মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীরূপে পুনরায়
Jমমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীরূপে পুনরায়
মৃত্যুঞ্জয় সরদার:
পশ্চিমবাংলায় রাজনৈতিক নেতারা যতই বলুক না কেন হওয়া পাল্টে যাচ্ছে সবকিছু যেন একটা গুজব।বাংলার জন্য বিজেপি এমন কি কাজ করেছে, যে তারা এই মুহূর্তে সরকারি চলে আসবে।তবে একথা স্বীকার করতে হবে তৃণমূলের পায়ের তলার মাটি কিছুটা সরে ছে। সবকিছু ঘটনা ঘটেছে নিচুতলার কর্মীদের জন্য বা নিচুতলার নেতা আমলাতন্ত্র দের জন্য। সত্য কথা বললে সাধারণ মানুষেরতো হয়রানি হতে হয়, অথচ গ্রাম বাংলার সাংবাদিকরা সত্য খবর তুলে ধরার চেষ্টা করলে, তার পরিবারকে ও শেষ করে দেয়ায় উদাহরণ বাংলায় একাধিক ঘটনা ঘটে রয়েছে।গ্রাম বাংলার প্রতিটি মানুষের সমস্যার সমাধান করলে একদিন আবার পুনরায় বাংলার মুখ্যমন্ত্রী রূপে দেখা যাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কথাগুলো আমি বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লিখেছিলাম যে আগামী দিনে পুনরায় মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 2021 এর নির্বাচনের ফলাফল তেমনই ইঙ্গিত স্পষ্ট গণনা থেকে প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।একুশের এই নির্বাচন বিজেপির জন্য প্রেস্টিজ ফাইট। আর তৃণমূলের জন্য একপ্রকার গড় ধরে রাখার লড়াই। গেরুয়া শিবির বাংলা দখলের লক্ষ্যে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়েছে। তবে, সকালের প্রাথমিক এই ট্রেন্ড যদি বজায় থাকে তাতে গড় রক্ষার লড়াইয়ে সাফল্য পেতে চলেছে তৃণমূলই। সকালের প্রাথমিক ট্রেন্ডে অবশ্য মমতা নিজে পিছিয়ে আছেন। যা রাজ্যের তৃণমূলকর্মীদের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে, তৃণমূলনেত্রী এখনও আশাবাদী, নন্দীগ্রামে শেষ হাসি হাসবেন তিনিই। বাংলার মসনদে বাংলার মসনদে পুনরায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা দুপুর গড়াতেই গড়াতেই বাংলার সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।রাজ্যের ফলাফলের ট্রেন্ডে খুশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলাফলের প্রাথমিক ট্রেন্ড দেখেই দলের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করার বার্তা দিয়েছেন মমতা (Mamata Banerjee)। তৃণমূল সূত্রের খবর, কর্মীদের উদ্দেশে তৃণমূলনেত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যে তৃণমূল দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েই ক্ষমতায় ফিরবে।রবিবার সকাল ৮টা থেকে রাজ্যের ২৯২ আসনের ভোটগণনা শুরু হয়েছে। প্রাথমিক ট্রেন্ডে রাজ্যের দুই তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী রাজ্যের শাসকদল। বিজেপি একশোর কম আসনে এগিয়ে। সেখানে তৃণমূল ২১৫টির বেশি আসনে । স্বাভাবিকভাবেই ফলাফলের ট্রেন্ডে এগিয়ে খুশি তৃণমূল (TMC) সুপ্রিমো। সাতসকালেই কালীঘাটে দলের ওয়ার-রুম থেকে মমতা দলের কর্মীদের বার্তা দিয়েছেন, তৃণমূল-কংগ্রেস তৃতীয়বারের জন্য রাজ্যে ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে। এবং সেটা দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে।িশেষভাবে উল্লেখ করেছেন মালদহ এবং মুর্শিদাবাদের কথা। তৃণমূল ত্যাগের আগে এই দুই জেলায় দলের পর্যবেক্ষক ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাছাড়া এই দুটি জেলাই কংগ্রেসের (Congress) শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। খোদ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর (Adhir Chowdhury) ঘরের মাঠেই ভাল ফলের ইঙ্গিত পেয়েছে তৃণমূল। মালদহে তৃণমূল এতদিন ছিল তৃতীয় শক্তি। সেখানেও এবার কার্যত প্রথম শক্তি হিসেবে উঠে আসার ইঙ্গিত দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। স্বাভাবিকভাবেই খুশি মমতা। তিনি মালদহ এবং মুর্শিদাবাদের দলীয় কর্মীদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তবে বাংলার মানুষ আশা করছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে।
গ্রাম বাংলার বিদ্যুৎ নিয়ে বহু সমস্যা হচ্ছে সাংবাদিক পরিবার সহ জনগণ, এর হাত থেকে রেহাই পাবে। লোকাল বিদ্যুৎ দপ্তরে স্টেশন ম্যানেজার নিজেরাইতো মুখ্যমন্ত্রীর থেকে বড় ভূমিকা পালন করছে ,নিজেকে মুখ্যমন্ত্রীর ভাবে। তাদের হাবভাব আচার-আচরণ ব্যবহার দেখলে সাধারণ মানুষের গায়ে জ্বর চলে আসে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন বলে জনগণের খোশমেজাজে সেই ইঙ্গিত দিয়েছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনের চেয়ে আরও বেশি আসনে জয়লাভ করে দ্বিতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় আসেন মোদি। আর মমতা যেখানে পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি আসনেই জয়ের স্বপ্ন দেখে আসছিলেন, সেখানে ২২টি আসনে জেতেন। বিজেপি জেতে ১৮টি আসনে।সেই থেকে মোদি এবং মমতা লড়াইয়ে পশ্চিমবাংলা অগ্নিগর্ভ হাওয়ার মতন অবস্থা।অল্প কিছু ভুল শোধরাতে সময় লাগে না বেশি দিন, সঠিক পরিকল্পনা মাফিক ও সৎ মনোভাব নিয়ে, ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ায় দিদির দল। তাহলে আবার পুনরায় ২০২১ আবার মুখ্যমন্ত্রী রূপে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শপথ নিচ্ছে।নেতা-নেত্রীদের শক্ত হাতে মোকাবেলা করতে হবে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে হাতে। বাংলায় বর্তমান এমন পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে শাসক দলে থেকে গোপনে বিজেপির নেতা নেত্রীর সাথে আঁতাত রেখে চলেছে, ভবিষ্যতে এরাই বিজেপির হত্যা হবে গ্রামগঞ্জে।যারা প্রকৃত বিজেপি করে তাদেরকে ক্ষতি করছে না, গ্রাম বাংলার রাজনৈতিক নেতারা সৎ নির্ভীক এবং আসল তৃণমূলের লোকদেরকে ক্ষতি করছে একশ্রেণীর নেতারা। এইসব নেতারা বিগত দিনে শাসক দলের নেতা ছিলেন, বর্তমানে তিনি শাসক দলের নেতা ।শুধু রং পরিবর্তন করেছে, জামা পাল্টেছে।এই সব নেতাদের বিরুদ্ধে মোকাবিলা করতে পারলে ২০২১ এ অনিবার্য তৃণমূল নতুন সরকার গড়লো। মাঝেমধ্যে মমতা মোদির বৈঠক নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা কল্পনা তুঙ্গে উঠেছিল। তবে ভারতের রাজনীতিবিদদের মধ্যে দুটি নাম মোদী আর মমতা। বিগত দিনে সবচেয়ে আলোচিত হলেন নিঃসন্দেহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যদিও মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে অর্থাৎ ক্ষমতায় আসার চার-পাঁচ মাসের মধ্যেই তিনি পূর্বের জনপ্রিয়তা বেশ কিছুটা হারিয়েছেন, তা সত্ত্বেও মোদিই বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশটির নেতা এবং দেশের ক্ষমতাধর প্রধানমন্ত্রী অর্থাৎ সরকারপ্রধান। তার কার্যক্রমের প্রতি দেশে-বিদেশে বিশেষ আগ্রহ ও কৌতূহল রয়েছে এই কারণে যে, তিনি এবং তার দল বিশাল নির্বাচনী জয় নিয়েই ক্ষমতাসীন হয়েছে, যা গত ৩০ বছরে ভারতে হয়নি। তাই, একদিকে যেমন আছে সীমাহীন প্রত্যাশা, অন্যদিকে মোদির প্রতিটি পদক্ষেপ ও নীতি, সেটা জাতীয় কিংবা আন্তর্জাতিকই হোক না কেন, গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বিশ্লেষকরা। তবেই তো হিনদুধর্মাবলম্বীদের তোষণ করছে প্রধানমন্ত্রী মোদী। সেনিয়ে আজও হিনদুধর্মাবলম্বীদের তোষণ করছে বলে প্রশ্ন তোলেনি প্রধানমন্ত্রী বিরুদ্ধে কোনো
রাজনৈতিক দল। তবেই এর উল্টটাই হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে, তাই ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী প্রণবানন্দের জন্মজয়ন্তীর অনুষ্ঠান ছিল কলকাতায় নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে। সেখানে বক্তৃতা দিতে গিয়েই নিজের নীতি সম্পর্কে ওই মন্তব্য করেন মমতা। তিনি বলেন, “কেউ কেউ বলে আমি মুসলমান তোষণ করি। কিন্তু আমি আসলে মানবতার তোষণ করি।এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একুশে বিধানসভা নির্বাচনে তার প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ প্রমাণ দিয়ে গেছে রাজ্যের জনগণ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে চায় গরীব দরদী মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় প্রতিফলিত হচ্ছে। তাহলে কি 2021 এর বিধানসভা ভোটে মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক শাসক দলের সেই রেজাল্ট দিয়ে গেছেন ভোটে,এ প্রশ্ন মুসলিম প্রতিনিধিদের একাংশ মুখে প্রকাশ পাচ্ছে। সেই সময়ে রাজ্যে ভোটের ভাগে স্পষ্টই বোঝা গিয়েছিল যে, সংখ্যালঘু ভোট উজার করে পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। অন্য দিকে তীব্র মেরুকরণে । এইসব মানুষদের কে জনগণ ভরসা করে ভোট দেয় কেন জানেন? একদিকে যেমন ভয়ের কাজ করে, অন্যদিকে তেমনি নিজের স্বার্থ জড়িয়ে থাকে প্রতিটি ভোটারদের। রাজনীতির তে ইতিবাচক আর নেতিবাচক মূল্যটা এযুগে নেই। আজকের যুগের মানুষ টা অত্যন্ত জঘন্য, একটু স্বার্থের জন্য হাজার হাজার মিথ্যা কথা বলে।এর ফলে আগামী প্রজন্ম অনেকটাই বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। এসবের পিছনে রাজনৈতিক মাথাচাড়া দিচ্ছে একশ্রেণীর নেতারা।তবে বিগত দিনের রাজনৈতিক ইতিহাসের কথা আপনাদের অনেকেরই জানা আছে। যাদের জানা নেই তাদের জন্য একটু বলি,গুজরাট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন জঘন্য সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় মোদির প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকার জন্য। কিন্তু এখন চিত্রপটের পরিবর্তন হয়েছে। তিনি পৃথিবীর সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ওয়াশিংটনই বলেছে, মোদিকে মার্কিন সরকার উচ্চপর্যায়ের ‘ভিসা’ দেবে এবং সেটা দিয়েছে।
সে যাই হোক, নরেন্দ্র মোদির পর যে ভারতীয় রাজনীতিবিদ দেশে সবচেয়ে বেশি আলোচিত- তিনি সরকার দলের কেউ নয়, কিংবা জাতীয় পর্যায়ে বিরোধী দলের কেউ নন। তিনি হলেন দেশটির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। আলোচিত, সমাদৃত ও সমালোচিত হয়েই সরবে বিচরণ করছেন তিনি ভারতের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে। ভারতের ২৯টি অঙ্গরাজ্য অর্থাৎ ‘টেস্ট’ এর একটি হলো পশ্চিমবঙ্গ। এটা বড় রাজ্যগুলোর মতো- যেমন উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ কিংবা মহারাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ নয়। আবার, ছোট রাজ্য যেমন হরিয়ানা, কেরালা অথবা ত্রিপুরার মতো তুলনামূলকভাবে গুরুত্বহীন নয়। জনসংখ্যা এবং কেন্দ্রীয় পার্লামেন্ট ‘লোকসভায়’ ৫৪৩ আসনের মধ্যে ৪২টি আসন নিয়ে মোটামুটিভাবে কিছুটা গুরুত্ব নিয়ে উপস্থিতি আছে পশ্চিমঙ্গের। তবে রাজ্যটির তাৎপর্য আছে অন্যান্য কারণে। রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও কল্যাণে অগ্রসরতা এবং সাবেক ভারত উপমহাদেশ ও বর্তমান দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকজন বরেণ্য ব্যক্তির কারণে বাঙালি-অর্থাৎ বাংলা ভাষাভাষী এই অঞ্চলের রয়েছে খ্যাতি। ব্রিটিশ ভারতের রাজনীতিবিদ জি কে গোখলে বলেছিলেন যে, ‘What Bengal thinks today rest of India tomorrow.’ অর্থাৎ বেঙ্গল আজ যা চিন্তা করে, সারা ভারতবর্ষ সেটা করে আগামীকাল। এ বক্তব্যটির প্রজ্ঞা ও তাৎপর্য এখনো বহুলাংশে বিরাজমান।অবশ্য পূর্বের সেই ‘বেঙ্গল’ দ্বিখণ্ডিত হয়েছে ঐতিহাসিক এবং বাস্তবতার আলোকে। পশ্চিম অংশটি ভারতের অঙ্গরাজ্য হয়ে পশ্চিম বাংলা-বর্তমানে ‘পশ্চিমবঙ্গ’ হয়ে বিরাজ করছে। পূর্ব অংশটির অভ্যুদয় হয়েছে স্বাধীন ‘বাংলাদেশ’ নামক রাষ্ট্র হিসেবে এক গৌরবোজ্জ্বল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে- যার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত রয়েছে সীমাহীন ত্যাগ ও তিতিক্ষা। ‘বেঙ্গল’ এর উভয় অংশই বিভিন্ন মাত্রায় এবং ভিন্ন অবয়বে বেশ আলোচিত। পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি যেমন দেশে-বিদেশে অত্যন্ত পরিচিত নাম তেমনি এই রাজ্যের প্রায় সব পূর্বের মুখ্যমন্ত্রীরাও পরিচিত ছিলেন রাজনীতিবিদ হিসেবে যা ভারতের অন্যান্য রাজ্যের বেলায় সেভাবে প্রযোজ্য নয়। ডা. বিধান সেন, প্রফুল্ল কুমার সেন, সিদ্ধার্থ শংকর রায়, অজয় মুখোপাধ্যায়, জ্যোতিবসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ও সর্বশেষ মমতা ব্যানার্জি সবাই দেশের ও রাজ্যের রাজনীতিতে বড় ‘ফ্যাক্টর’ হয়ে বিচরণ করেছেন কিংবা করছেন। তবে, রাজ্যের একমাত্র নারী মুখ্যমন্ত্রী হয়ে এবং পূর্বের সবার থেকে তুলনামূলকভাবে কম বয়সী হয়ে মমতা ব্যানার্জি পশ্চিমবঙ্গে যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন, সেটা পূর্বে সেভাবে পরিলক্ষিত হয়নি। এ পরিস্থিতিতে তাকে কেন্দ্র করে রয়েছে যেমনি অনুরাগ, তেমনি বিরাগ, যতটা সমর্থন, যেন এতটাই সমালোচনা। তবে, কথা হলো তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সরবে বিচরণ করছেন শুধু রাজ্যের পরিসরেই নয়, সারা ভারতেরই প্রেক্ষাপটে। সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন ইস্যুর কারণে মমতাকে নিয়ে বিতর্ক-আলোচনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সে কারণেই অনেক বিশ্লেষক পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর বর্তমান অবস্থা ও আগামী দিনে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ আলোকপাত করে যাচ্ছেন।
এটা স্বাভাবিক। কেননা, মমতা ব্যানার্জি ভারতে এ সময়ে একটি অত্যন্ত আলোচিত নাম। প্রতিবেশী এবং সংস্কৃতি ও ভাষাগত বন্ধনের কারণে বাংলাদেশেও তাকে নিয়ে আছে বিশেষ আগ্রহ। ঘটনাচক্রে, এই প্রতিবেশী হওয়ার কারণে বাংলাদেশ-ভারত বৃহত্তর সম্পর্কের ‘ক্যানভাসেও’ মমতা ব্যানার্জি প্রভাবশালী হয়েই বিরাজ করছেন যদিও তার এ ক্ষেত্রে ভূমিকা নিয়ে বেশ সমালোচনা প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে দুই দেশেই।উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যার প্রায় ২৮ শতাংশ মুসলিম ভোটের অধিকাংশ তৃণমূল এখন পাচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে। আগে এটা ছিল কংগ্রেস কিংবা বামপন্থিদের পক্ষে। মমতা যখন বিজেপির সঙ্গে অাঁতাত করে এনডিএ মোর্চার শাসনের সময় রেলমন্ত্রী ছিলেন, তখন সংখ্যালঘুদের ভোট তার পক্ষে ছিল প্রায় শূন্যের কোঠায়। বর্তমানে তাদের ভোটের সিংহভাগই মমতার ঝুড়িতে।শারদা অর্থ’ কেলেঙ্কারিতে তৃণমূলের বেশ কয়েকজন নেতানেত্রী ও সমর্থকের সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগের কারণে মমতা ব্যানার্জিও অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে আছেন। বিজেপি বলছে, মমতাও এই কেলেঙ্কারিতে সংশ্লিষ্ট রয়েছেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘সারদা চিট ফান্ডের’ সম্পৃক্ততার ব্যাপারে কোনো তথ্য পায়নি বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নয়া দিলি্লতে বলেছেন, বিষয়টি ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। এটা মমতাকে কিছুটা স্বস্তি দিলেও এ ইস্যুতে আলোচনা থেমে যায়নি। তবে মমতাকে এখন লড়তে হচ্ছে বিজেপি, কংগ্রেস ও বামপন্থিদের বিরুদ্ধে। তবে এক সময়ের তীব্র বাম বিদ্বেষী মমতার সঙ্গে বামদের সম্পর্কে নমনীয়তা প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে। ২০২১ সালের বিধান সভা নির্বাচনকে পুনরায় মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ! তবেই
সুদীর্ঘ ৩৪ বছরের রাজনৈতিক জীবনে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নানা প্রতিক‚লতার মধ্য দিয়ে গেলেও, এমন গাড্ডায় আগে পড়েছেন কিনা সন্দেহ। একে তো সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি হই হই করে রাজ্যের ৪২টির মধ্যে ১৮টি আসন দখল করেছে। তার ওপর দ্বিতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় এসে দিল্লির নরেন্দ্র মোদি সরকার দিদির ক্ষমতার গোড়া ধরে টান মেরেছে। সরকার ২০২১ অবধি থাকে কিনা সন্দেহ ছিল, আজ আর সেই সন্দেহ টা নেই। বিজেপি বাংলায় যেভাবে এনআরসি আর এন আর পি ও সি এ এ করতে পিছিয়ে পড়েছে ।
বিধানসভায় ২০২১ সে কারনে আবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমতায় ফিরে এলেন, শাসকদলের বিরুদ্ধে প্রচুর মানুষ মুখ খুলেছে আম্ফান ঘূর্ণিঝড়ের পর হইতে।তবে আগামী দিনের তৃণমূলের ভবিষ্যৎ অনেক দায়িত্ব তিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। তবে বিধানসভা ভোটে সেই তিক্ততা কাটিয়ে বিজেপিকে আটকানোর জন্য বাংলার মানুষ পুনরায় রায় দিলেন দিদির পক্ষে। গত লোকসভা ভোটের পর গত তিন সপ্তায় তার দল থেকে তৃণমূল স্তরের কর্মীরা গণহারে বিজেপিতে যোগ দিয়েছে। যত দিন যাচ্ছে তৃণমূল ততই ফাঁকা হচ্ছে। অবস্থা এমন যে, আরেকবার লোকসভা ভোট হলে মমতা হয়তো অর্ধেক আসন পাবেন । এর কারণ হলো, মমতা ব্যানার্জির জনপ্রিয়তায় । দশ বছর ক্ষমতায় থেকেই তৃণমূল বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের থেকে বেশি উন্নয়ন করেছে। বাংলায় বিজেপির বিরুদ্ধে শক্তিশালী ঘাঁটি হওয়ার কারণ, গণহারে দুর্নীতি এর একটা প্রধান কারণ। পার্টির দাদাদের ভাগ না দিয়ে গ্রামগঞ্জে কোনো কাজ হওয়াই মুশকিল। এসবের অবসান ভোটের আগে অনেকটা কাটিয়ে তুলেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।জনপ্রিয়তা গেলে রাজনীতিবিদদের আর থাকেটা কী? বিজেপির নেতাদের নেই। কিন্তু কেন্দ্রে পুলিশ প্রশাসন এখনো মোদির হাতেই। আর পশ্চিমবঙ্গের এতদিনের ধারা মেনেই উনি ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাতে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে দল ছাড়ার হিড়িক। তৃণমূল স্তরের কর্মীরা তো যাচ্ছেই, এবার নাকি মাঝারি আর বড়দের পালা, এতদিনে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাচ্ছিল এখন ঠিক উল্টোটাই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিচ্ছে বহু বিজেপি নেতারা। না গিয়ে উপায় নেই, ভোটের হিসাবে সব হেরে ভূত হয়ে যাবে। তা ছাড়া কর্মী না থাকলে কাদের নিয়ে দল করবেন।
এরা সবাই তৃণমূলে যাবে কিনা এখনো পরিষ্কার নয়। বরং বলা ভালো, তৃণমূল নেবে কিনা জানা নেই। আর কিছু না করলে, বিধানসভায় কেন্দিয় সরকারের বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারেন, আম্ফান ঘূর্ণিঝড়ের ফলে সেই ভোটব্যাঙ্ক কিছুটা স্থিতিশীল অবস্থায় দাঁড়িয়ে গেছে। তৃণমূলের যোগ না দিলেও বন্ধু হতে তো বাধা নেই। রাজনীতিতে কত কিছুই তো হয়।এ রকম অনেক কিছুই বোধহয় পশ্চিমবঙ্গে ঘটতে চলেছে। তৃণমূল পেছনের দরজা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসতে রাজি নয়। তাতে মোদির ভোটারের সমবেদনা পেয়ে যেতে পারেন। নির্বাচনের সময়ে প্রশাসন যেন মমতার হাতে না থাকে সেই চেষ্টা চালিয়েছিলেন বিজেপি নির্বাচন কমিশনারের দাঁড়ায়, কারন কী জানেন,মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন বাগ্মী রাজনীতিবিদ। তিনি তাঁর অনুগামীদের কাছে “দিদি” নামে পরিচিত। ২০১১ সালে তাঁর নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গের ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট সরকারকে পরাজিত করতে সক্ষম হয়েছিল। এই সরকার বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সময় গণতান্ত্রিক উপায়ে রাজত্বকারী কমিউনিস্ট সরকার ছিল। ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেটে তিনি দুই বার রেল, এক বার কয়লা মন্ত্রকের এবং এক বার মানবসম্পদ উন্নয়ন, যুব, ক্রীড়া, নারী ও শিশুকল্যাণ বিভাগের রাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন। তিনি পশ্চিমবঙ্গে কৃষকদের জমি বলপূর্বক অধিগ্রহণ করে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের বিরোধিতা করে আন্দোলন করেছিলেন। ২০১৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস এককভাবে ২১১টি আসনে জয়লাভ করে (মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে) সরকার গঠন করে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীরূপে পুনরায় নবান্ন দখল করছে ।



