়াসিম (আক্রম) ভাই, সেলিম মালিক, রশিদ লতিফ, ইনজমাম উল হক এবং ওয়াকার ইউনুস যেই হোক না কেন, কেউ আজহার ভাইকে স্লেজ করার সাহস পেত না। আমি মনে করি না পাকিস্তানের কোনো ক্রিকেটার আজহার ভাইকে অপমান করেছে।”পাক তারকা বসিতের কথা থেকেই পরিষ্কার মাঠের মধ্যে যাই হোক না কেন, ভারত অধিনায়ক আজহারউদ্দিনের প্রতি পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের একটা আলাদা শ্রদ্ধা ছিল। যে কারণে, ২২ গজে দুই দল ধুন্ধুমার যুদ্ধ করলেও, পাক ড্রেসিংরুম থেকে আলাদা শ্রদ্ধা পেতেন আজহার।



