গ্রামের পাতায়

শিক্ষাঙ্গনে ফের লজ্জার অধ্যায়! ক্যানিংয়ে ছাত্রীকে অশ্লীল মেসেজ পাঠানোর অভিযোগ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে !

নুরসেলিম লস্কর , ক্যানিং:
রাজ্যের শিক্ষাঙ্গনে একের পর এক ন্যক্কারজনক ঘটনা যেন থামছেই না। কসবার ল-কলেজে ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ থেকে শুরু করে জোকা ম্যানেজমেন্ট কলেজে ছাত্রীকে ফাঁদে ফেলে যৌন হেনস্তা, সোনারপুর কলেজে নবাগত ছাত্রীকে মাথা টিপিয়ে দেওয়া ‘দাদার কীর্তি’ কিংবা সুন্দরবন মহাবিদ্যালয়ের ভিতরে বিয়ের আসর বসার বিতর্ক আর তার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং থেকে সামনে এল আরও এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ।

ঘটনাটি ঘটেছে ক্যানিংয়ের রায়বাঘিনী এলাকার ডি’পল স্কুলে। অভিযোগ, ওই স্কুলের অধ্যক্ষ লক্ষ্মণ লিমা দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর মোবাইলে দীর্ঘদিন ধরে পাঠিয়ে আসছিলেন অশ্লীল মেসেজ ও আপত্তিকর ছবি। শুধু তাই নয়, পরীক্ষায় নম্বর কম দেওয়ার ও ফেল করিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ছাত্রীটিকে চুপ করিয়ে রাখার চেষ্টাও করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শেষমেশ ছাত্রীটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতেই সাহস করে পরিবারকে সব জানায়। তারপরেই ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি জানানো হয় ক্যানিং থানায়। শনিবার সকালে পুলিশ অভিযুক্ত অধ্যক্ষ লক্ষ্মণ লিমাকে স্কুল থেকে আটক করে থানায় নিয়ে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করে।অভিযুক্ত অধ্যক্ষ অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তবে ছাত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে অভিযোগের পেছনে কোনও মিথ্যা বা চক্রান্ত রয়েছে কি না, নাকি এটি সত্যিই গুরুতর অপরাধমূলক আচরণ। আরএদিনের এই অভিযোগ সম্পর্কে ওই ছাত্রীর পিতা বলেন,’ আমার কন্যাকে এই স্কুলের প্রিন্সিপাল গত এক বছর ধরে এই অশ্লীল মেসেজ এবং ছবি রোজ পাঠিয়ে আসছেন, যেহেতু আমার মেয়ের বোর্ডের পরীক্ষা ছিল তাই আমরা এতদিন ধৈর্য ধরে সব কিছু মুখ বুঝে সহ্য করে আসছিলাম কিন্তু আমরা ইতিমধ্যেই স্কুল থেকে সমস্ত সার্টিফিকেট রেজাল্ট পেয়ে গিয়েছি তাই এখন আমরা সমস্ত ঘটনা সামনে আনলাম।’ আর অভিযোগ সম্পর্কে ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক পরেশ রামদাস জানিয়েছেন, ‘ আজকে ক্যানিং রায়বাগিনীর ডিপল স্কুলের একটি ঘটনা সামনে এসেছে! যেখানে এক ছাত্রীর অভিযোগ তাকে ওই স্কুলের প্রিন্সিপাল নিয়মিত অশ্লীল মেসেজ ও ছবি পাঠিয়ে আসছিলেন! এই অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং আমি বিধায়ক হিসেবে নয় ক্যানিংয়ের একজন সাধারণ বাসিন্দা হিসেবে যদি ওই ছাত্রীর অভিযোগ সত্য হয় তাহলে ঐ প্রিন্সিপালের কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তির আবেদন জানাচ্ছি এবং আমরাও চেষ্টা করবো যাতে ওনার কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি উনি পান তার সেই ব্যবস্থা করব এবং প্রয়োজনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেও আমি এই বিষয়টি জানাবো। ‘

আর এই ঘটনার জেরে স্কুল ও তার আশপাশ সংলগ্ন এলাকায় তৈরি হয়েছে প্রবল উত্তেজনা। অভিভাবক ও সাধারণ মানুষজনের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।আর রাজ্যের শিক্ষাঙ্গন গুলিতে একের পর এক এরকম লজ্জাজনক ঘটনা ঘটারপরে যখন রাজ্য রাজনীতি সরগরম ঠিক সেই মুহূর্তে ক্যানিং ডি’পল স্কুল কাণ্ড, যা ফের একবার প্রমাণ করে দিচ্ছে, রাজ্যের বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখন শুধু শিক্ষা নয়, অনৈতিকতা, অব্যবস্থা ও বিকৃত মানসিকতার আখড়ায় পরিণত হচ্ছে। আর এই অনৈতিকতা, অব্যবস্থা ও বিকৃত মানসিকতার আখড়ায় থেকে শিক্ষাঙ্গন কে মুক্ত করতে সমাজের বুদ্ধিজীবী মহলের মতে,’এই ধরনের ঘটনা থামাতে হলে শুধু তদন্ত বা গ্রেফতার যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন কড়া নজরদারি ও নৈতিক শিক্ষার প্রসার। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে ক্যামেরা, সাইকোলজিক্যাল কাউন্সেলিং, অভিযোগ জানানোর জন্য নিরপেক্ষ পরিকাঠামো— এসব নিশ্চিত করতে না পারলে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ আরও সঙ্কটের মুখে পড়বে বলে মনে করছেন তাঁরা!’

Related Articles

Back to top button