বাসন্তীতে চাপা আগুন! জমি-দুর্নীতি, সিন্ডিকেট রাজ ও নির্বাচনী উত্তেজনার মাঝে নীরব জনতা—নীলিমা বনাম বিকাশে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাসন্তী:
ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম স্পর্শকাতর কেন্দ্র বাসন্তী বিধানসভা। তবে চোখে পড়ার মতো বিষয়—এই উত্তেজনার মাঝেও সাধারণ মানুষের মুখে নীরবতা। অভিযোগের পাহাড়, ক্ষোভের আগুন, অথচ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ নেই—এ যেন এক অদ্ভুত নীরব বিস্ফোরণের পূর্বাভাস।
এলাকার একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ, জোর করে সাধারণ মানুষের জমি থেকে মাটি পাচার করা হচ্ছে। পাশাপাশি নির্বাচন আচরণবিধি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও প্রকাশ্যে জুয়ার আসর বসছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। আরও গুরুতর অভিযোগ—প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার নাম করে মাথাপিছু টাকা তোলার চাপ, যা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে গ্রামাঞ্চলে।
এখানেই শেষ নয়। বাড়ি তৈরির জন্য জমি কিনলেও ‘সিন্ডিকেট’ ছাড়া উপায় নেই—এমন অভিযোগও সামনে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, নির্মাণ সামগ্রী কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর কাছ থেকেই। অন্যদিকে মিথ্যা কাগজপত্র তৈরি করে জমি দখলের ঘটনাও নাকি বেড়েই চলেছে।
যদিও এই সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বক্তব্য, রাজ্যের উন্নয়ন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যুব সাথীর মতো প্রকল্পই মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। তাদের দাবি, উন্নয়নের জোয়ারেই বাসন্তীতে জয় নিশ্চিত।
এই টানটান পরিস্থিতির মাঝেই মূল লড়াই জমে উঠেছে নীলিমা বিশাল মিস্ত্রি বনাম বিকাশ সরদারের মধ্যে। দুই প্রার্থীই জোরকদমে প্রচারে নেমেছেন। গ্রামেগঞ্জে বাড়ছে মাইকিং, মিছিল, দেওয়াল লিখন—সব মিলিয়ে নির্বাচনী আবহ চরমে।
তবে রাজনৈতিক উত্তাপ যতই বাড়ুক, সাধারণ মানুষের মধ্যে রয়েছে এক অদ্ভুত নিরবতা। অনেকেই বলছেন, ২০১১ সালের নির্বাচনের আগের মতোই এবারও মানুষ চুপচাপ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ভেতরে ভেতরে জমছে ক্ষোভ না কি তৈরি হচ্ছে পরিবর্তনের স্রোত—তা স্পষ্ট নয় এখনও।
ভোট পরবর্তী হিংসার অতীতও ভীত করছে বাসন্তীর মানুষকে। একাধিক পুরনো ঘটনার স্মৃতি এখনও টাটকা। ফলে ভোটের ফলাফল কী হবে, তার চেয়ে বড় প্রশ্ন—ভোটের পরে পরিস্থিতি কতটা শান্ত থাকবে।
এদিকে আত্মবিশ্বাসী বিকাশ সরদার। তার দাবি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মানুষ এবার রায় দেবে পরিবর্তনের পক্ষে। অন্যদিকে নীলিমা বিশাল মিস্ত্রিও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী, উন্নয়নের ধারাবাহিকতাই তাকে এগিয়ে রাখবে বলে মত তার।
সব মিলিয়ে বাসন্তী আজ এক অদ্ভুত দ্বিধার মোড়ে দাঁড়িয়ে। বাইরে উত্তেজনা, ভিতরে নীরবতা—এই সমীকরণের উত্তর মিলবে আগামী ৪ঠা মে, যখন ইভিএম খুলে জানিয়ে দেবে জনতার চূড়ান্ত রায়।



