গ্রামের পাতায়

অবহেলা নয়, আইনের সুরক্ষা—নয়াগ্রামের খাসজঙ্গলে বিচারকদের উদ্যোগে বড়সড় আইনি শিবির

অরূপ ঘোষ, ঝাড়গ্রাম:গ্রামের নিভৃত পরিসরে আজও বহু প্রবীণ বাবা–মা নীরবে সহ্য করে চলেন অবহেলা, দুর্ব্যবহার কিংবা ঘরোয়া হিংসার দংশন। অনেকেই জানেন না—এই অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসার আইনসম্মত পথ তাঁদের হাতের নাগালেই রয়েছে। সেই অজানাকে জানাতে, আইনের দরজা গ্রামবাসীর সামনে খুলে দিতে, নয়াগ্রাম ব্লকের খাসজঙ্গল গ্রামে আয়োজিত হল একটি উদাহরণযোগ্য আইনি সচেতনতা শিবির।সোমবার অনুষ্ঠিত এই শিবিরের আয়োজন করে ঝাড়গ্রামের কলমাপুকুরিয়া ফ্রেন্ডস স্পোর্টিং ক্লাব, আর পুরো ব্যবস্থাপনায় ছিল জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ। বিচারকরা স্বয়ং উপস্থিত হয়ে সামনাসামনি গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বললেন, তুলে ধরলেন—একজন সাধারণ মানুষ ঠিক কোন পরিস্থিতিতে কোন আইনি সহায়তা পেতে পারেন এবং কীভাবে তার আবেদন করতে হয়।
শিবিরে জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সচিব ও বিচারক রিহা ত্রিবেদী বাল্যবিবাহ রোধ, সাইবার অপরাধ, প্রবীণ নাগরিকদের অধিকার ও পিতা-মাতার রক্ষণাবেক্ষণ আইন নিয়ে স্পষ্ট ও সহজ ভাষায় গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলি ব্যাখ্যা করেন।

ঝাড়গ্রাম পারিবারিক আদালতের বিচারক দেবপ্রিয় বসু ঘরোয়া হিংসা, নারীদের অধিকার এবং পারিবারিক বিবাদ মেটাতে পাওয়া যায় এমন বিভিন্ন আইনি সুরক্ষা নিয়ে বাস্তবসম্মত আলোচনা করেন।শিবিরে উপস্থিত ছিলেন জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের অফিস মাস্টার সুব্রত বারিক, নয়াগ্রাম থানার এসআই মামিনুর মিয়া, অধিকার মিত্র রীতা দাস দত্ত, আলেক সিং এবং অন্যান্য কর্মীরা। প্রায় ২৫০ জন গ্রামবাসী, ছাত্রছাত্রী ও প্রবীণ মানুষ মন দিয়ে শোনেন বিচারকদের কথা।
জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ সুমন সাহু বলেন, “এই ধরনের সচেতনতা কার্যক্রম সাধারণ মানুষের বাস্তব উপকারে লাগে। গ্রামে গ্রামে আইনকে পৌঁছে দেওয়া সময়ের দাবি।”ক্লাবের সভাপতি স্বরূপ ঘোষ জানান, “আমরা চাই প্রতিটি গ্রামের মানুষ বুঝে নিন তাঁদের অধিকারের জায়গাটা কোথায়। সেই লক্ষ্যেই আগামী দিনে আরও শিবির করার পরিকল্পনা রয়েছে।”আইনের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাওয়ায় খাসজঙ্গলের মতো প্রত্যন্ত গ্রামেও মানুষের মুখে এখন একটাই কথা—“আইনকে জানলে অন্যায়কে থামানো যায়।”

Related Articles

Back to top button