*শিশু অধিকার সপ্তাহের শেষ দিনে রঙিন উৎসব,র্যাম্পে হাঁটল অঙ্গনওয়াড়ির খুদে মডেলরা,উদ্বোধন শিশুবান্ধব কর্নার*

অরূপ ঘোষ, ঝাড়গ্রাম:
র্যাম্পে পা ফেলছে সবে হাঁটতে শেখা খুদে শিল্পীরা। কারও মাথায় ফুলের টায়ারা, কারও হাতে ছোট্ট প্রপ। ঝাড়গ্রামের জেলা শাসকের সামনে দিয়ে নেচে–হেঁটে যখন তারা এগোচ্ছে, মুহূর্তেই মুগ্ধ হলেন সবাই। বৃহস্পতিবার এমনই রঙিন আবহে শেষ হল ঝাড়গ্রামের শিশু অধিকার সপ্তাহ। নারী ও শিশু বিকাশ দফতরের উদ্যোগে আয়োজিত এদিনের অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল ফ্যাশন র্যাম্পে অঙ্গনওয়াড়ির শিশুদের অংশগ্রহণ। বয়স তিন থেকে চার বছরের খুদেদের এই উপস্থাপনায় জেলা শাসক আকাঙ্খা ভাস্কর থেকে শুরু করে দর্শকমহল—সকলেই হাততালি দিয়ে উৎসাহ দেন।
দিনের শুরুতেই অফিসার্স ক্লাব থেকে প্রায় দেড়শো স্কুল পড়ুয়ার একটি বর্ণাঢ্য পদযাত্রা ঝাড়গ্রাম শহর পরিক্রমা করে জেলা শাসকের কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। এরপর অডিটরিয়ামে আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিকাশ ভারতী, নিবেদিত কর্ম মন্দির হোমের কচিকাঁচারা নাচ–গান পরিবেশন করে মন জয় করে নেয়।এদিনই জেলা শাসকের দফতরের দোতলায় উদ্বোধন করা হয় একটি ‘চাইল্ড ফ্রেন্ডলি কর্নার’। রঙিন দেওয়াল, খেলনার ঝুলি আর পরামর্শদানের আলাদা ব্যবস্থা—সব মিলিয়ে বিশেষভাবে তৈরি এই কক্ষটি হয়ে উঠেছে শিশুদের মানসিক সুরক্ষার কেন্দ্র। এখান থেকে উদ্ধার হওয়া শিশুদের কাউন্সেলিং, পরিবারদের আইনগত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় দফতরে যোগাযোগের পথনির্দেশ দেওয়া হবে। এদিনের কর্মসূচিতে ঝাড়গ্রামের জেলাশাসক আকাঙ্ক্ষা ভাস্কর ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঝাড়গ্রামের মহকুমা শাসক অনিন্দিতা রায় চৌধুরী, ঝাড়গ্রাম জেলা পরিষদের সভাধিপতি চিন্ময়ী মারান্ডী সহ প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরা।
ঝাড়গ্রাম জেলার ডিসিপিও রাজা দাস জানান, “সপ্তাহের শেষ দিনে পদযাত্রা থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান—সবকিছুই শিশুদের ঘিরে সাজানো হয়েছিল। নতুন চাইল্ড ফ্রেন্ডলি কর্নার থেকে নানা রকম সহায়তা মিলবে।”জেলা শাসক আকাঙ্খা ভাস্কর বলেন, “শিশুদের প্রতিভা দেখে আমি আনন্দিত। কর্মরত বাবা–মায়ের শিশুদের জন্য ঝাড়গ্রামে একটি আধুনিক ও নিরাপদ ক্রেজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে শিশুরা সাংস্কৃতিক ও মানসিকভাবে সমৃদ্ধ পরিবেশে থাকতে পারবে।”



