রাজ্য

চাকরি দেওয়ার নামে ৫ কোটির বেশি আত্মসাতের অভিযোগ, অবশেষে গ্রেফতার কাঁথির শিক্ষক

কাঁথি:  নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে গতবছর থেকেই সরগরম রাজ্যের রাজ্য রাজনীতি। কারাবন্দি রয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী সহ আরও একাধিক তাবড় তাবড় ব্যক্তিত্ব জোরকদমে তদন্ত চালাচ্ছে ইডি-সিবিআই (ED-CBI)। এরইমধ্যে এবার একাধিক চাকরি দেওয়ার নাম করে কয়েকজনের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ অভিযোগে গ্রেফতার পূর্ব মেদিনীপুর (Purba Medinipur) জেলার কাঁথির এক শিক্ষক। শনিবার সন্ধ্যায় কাঁথি থানার পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করে। পুলিশ জানিয়েছে অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম দীপক জানা। তাঁর বিরুদ্ধে বিগত কয়েকদিন ধরেই নানা অভিযোগ আসছিল পুলিশের কাছে। যদিও এর আগে সমস্ত অভিযোগই ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছিলেন তিনি।

তাঁর বাড়ি ভূপতিনগর থানার মূলদা গ্রামে। যদিও দীর্ঘদিন ধরে কাঁথি শহরে ১৭ নং ওয়ার্ড়ে করকুলি এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন তিনি। অভিযুক্তকে রবিবার কাঁথি আদালতে পেশ করবে পুলিশ। গ্রেফতার দীপকের জানার বিরুদ্ধে একটি চাকরি নয় একাধিক চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রায় ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ অভিযোগ উঠেছে। এমন অভিযোগ পেয়ে নড়ে চড়ে বসেছে কাঁথি থানার তদন্তকারী থেকে জেলা পুলিশের আধিকারিকেরা। ঘটনার সূত্রপাত, গ্রেফতার দীপক জানা কাঁথি দেশপ্রাণ ব্লকের বিচুনিয়া জগন্নাথ মন্দির বিদ্যাপীঠে ইংরেজির শিক্ষক। এদিকে আবার তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য ছিলেন মুলদা অঞ্চলের দীপকের দাদা।

দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কাঁথির কুরকুলিতে শ্বশুরবাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে থাকতেন দীপক। ২০১৭ সাল থেকে শুধু পূর্ব মেদিনীপুর নয়, বিভিন্ন জেলা থেকে চাকরি দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলে দীপক, অভিযোগ এমনটাই। পেশায় শিক্ষক হলেও দীপক এলাকায় রীতিমতো প্রভাবশালী বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। কয়েকদিন আগে কলকাতা হাইকোর্টের ৫ কোটি টাকার একটি চাকরির দুর্নীতির অভিযোগে মামলার দায়ের করেন আইনজীবী তথা কংগ্রেস নেতা কৌস্তভ বাগচী। ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর রীতিমত চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে কাঁথি শহরে। নাম আসে দীপকের।

এই খবরটিও পড়ুন

পরিবারের পরিচিতের হাতেই ‘গণধর্ষিতা’ মা-মেয়ে! আদালতের নির্দেশে গ্রেফতার অভিযুক্ত

 

তারপরেই প্রতারিত চাকরিপ্রার্থীরা টাকা ফেরতের দাবিতে শিক্ষক দীপক জানার বাড়িতে চড়াও হয়। এরপর মার্চ মাসে শেষ সপ্তাহে ও এপ্রিল মাসে প্রথম সপ্তাহে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বেলদা বাসিন্দা অঞ্জলি গুচ্ছাইত ও কাঁথি কিশোরনগরের বাসিন্দা চিরঞ্জিত দাস কাঁথি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁদের অভিযোগ, ফুড সাপ্লাই দফতরে চাকরি দেওয়ার নাম করে তাঁদের কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। এদিকে আবারও কাঁথি শহরের ২১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা গণেশ বানিয়া হাইস্কুলে চাকরি দেওয়ার নাম করে দফায় দফায় ৫ লক্ষ টাকা নিয়েছে। এমন অভিযোগ পেয়ে নড়েচড়ে বসে কাঁথি থানার পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যায় গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ শ্বশুরবাড়ি থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক দীপক জানাকে গ্রেফতার করে।

কাঁথি থানার এক পুলিশ আধিকারীক বলেন ” এখনও পর্যন্ত ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুই মেদিনীপুরে  তিনটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগে পাওয়ার পরেই তদন্তে নেমে শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

Related Articles

Back to top button