আজ দশই অক্টোবর
ক্ষমতা এবং বিস্মরণের বিরুদ্ধে চলা যুদ্ধে সবচেয়ে বড় হাতিয়ারের নাম- স্মৃতি। ভুলিয়ে দেওয়ার প্রতিটি চেষ্টাকে পরাজিত করে আমরা মনে রাখব ইতিহাস। মনে রাখব শহীদদের স্মৃতি। এই মনে রাখাই আমাদের প্রতিরোধ।
মনে রাখব ১৯৪৬ সালের ১০ই অক্টোবর। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিনে নোয়াখালির জ্যোৎস্নাধৌত গ্রামগুলোয় হিন্দু বাঙালীরা যখন ব্যস্ত লক্ষ্মীর আলপনা দিতে আর পাঁচালি পড়তে, গোলাম সরওয়ারের নির্দেশে সাহাপুর বাজারের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মিঞার ফৌজ আর কাশেমের ফৌজ। বাঙালীর রক্তের নেশায় সেদিন সেই মিছিলে যোগ দিয়েছিল নোয়াখালির সমস্ত শ্রেণীর আরবরা। শেষ বিকেলের আবছা আলোয় নোয়াখালি বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট রাজেন্দ্রলাল রায়চৌধুরীর বাড়ি তিনদিক থেকে ঘিরে ধরেছিল আরব নেকড়েরা। পুরো একটা দিন ছাদ থেকে নেকড়েদের ঠেকিয়ে রেখেছিলেন বঙ্গশার্দূল রাজেন্দ্রলাল। তারা ফিরে গেলে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে দিয়েছিলেন ভারত সেবাশ্রম সংঘের স্বামী ত্রম্বকানন্দকে। যদিও শেষ রক্ষা হয়নি। আরবদের হাতে শহীদ রাজেন্দ্রলালের মাথা কেটে থালায় করে নিয়ে গিয়ে উপহার দেওয়া হয়েছিল ইসলামী দানব গোলাম সরওয়ারের কাছে, তাঁর দুই মেয়েকে তুলে দেওয়া হয়েছিল ঘাতক বাহিনীর কমাণ্ডারদের হাতে। মনে রাখব, আরব সাম্রাজ্যবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াই করে শহীদ হওয়া রাজেন্দ্রলালকে সুচেতা কৃপালনী একদিন শিবাজী-গোবিন্দসিংহের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। মনে রাখব, নোয়াখালি-কুমিল্লা(টিপেরা) জুড়ে আরবরা পিটিয়ে, কুপিয়ে, পুড়িয়ে সরকারি হিসেবে পাঁচ হাজার আর বেসরকারি হিসেবে অন্তত ত্রিশ হাজার বাঙালী হিন্দুকে একতরফা নির্বিচারে খুন করেছিল, আরবদের হাতে শত শত বাঙালী হিন্দু নারী ধর্ষিতা হয়েছিলেন, মুসলিম লীগ প্রশাসনের সহযোগিতায় দিনের পর দিন খেতে না দিয়ে গ্রামের পর গ্রাম অবরুদ্ধ করে রেখে ধর্মান্তরে বাধ্য করা হয়েছিল হাজার হাজার মানুষকে। আমরা মনে রাখব, বাঙালীর ধর্মের জন্য জান দেওয়া মানুষগুলোকে। আজ দশই অক্টোবর, নোয়াখালি হিন্দু গণহত্যার সূচনা দিবস।
মনে রাখব সন্দ্বীপের মত লোকালয় থেকে বহুদূরবর্তী প্রান্তিক দ্বীপ এলাকায় কীভাবে মুসলিম লীগ প্রশাসনের উদ্যোগে হিন্দুদের গ্রাম জ্বালানোর জন্য পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল পেট্রোল। মনে রাখব চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের বিপ্লবী লালমোহন সেন দেশের জন্য ষোলো বছর জেল খেটে সন্দ্বীপে ভিটেবাড়িতে ফেরার পর ইসলামী জল্লাদদের হাত থেকে বাঙালী হিন্দুদের বাঁচাতে গিয়ে নৃশংসভাবে খুন হয়েছিলেন। মনে রাখব, নোয়াখালি গণহত্যার খবর প্রকাশ্যে এলে আরবদের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছিল গোটা ভারতের মানুষ। হাজার হাজার বিপ্লবী জনতার ভিড় ঘিরে ফেলেছিল তামাম ভাগলপুর, ঘিরে ফেলেছিল দু মাস আগে সুরাবর্দির লীগ সরকারের আমন্ত্রণে, তাদের খরচে কলকাতায় এসে শত শত বাঙালীকে খুন করে, তাদের সর্বস্ব লুট করে কোটিপতি হয়ে বিহারে ফিরে যাওয়া লীগের ক্যাডারদের বাড়ি। আমরা মনে রাখব, ভাগলপুরের সংগ্রামী মানুষের উপর প্লেন থেকে বোমা ফেলার হুমকি দিয়ে জনরোষ থেকে লীগের নরঘাতকদের রক্ষা করেছিলেন ভারত ভাঙার কারিগর সেকুলার জওহরলাল নেহরু।.
যে ইতিহাস কে ভূলে সে বিলুপ্ত হয়ে যায়
তাই নিজে পড়ুন আর অবশ্যই নতুন প্রজন্মের দের কে ইতিহাস জানান যাতে করে তারা সেই আলো তে সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ গড়তে পারে



