নন্দীগ্রামের শহীদ স্মরণে শুভেন্দু অধিকারী
প্রদীপ কুমার মাইতি:নন্দীগ্রামের ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধে তৎকালীন বামফ্রন্ট স্বৈরাচারী সরকারের জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে প্রান হারিয়েছিল নন্দীগ্রামের বহু মানুষ।
আজ প্রায় ১৩ বছর কেটে গেলেও নন্দীগ্রামের মানুষ সেই সময় তাঁদের পাশে থাকা জননেতা শুভেন্দু অধিকারীকে আজও ভুলে যায়নি,যিনি ছিলেন নন্দীগ্রীমের ভূমি আন্দোলনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক। ১০ই নভেম্বর মঙ্গলবার নন্দীগ্রামের তেখালী শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে রক্তাক্ত সূর্যদয়ের ১৩ তম বর্ষ পূর্তিতে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে সভা করলেন শুভেন্দু অধিকারী।
ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির ব্যবস্থাপনায় শুভেন্দু অধিকারী এদিন নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলনে সামিল হওয়া শহীদদের স্মরণ করে শহীদ বেদিতে মালা দেন । নন্দীগ্রামের স্মরণ সভায় উপস্থিতি মানুষের ঢল ছিল চোখে পড়ার মতো। শুভেন্দু অধিকারী বলেন ২০০৩ সালের লোক আমি নন্দীগ্রামের নতুন লোক নই চেনা বামুনের পৈতা লাগে না। আমি সেদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নন্দীগ্রামে এসেছিলাম। এই আন্দোলন সম্মিলিত স্বতস্ফূর্ত মানুষের আন্দোলন।
তিনি নিজের সম্বন্ধে বলেন আমি রাজনৈতিক প্লাটফর্ম থেকে রাজনৈতিক বক্তব্য রাখব, আমার চলার পথ কোথায় স্বাচ্ছন্দ্য, কোথায় গর্তে ভরা, কোথায় হোঁচট খাচ্ছি, কোন রাস্তা দিয়ে হাঁটলে স্বাভাবিক ভাবে সহজে হাঁটতে পারব তা রাজনৈতিক প্লাটফর্মে বলব, নন্দীগ্রামের পবিত্র শহীদ মঞ্চ থেকে কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য রাখব না, পবিত্র মঞ্চে রাজনীতি করিনা, ভবিষ্যতেও করব না, বলে মন্তব্য করেন নন্দীগ্রামের ভূমি আন্দোলনের কারিগরী শুভেন্দু অধিকারী।
নাম না করে তৃণমূলকে এক প্রকার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন লড়াইয়ের মাঠে ,রাজনীতির মঞ্চে দেখা হবে ,এ লড়াইতে মানুষ জিতবে , গণতন্ত্র জিতবে শুভেন্দু অধিকারী ভয় পায় না,, এতদিন নন্দীগ্রামকে মনে পড়েনি, ভোট এলেই নন্দীগ্রামের মাটির কথা মনে পড়ে যায়, নাম না করে ঘুরপথে তৃণমূলকে কটাক্ষ করলেন শুভেন্দু।
প্রসঙ্গতঃ এদিন, ১০ নভেম্বর নন্দীগ্রামের হাজরাকাটাতে সভা হয়েছিল তৃণমূল,এদিন রাজ্য তৃণমূলের নির্দেশক্রমে হাজরাকাটাতে মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের নেতৃত্বে ২০০৭ নন্দীগ্রামের স্মৃতি উস্কে সভার আয়োজন করা হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নাম না করে কার্যত ফিরহাদ হাকিম সহ তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে তেখালির সভা থেকে কার্যত তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন শুভেন্দু অধিকারী।
আবু তাহেরের নেতৃত্বে তেখালিতে সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ রেজাউল করিম শহীদ হয়েছিল হাজরাকাটাতে,এবং করপল্লীতে শ্যামলী মান্নাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল তাঁদের সহ একাধিক বলিদান দেওয়া নন্দীগ্রামের শ্রদ্ধা জানানো হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন নন্দীগ্রামের ভূমি উচ্ছেদ কমিটির কান্ডারি শুভেন্দু অধিকারী।


