যত কান্ড নন্দীগ্রামে
যত কান্ড নন্দীগ্রামে
——————————-
ডেস্ক,:গণতন্ত্রের মহারণে আমরা হলাম বোরের চাল, শুধু চালটা চেলে বাজিমাত করে দেন রাজনীতিকরা। এরকমটাই মনে হল কা গতকাল দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে। এদিনে ৩০ টি বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচন হলেও একমাত্র নন্দীগ্রামের দিকেই সবার নজর ছিল।ফলে নির্বিঘ্নে নির্বাচনের বজ্র আঁটুনি কোথায় কতটা ফোস্কা গেঁড়ো হয়ে দাঁড়াল এখন তার হিসাব করতেই প্রাণ ওষ্ঠাগত হচ্ছে।সারাদিনের আপডেট পেতে নাজেহাল হচ্ছি।কারণটা হল প্রায় সবাই এমনকি ৩০টি বিধানসভার একমাত্র নন্দীগ্রামকে বাদ দিয়ে বাকি ২৯ টির খবর কেউ রাখেইনি প্রায়।পরিস্থিতি এমন দিনের শেষে প্রতিনিধিরাও আমতা আমতা করছে সঠিক চিত্রের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে।অবশ্যই এই দফায় সবার নজর নন্দীগ্রামে ছিল যেখানে এই কেন্দ্রের ৩৫৫ টি বুথে একমাত্র বয়াল ২ এর সাত নম্বরে রীতিমতো নাকানি চোপানি খেতে হল দেশের নির্বাচন কমিশনের নিরাপত্তা রক্ষীদের।কথায় আছে যে মেঘ গর্জায় সে বর্ষায় না।কথাটির সত্যতা আজ প্রতি পলে পরিলক্ষিত হল।কারা যেন বলেছিল এবারের নির্বাচনে দিদির পুলিশ থাকবে না বুথে বুথে থাকবে দাদার পুলিশ আর দিদির পুলিশদের নাকি ৫০০ গজের বাইরে লেপ্টরাইট করতে নির্দেশ দেওয়া হবে।শুধু তাই নয় বাতেলার আরো এক কদম এগিয়ে বলা হয়েছিল,একটু বেগুরবাই করলেই দাদার পুলিশের পেদানি খেয়ে হয় হাসপাতালে নাহয় শ্মশানে যেতে হবে।কিন্তু কোথায় কি?অন্তত আজকের ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর আদৌ কোন অস্হিত্ব ছিল বলে তো মনেই হল না।
প্রশ্ন হল গতকাল রাত থেকে বিজেপির দুস্কৃতিকারীরা যে নন্দীগ্রামের কালিচরণপুর,বয়াল,সাতেঙ্গাবাড়ি ইত্যাদি এলাকায় দাপিয়ে বেড়িয়েছে এই খবর কোলকাতায় বসে আমরা বারবার পেলেও দেশের নির্বাচন কমিশন জানতেন না!শুধু বাইকবাহিনীর দাপাদাপিই নয় বিভিন্ন জায়গায় তৃণমুলের বুথ এজেন্টকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানো থেকে রাতভোর বোমাবাজি করেছে যাতে আতঙ্কে মানুষ ভোট দিতে না যান।বয়াল২ র ১৩ নং বুথে তৃণমুলের এজেন্ট দেবব্রত জানাকে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে শাসানো হয়েছে।একই সঙ্গে গোটা গ্রামকেও সন্ত্রস্ত করা হয়েছে।পরিস্থিতি কতটা ভয়ংকর হলে একজন এজেন্টের মা কে কেঁদে কেটে সংবাদ মাধ্যমের সামনে বলতে হয়’আমার ছেলেকে ওরা খুন করবে বলেছে যদি সে বুথে এজেন্ট হয়”।আর এই ঘটনার পুরোটাই হয়েছে কেন্দ্রীয় সেনা জোয়ানদের সামনেই।
যারা দাদার পুলিশ হয়ে এরাজ্যে দাদার গদ্দারদের জেতাতে এসেছে।ফলে খুব স্বাভাবিক ভাবেই মানুষের গণরোষের পরিত্রাণ দিতেই স্বয়ং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা নন্দীগ্রামের তৃণমুলের প্রার্থী মমতা ব্যানার্জীকে ঘটনা স্হলে ছুটে যেতে হয়।আর এই খান থেকেই শুরু হল এক নতুন অধ্যায়।হাজার খানেক মানুষের সেই বিশাল জনস্রোতকে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যখন বয়ালের নির্দিষ্ট বুথে পৌছালেন তখন দুপক্ষের মধ্যে প্রবল উত্তেজনা,তুমুল বচশা যা যে কোন সময় মারাত্মক সংঘর্ষের রূপ নিতে পারতো।তখন দু পক্ষের মাঝে একমাত্র রক্ষাকর্তা দিদির পুলিশ।এতটুকু ধৈর্ষ্য না হারিয়ে অসীম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে দুপক্ষকে নিবৃত্ত করলেন।আর এখানেই প্রমাণ হয়ে গেল দিদিকে শত বেইজ্জতি করলেও তার রাজ্যের পুলিশই শেষ পর্যন্ত দেশের নির্বাচন কমিশনের মুখ রক্ষা করেছে।
যদিও এদিনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে বারবার বিজেপির হয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে।যাদের নিস্ক্রিয়তা ও ওসকানির দরুন বেশ কিছু বুথে বিজেপি জাল ছাপ্পা ভোট করতে পেরেছে।তবুও বলবো রাজ্যের রাজনৈতিক সচেতন মানুষের অশেষ কৃপায় বাকি ২৯ টি জায়গায় ভোট সুষ্টভাবে মিটেছে।এরকমই খবর দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপ,সাগর,গোসাবা সহ বাকি আন্যান্য জায়গায়।যেখানে যত কান্ড নন্দীগ্রামে দেখতে গিয়ে একসময় আমরা ভুলেই গেছিলাম যে আমাদের রাজ্যের বাকি অংশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের সুষ্টভাবে ভোটদানের ছবিটাও দেখানোর প্রয়োজন আছে।কিন্তু সেটা হচ্ছে কোথায়?যেখানে বলতে দ্বিধা নেই মানুষকে দাবার ঘুঁটি বানানোর রাজনৈতিক চালটা এবারেও ভালভাবেই সম্পূর্ণ হল।প্রমাণ হল আমরা শুধুই বোরের চাল।



