জেলা

লাগাতার বোমাবাজি, পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ!

লাগাতার বোমাবাজি, পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ! নিজস্ব সংবাদদাতা ঃ পূর্ব মেদিনীপুর ঃ পটাশপুরঃ রাজনীতির পারদ যত চড়ছে, ততই অশান্ত হচ্ছে পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রায় রোজই চলছে বোমাবাজি। নির্বাচনের আগে এলাকায় দুষ্কৃতীদের বোমা মজুতের ঘটনায় চিন্তায় পুলিশ-প্রশাসনও।

নিরাপত্তার স্বার্থে মজুত বোমা উদ্ধারে পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলির কাছেও হিংসা সরিয়ে মানবিক হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সীমানা লাগোয়া কেলেঘাই নদী বরাবর পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর।

নদী পথে দুই জেলার মানুষের অবাধ যাতায়াত। ব্যবসা ও বাণিজ্যের কাজে দুই জেলার পটাশপুর ও সবং থানার মানুষ পরস্পরের উপর নির্ভরশীল। কেলেঘাই নদী লাগোয়া দীর্ঘ এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্বে পটাশপুর থানার। যা নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট নয়। স্থানীয় সূত্রের খবর, একাধিক বার অতিরিক্ত পুলিশ ফাঁড়ির জন্য আবেদন জানানো হয়েছে জেলা প্রশাসনের কাছে। এখনও তাতে সাড়া মেলেনি। অভিযোগ, নিরাপত্তার ফাঁক গলে দুই জেলার দুষ্কৃতীরাই হাত মিলিয়ে গণ্ডগোল পাকাচ্ছে।

রাজনৈতিক দলগুলিও নিজেদের স্বার্থে এই নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করে না। পটাশপুরে দুটি ব্লক মিলিয়ে ষোলটি গ্রাম পঞ্চায়েত। পটাশপুর-২ ব্লকের দুটি গ্রাম পঞ্চায়েত ভগবানপুর বিধানসভা এলাকায়। অভিযোগ, ভগবানপুর বিধানসভার অন্তর্গত পটাশপুরের মথুরা ও আড়গোয়াল এলাকায় দুষ্কৃতীদের আনাগোনা সবচেয়ে বেশি। পটাশপুরে এখনও পর্যন্ত কোন সরকারি অনুমোদন প্রাপ্ত বাজি কারখানা নেই। তবে বেআইনি বাজি তৈরির ব্যবসা চলে অনায়াসে। অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা বাইর থেকে বোমার মশলা আমদানি করে বোমা তৈরি করে মজুত রাখে।অনেক সময় ভূপতিনগর, ভগবানপুর, খেজুরি, নন্দীগ্রাম থেকে বোমা ঢুকে পটাশপুরে।

পশ্চিম মেদিনীপুর থেকেও ভোটের সময় বোমা তৈরির জন্য দুষ্কৃতীদের নিয়ে আসা হয় বলে অভিযোগ। কয়েকমাস আগে চকগোপালে তৃণমূল-বিজেপির সংঘর্ষে বোমাবাজির ঘটনায় পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে বোমা তৈরির জন্য ভাড়াটে লোক আনা হয়েছিল বলে খবর। সে সময় বোমা তৈরির মশলা ও সরঞ্জাম সহ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করেছিল পুলিশ। আবার ভূপতিনগর থানার অর্জুননগরেও তৃণমূল-বিজেপির সংঘর্ষে বোমাবাজির ঘটনায় বসিরহাট থেকে ভাড়াটে লোক আনা হয়েছিল বলে বিজেপির দাবি। তাতে তৃণমূল আশ্রিত বসিরহাটের দুই দুষ্কৃতীকেও গ্রামবাসীও হাতেনাতে ধরে ফেলে। কার্যত তাঁরা (দুষ্কৃতীরা) গ্রামবাসীদের জেরার মুখে ঘটনার কথা স্বীকারও করে নেয়। এরপরে পুলিশ দু’জনকে গ্রেফতারও করে। ফের গত কয়েক সপ্তাহ ও চলতি সপ্তাহ জুড়ে বোমাবাজি ঘটনায় শিরোনামে পটাশপুর। গত বুধবার রাতে পটাশপুর-২ ব্লকের সাউথখণ্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের গোপালপুর গ্রামের এক বিজেপি কর্মীর বাড়িতে ব্যাপক বোমাবাজি ও জিনিসপত্র আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, বিজেপি করার অপরাধে তৃণমূল আশ্রিত জনাকয়েক দুষ্কৃতী ওই বিজেপি কর্মীর বাড়িতে চড়াও হয়ে তাঁর বাড়িতে হামলা চালায় এবং তাঁর মেয়েকে অশ্লীল ভাষায় কটুক্তির পাশাপাশি ধর্ষণের হুমকিও দেয় দুষ্কৃতীরা। তবে সবেতেই পুলিশ নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছে আকছার।

প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক পটাশপুর থানার ওসি চন্দ্রকান্ত শাসমলকে বদলি করা হয়েছে। তাঁর জায়গায় স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন দীপক চক্রবর্তী। কিন্তু ওসি বদল ও পরপর বেশ কয়েকটি বোমাবাজির ঘটনায় এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বাসিন্দারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, পটাশপুর থানার ওসি চন্দ্রকান্ত শাসমল ছিল ভালোই ছিল। তাঁর কাছে পুরো পটাশপুর থানা এলাকা হাতের তালুর মতো চেনা ছিল। তাঁর আমলে আইনশৃঙ্খলাও মোটামুটি ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু নতুন ওসি আসার পর থেকে পটাশপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক নেই। শীতের মরসুমে রাত হলেই পুলিশ যেখানে-সেখানে গাড়ি ঘিরে শুধু তোলা আদায়ে ব্যস্ত। তবে বোমা উদ্ধারে পুলিশের সদিচ্ছা নিয়েও উঠছে একাধিক প্রশ্ন। সাম্প্রতিক, বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী এক জনসভায় বলেন, “হাটবারের মতো জেলায় শুধু ‘ওসি’ বদল করছে। কিন্তু তাতেও কোন লাভ হচ্ছে না। রাজনৈতিক সন্ত্রাস ক্রমশ বেড়েই চলেছে। বিজেপি নেতা-কর্মীরা সেই সন্ত্রাসের স্বীকার হচ্ছেন। তাই তোলাবাজ ‘ভাইপোর’ পুলিশকে বলছি শুধরে যান, না হলে আমরা শুধরে দেবো।” পটাশপুরের বিধায়ক জ্যোতির্ময় কর বলেন, “দুষ্কৃতীদের কঠোর হাতে মোকাবিলা করার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছি।

রাজনীতির উর্ধ্বে মানুষের নিরাপত্তা। উত্তেজনাপূর্ন এলাকায় পুলিশের টহলদারির ব্যবস্থা হচ্ছে।” অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী সোমনাথ দাস অধিকারী বলেন, “এলাকার নিরাপত্তার জন্য পুলিশ-প্রশাসনকে দুষ্কৃতীদের কঠোর হাতে দমন করতে হবে। বোমা দ্রুত উদ্ধার করতে হবে।রাজনৈতিক দলগুলির আরও মানবিক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।” এ প্রসঙ্গে এগরা মহকুমা পুলিশ আধিকারিক মহম্মদ বৈদুজামান আহমেদ বলেন, “গোপনে সন্ত্রাস কবলিত এলাকায় নজরদারি চালানো হচ্ছে। কিছু জায়গায় তল্লাশির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দুষ্কৃতীরা রেহাই পাবে না।”

Related Articles

Back to top button