নন্দীগ্রামের সম্প্রীতির বাঁধনকে ভাঙতে তৎপরশুভেন্দু,রাজনৈতিক হিংসাকে হিন্দু মুসলমানের দাঙ্গার বলে প্রচার করছে বিজেপি।
একটা হার হারামি মানুষের কাজই হল মানুষে মানুষে ঝগড়া অশান্তি বাদিয়ে নিজের ফয়দা লোটা।ছোটবেলা থেকেই এরকম অনেক মানুষকে দেখতাম যাদের কাজই হল পরের ধনে মই দেওয়া,নিজের ঘরের ছেনালী না সামলে অন্যের ঘরে উঁকি মারা,নিজের ঘরের মা বৌ টাকা নয়তো ছেলের চাকরি নয়তো তার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য যখন অফিসের বসের শষ্যাসঙ্গী হচ্ছেন তখন সেই সুপুত্র পাড়ায় শিস বাজিয়ে কোন মহিলার চরিত্র তুলে খোশগল্পে মাতছেন।এই যেমন আমাদের রাজ্যের তরুন তুর্কি নেতা বলে পরিচিত শুভেন্দু অধিকারী।এক নম্বরের দোঁপেয়াজী বাপের সুপুত্র।যাকে বলে জন্মেকম্মে ছেনালী রাজনীতিতে ওস্তাদ মাল।কথায় বলে বাপ কা বেটা।তবে এখন তিনি বৃদ্ধ বাপের থেকেও কয়েক কদম উপরে।কিভাবে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যতকে লাইম লাইটে ধরে রাখা যায় তার সব মন্ত্রেই দীক্ষিত।
একদা মমতাকে ভাঙিয়ে রাজনৈতিক উত্থান এখন সেই মমতাকে বেগম বানিয়ে হিন্দুত্বের তাস খেলে নন্দীগ্রামে নিজের পায়ের তলার টালমাটাল জমিকে সাম্প্রদায়িক বিষে বিষাক্ত করতে চাইছেন।শতাব্দীর পুরনো ইতিহাস ঘাটলে দেখবেন পূর্ব মেদিনিপুরের এই ভুখন্ডে কখনো সাম্প্রদায়িক হিংসা দানা বাঁধেনি।শান্তি সম্প্রীতি ভাইচারা এই শব্দগুলো নন্দীগ্রামের মানুষের হাজার হাজার বছরের ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছে।যাকে সামনে রেখে এই ভুখন্ডের মানুষ অতীতে সুজা সুলতান রাজত্বের বিরুদ্ধে লড়েছে পরবর্তী কালে ইংরাজদের বিরুদ্ধেও লড়াই করেছে।এখানকার মানুষদের শরীর স্বাস্থ্য বরাবর একটু ভাল ছিল বলে এখান থেকে দেশের বাইরে মদ্য যুবকদের জোর করে ধরে নিয়ে যাওয়া হত ক্রিতদাস করে রাখার জন্য।এই কারণে নন্দীগ্রামে যাওয়ার পথে নরঘাট বলে একটি জায়গার সন্ধান পাবেন।যে ঘাটে মানুষ কেনাবেচা হত।তাই যুগ যুগ ধরে দলমত জাতপাতের উর্ধে উঠে যে অঞ্চলের মানুষেরা দিনের পর দিন নিজেদের অধিকার আন্দলনে সামিল হয়ে এক দুর্জয় শক্তি হিসাবে বাংলা তথা ভারত এমনকি গোটা বিশ্বেকে তাখ লাগিয়ে দিয়েছে,আজ সেই নন্দীগ্রামের উঠনে কেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের আবহাওয়া।এর জন্য কে দায়ি? কারা আজ নন্দীগ্রামের মানুষকে হিন্দু মুসলমান এই তথ্যে দুভাগ করতে চাইছে? অবশ্যই এক্ষেত্রে একটিই নাম উঠে আসবে সে হল শিশিরবাবুর মেজ ছেলেটা ফড়ে ধান্ধাবাজ শুভেন্দু অধিকারী।অকৃতদার থেকে যে নিজেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেখার স্বপ্ন দেখেছিলেন,ভেবেছিলেন বিজেপির মত একটি মহামুর্খের সম্মিলিত দলে কেউকেটা হয়ে নবাবী করবেন ।
সেই স্বপ্নে এখন রাজ্যের মানুষ জল ঢেলে দিয়েছেন।শুধু তাই নয় এই মুর্তিমান কোন ক্রমে নিজের আসনটি সামলেছেন যার পিছনে ব্যাপক কারচুপির সত্যনিষ্ট খবর উঠে আসছে।তাতে যদি সঠিক তদন্ত হয় তাহলে জয়ের টিকা তো ঘেঁটে ঘ হবেই তার উপর জেলে যাওয়াটাও ভাগ্যে জুটে যেতে পারে।মনে রাখবেন খোদ মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্রের এই ভোট নাশকতা যার জল অনেক দুর গড়াবে।যাই নিয়ে চিন্তিত ধিক্কিত শুভেন্দু অধিকারী এখন মানুষের নজর অন্যত্র ঘোরাতেই নন্দীগ্রামে আগুন জ্বালাতে চাইছে।এ পর্যন্ত যা যা খবর পেয়েছি তা থেকে একটা বিষয় পরিস্কার শুভেন্দুর তৈরি ছকে নন্দীগ্রামে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করছে কিছু মানুষ।শুনলাম এই দুদিনে বেশ কিছু হিন্দুর বাড়িঘর ভাঙচুর হয়েছে লুটপাট হয়েছে।যার সবটাই নাকি মুসলিম সম্প্রদায়ের কাজ বলে চালানো হচ্ছে।এটা ঠিক নন্দীগ্রামের বেশিরভাগ হিন্দুই এবার মমতাকে বর্জন করে তারা বিজেপিকে ভোট দিয়েছে।যার পিছনে শুভেন্দু অধিকারীর লাগাতার সাম্প্রদায়িক কথাবার্তাই মুল কারণ ছিল।
মমতা ব্যানার্জীকে “বেগম” বলে মানুষকে ধর্মীয় ওসকানি দেওয়া,তাকে ভোট দিলে নন্দীগ্রাম মিনি পাকিস্তান হয়ে যাবে,এখানে সব মুসলিমদের জেহাদি বলে তকমা দেওয়া এসবই করেছেন শুধুমাত্র নিজের রাজনৈতিক ক্ষুদ্র স্বার্থে।যার প্রতিটি কটাক্ষ ভাষা প্রয়োগ নন্দীগ্রামের বৃহত্তর মুসলিম সমাজকে প্রতিনিয়ত অপমান বেইজ্জ্বত করেছে।তাই ক্ষমতার পুনর্দখল পেয়ে কোন বিজেপির মাতব্বরকে ধরে যদি দু চার ঘা দেওয়া হয় যদি তার ঘরবাড়ি লুট হয় তার দায় কেন সেখানকার হিন্দুরা নেবে?আজ যে হিন্দু মা বোনেরা মুসলমানদের আক্রমণ হতে পারে এই আতঙ্কে শাঁখ বাজিয়ে উলুধ্বনি দিয়ে সবাইকে সতর্ক করছেন তাদের শাঁখ সেদিন কি করছিল? যখন নন্দীগ্রামের বয়ালে একজন হিন্দু হওয়া সত্বেও রবীন্দ্রনাথ মান্নাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল।তখন কি শাঁখে ফু দিতে ভুলে গেছিলেন?আর আজ কয়েকটা জল্লাদের বাড়ি লুট হলে সেটা হিন্দু জাগরণের ঘাড়ে যাবে?এসব করে কোন লাভ হবে না।নন্দীগ্রামের শুভবুদ্ধিসম্পূর্ণ মানুষ অলরেডি রাস্তায় নেমেছেন।তারা মানুষকে বোঝাচ্ছেন কোন প্রভোকেশনে কান দেবেন না।যারা নির্বাচনের আগে থেকে নন্দীগ্রামের সম্প্রীতির পরিবেশ দূষিত করেছে এটা তাদের উপর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মাত্র।যার সাথে হিন্দু মুসলিম জাতিভেদের কোন সম্পর্ক নেই।রাজ্য সরকার যা অবিলম্বে কঠোর হস্তেই দমন করবে বলে আমাদের আশা ভরসা আছে।এটা উত্তর প্রদেশ ,গুজরাট,নয়।এটা বাংলা এবং বাঙালি তার ঐক্য একতাকে চোখের মণির মত রক্ষা করতে জানে।



