গ্রামের পাতায়

স্বাস্থ্যসাথীতে লম্বা লাইন, সাহায্যে সক্রিয় পঞ্চায়েত প্রধান!

 

নিজস্ব সংবাদদাতা ঃ পূর্ব মেদিনীপুর ঃ জেলা জুড়ে চলছে রাজ্য সরকারের ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচি। বিভিন্ন এলাকায় সেই শিবিরগুলিতে পরিদর্শনে যাচ্ছেন স্থানীয় প্রশাসনের আধিকারিকেরা। জেলাশাসকের নির্দেশ রয়েছে শিবিরে যাতে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে না হয় আমজনতাকে। সেই মোতাবেক এ দিন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুর-২ ব্লকের আড়গোয়াল গ্রাম পঞ্চায়েতের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নিজের হাতে স্বাস্থ্যসাথীর আবেদন পূরণ করে দিলেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধানের এই মানবিক পদক্ষেপে অবাক লম্বা লাইনে দাঁড়ানো গ্রামের মানুষেরা।

ছবিটি সন্ত্রাসকবলিত এলাকা বলে পরিচিতি পটাশপুরের আড়গোয়ালের। বৃহস্পতিবার আড়গোয়াল গ্রাম পঞ্চায়েতের ‘দুয়ারে সরকার’ শিবির বসেছিল স্থানীয় পঞ্চায়েত কার্যালয়ে। সেই শিবির পর্যবেক্ষণ করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান অপরেশ সাঁতরা। শিবিরে স্বাস্থ্যসাথীর টেবিলে মানুষের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে স্থানীয় পঞ্চায়েতের ভারপ্রাপ্ত প্রধানের। লাইনে দাঁড়িয়ে বৃদ্ধ- বৃদ্ধা থেকে শিশু কোলে মহিলাও। ধীর গতিতে এগোচ্ছিল লাইন। একবার আবেদন তোলা, তারপর নথিপত্র সহ সেই আবেদনপত্র পূরণ করে জমা দেওয়া। হঠাৎ ভারপ্রাপ্ত প্রধান অপরেশ সাঁতরা নিজেই কলম হাতে বসে পড়েন টেবিলে।

লাইনে দাঁড়ানো মানুষের আবেদনপত্র পূরণ করতে শুরু করেন। লাইনের শেষের দিকে মাস ছ’য়েকের শিশু কোলে নিয়ে দাঁড়ানো জয়শ্রী জানাকে ডেকে পূরণ করে দেন তাঁর আবেদনপত্র। ষাটোর্ধ মালেক আলি লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে অস্থির হয়ে পড়েছিলেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান তাঁর আবেদনপত্র পূরণ করে তাঁকে স্বাক্ষর করিয়ে জমা দিতে বলেন। কোলে শিশু নিয়ে সিঞারী গ্রামের বাসিন্দা জয়শ্রী জানা ও শাশ্বতমাল মক্তব গ্রামের শেখ মালেক আলি ভারপ্রাপ্ত প্রধানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “যা বড় লাইন পড়েছিল, উনি না থাকলে আমাদের বোধহয় সাস্থ্যসাথীর কার্ডই হত না।

শিবিরে ভারপ্রাপ্ত প্রধানের এই কাজে প্রথমে হকচকিয়ে যান বিভিন্ন দফতরের কর্মীরা। পরে তাঁরাও হাতের কাজে গতি বাড়ান। লম্বা লাইন এগোতে থাকে দ্রুত। ভারপ্রাপ্ত প্রধান অপরেশ সাঁতরা বলেন, ” লম্বা লাইন পড়ে গিয়েছিল। বয়স্কদের ও মহিলাদের যাতে হয়রানি না হয়, সে জন্য নিজেই আবেদনপত্র পূরণ করে দিয়েছি। আমরা চাই দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে বিরক্ত হয়ে কেউ শিবির থেকে ঘুরে না যান।” কিন্তু এ দিন শিবিরে গিয়ে দেখা গিয়েছে, উপভোক্তাদের ভীড় উপচে পড়েছে। লাইনে বহুক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে উপভোক্তাদের। আর সকলেই গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে রয়েছেন শিবিরে।

শুধু পটাশপুর নয়, বৃহস্পতিবার এগরা, কাঁথি, তমলুক, হলদিয়াতে ‘দুয়ারে সরকার’ শিবিরগুলিতে অব্যবস্থা দেখা গিয়েছে। এগরা-২ ব্লকের সর্বোদয় গ্রাম পঞ্চায়েতের ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচিতে এ দিন কয়েকশো মানুষ দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। দুপুর গড়িয়ে বিকেল পর্যন্ত শিবিরের রেজিস্ট্রেশন কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ লাইন ছিল। স্থানীয় এলাকার মানুষদের অভিযোগ, শিবিরে যে পরিমাণে গাদাগাদি করে ভিড় হচ্ছে, তাতে করোনা স্বাস্থ্যবিধি শিকেই।

Related Articles

Back to top button