বার্ধক্যভাতাতে লম্বা লাইন, সাহায্যে সক্রিয় বিডিও
প্রদীপ কুমার মাইতি ঃ পূর্ব মেদিনীপুর ঃ পটাশপুরঃ জেলা জুড়ে চলছে রাজ্য সরকারের ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচি। বিভিন্ন এলাকায় সেই শিবিরগুলিতে পরিদর্শনে যাচ্ছেন স্থানীয় প্রশাসনের আধিকারিকেরা।
জেলাশাসকের নির্দেশ রয়েছে শিবিরে যাতে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে না হয় আমজনতাকে। সেই মোতাবেক এ দিন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুর-২ ব্লকের বিডিও স্বয়ং নিজেই মাটিতে বসে নিজের হাতে বছর সত্তরের এক অসহায় বৃদ্ধার বার্ধক্যভাতার আবেদন পূরণ করে দিলেন।
কিন্তু বিডিও’র এই মানবিক পদক্ষেপে অবাক লম্বা লাইনে দাঁড়ানো গ্রামের মানুষেরা। ছবিটি সন্ত্রাসকবলিত এলাকা বলে পরিচিতি পটাশপুর-২ ব্লকের চকভবানি হাইস্কুল প্রাঙ্গণে। শুক্রবার সাউথখণ্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের ‘দুয়ারে সরকার’ শিবির বসেছিল চকভবানি হাইস্কুলের প্রাঙ্গণে। সেই শিবির পর্যবেক্ষণ করেছিলেন পটাশপুর-২ ব্লকের বিডিও শঙ্কু বিশ্বাস। শিবিরে স্বাস্থ্যসাথী ও বার্ধক্যভাতার টেবিলে মানুষের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে বিডিও শঙ্কু বিশ্বাসের লাইনে দাঁড়িয়ে বৃদ্ধ- বৃদ্ধা থেকে শিশু কোলে মহিলাও। ধীর গতিতে এগোচ্ছিল লাইন। একবার আবেদন তোলা, তারপর নথিপত্র সহ সেই আবেদনপত্র পূরণ করে জমা দেওয়া। হঠাৎ বিডিও শঙ্কু বিশ্বাস নিজেই কলম হাতে বসে পড়েন মাটিতে। অসহায় বয়স্ক- বয়স্কাদের দেখে তাঁর কষ্ট হয়।তিনি তাঁদের ডেকে মাটিতে বসে লাইনে দাঁড়ানো মানুষের আবেদনপত্র পূরণ করতে শুরু করেন। লাইনের শেষের দিকে দাঁড়ানো বছর পঁচাত্তরের লক্ষীপ্রিয়া ঘোড়াইকে ডেকে মাটিতে বসেই পূরণ করে দেন তাঁর আবেদনপত্র। সেইসঙ্গে বিডিও নিজেই তাঁর আবেদনপত্র পূরণ করে তাঁকে স্বাক্ষর করিয়ে জমা দিয়ে দেন।
চকমথুরি গ্রামের বাসিন্দা লক্ষীপ্রিয়া ঘোড়াই বিডিও’র প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “যা বড় লাইন পড়েছিল, উনি না থাকলে আমাদের বোধহয় বার্ধক্যভাতার আবেদন পূরণ করে জমা আর দিতে পারতাম না। পঞ্চায়েতে বহুবার গিয়েও বার্ধক্যভাতা মেলেনি।” আজ বিডিওকে ‘বাবা’ বলে সম্বোধন করে লক্ষীপ্রিয়া দেবী বলেন, ‘বাবা’ (বিডিও) এসেছে বলেই আমি এসেছি। ‘বাবা’ (বিডিও) আমার সমস্যার সমাধান করলেন।” শিবিরে বিডিও’র এই কাজে প্রথমে হকচকিয়ে যান বিভিন্ন দফতরের কর্মীরা। পরে তাঁরাও হাতের কাজে গতি বাড়ান। লম্বা লাইন এগোতে থাকে দ্রুত। বিডিও শঙ্কু বিশ্বাস বলেন, ” লম্বা লাইন পড়ে গিয়েছিল। বয়স্কদের ও মহিলাদের যাতে হয়রানি না হয়, সে জন্য নিজেই আবেদনপত্র পূরণ করে দিয়েছি। আমরা চাই দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে বিরক্ত হয়ে কেউ শিবির থেকে ঘুরে না যান।” তবে বিডিও’র এই মানবিক ভূমিকা খুবই প্রশংসনীয় বলে দাবি সাউথখণ্ড গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান বিজনবন্ধু বাগের। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলার বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ মৃণালকান্তি দাস, পটাশপুর-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি চন্দনকুমার সাউ, ব্লকের কৃষি আধিকারিক সৌরভ মাইতি প্রমুখ।
কিন্তু এ দিন শিবিরে গিয়ে দেখা গিয়েছে, উপভোক্তাদের ভীড় উপচে পড়েছে। লাইনে বহুক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে উপভোক্তাদের। আর সকলেই গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে রয়েছেন শিবিরে। শুধু পটাশপুর নয়, শুক্রবার এগরা, কাঁথি, তমলুক, হলদিয়াতে ‘দুয়ারে সরকার’ শিবিরগুলিতে অব্যবস্থা দেখা গিয়েছে। এগরা-১ ব্লকের জুমকি গ্রাম পঞ্চায়েতের ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচিতে এ দিন কয়েকশো মানুষ দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। দুপুর গড়িয়ে বিকেল পর্যন্ত শিবিরের রেজিস্ট্রেশন কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ লাইন ছিল। স্থানীয় এলাকার মানুষদের অভিযোগ, শিবিরে যে পরিমাণে গাদাগাদি করে ভিড় হচ্ছে, তাতে করোনা স্বাস্থ্যবিধি শিকেই।



