দেশ আজ মৃত্যু উপত্যকা
দেশ আজ মৃত্যু উপত্যকা
—————————————————–
শুভাশিস ঘোষ– কবি নবারুণ ভট্টাচার্যের কবিতার উদ্ধৃতি দিয়ে এই লেখার শুরুটা করি”এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না”।সকাল থেকেই শুধু মৃত্যুর সংবাদ। কেমন যেন অসহায় লাগছে নিজেকে।ভোর হতেই ফোনের রিং টন শুনলেই বুকের ভিতরটা কেমন যেন ছ্যাৎ করে উঠছে।এই বুঝি কোন দুঃসংবাদ বয়ে নিয়ে এল আমার ওই দুরভাষ যন্ত্রটি।বিশ্বাস করুন চতুর্দিক থেকে এত চেনা জানা মানুষের অকালে আকস্মিক ভাবে চলে যাওয়ার দুঃসংবাদ পাচ্ছি যে নিজের বাড়ির প্রতিটি সদস্যকে নিয়ে এখন প্রচন্ড টেনশনে আছি।বিশেষ করে বাড়ির বয়স্ক ও আত্মীয় পরিজনদের নিয়ে।এরই সঙ্গে আরও মন খারাপের খবর হল বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে করোনা আক্রান্ত রোগীদের পরিবারের থেকে অন্যায়ভাবে টাকা আদায়ের ঘটনায়।
আমরা সবাই জানি যে কোন সরকারি হাসপাতালে করোনা পেশেন্টের ট্রিটমেন্ট হয় সম্পূর্ণ নিখরচে।যেখানে সমস্তটার ব্যায়ভার এই সরকারের।কিন্তু দুর্মুল্য সেই সুবিধা পাচ্ছেন কজন? হাতে গোনা কিছু ভাগ্যবান মানুষেরা। বিশেষ করে যাদের পিছনে রাজনৈতিক যোগসূত্র আছে।আর বাকি লোকেদের তো অসহায় ভাবে এ নার্সিংহোম ও নার্সিং হোমে ঘুরতে হচ্ছে।যেখানেই যাচ্ছেন সেখানেই বিশাল অঙ্কের টাকা দাবি করা হচ্ছে।এরকমই বজবজ থেকে বারাসত,বিভিন্ন জায়গায় ছোট বড় গজিয়ে ওঠা অসংখ্য নার্সিহোমে হাসপাতালে পেশেন্টকে তো প্রথমে নেওয়াই হচ্ছে না কারণ বেড নেই,আর যদিও বা নেওয়া হচ্ছে তো আগেই ক্যাশে একলাখ টাকা জমা করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।কোথাও কোন সরকারি গাইড লাইন নেই।থাকলেও তাকে মানা হচ্ছে না।দিকে দিকে এই দুঃসময় মানুষের বিপদের সুযোগ নিয়ে একশ্রেণীর মুনাফাখোড় স্বাস্থ্য ব্যবসায়ীরা যা ইচ্ছা পারছেন বিল ধরাছেন যেখানে প্রতিদিনের খরচ পরে যাচ্ছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার মত।এমনই অভিযোগ পেলাম বজবজের একটি বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে।
অতীতে তেল পাচার ও চুরির ব্যবসায় হাত পাকানো এই হাসপাতালের মালিক যে এখন স্বাস্থ্য ব্যবসায় যে আরো অনৈতিক উপায়ে টাকা কামাবেন সেটা তো বলার অপেক্ষা রাখে না।আর এক্ষেত্রে সরকারও খানিকটা নিরুপায়।কারণ এই করোনাকালে যদি এই ব্যাপারে এইসব নার্সিহোম মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্হা নিতে যাওয়া হয় তাহলে কাল হয়তো এরাই দরজায় “বেড নেই” বোর্ড ঝুলিয়ে দেবেন।যা আরো সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। তাই করোনার এই মহামারীতে মানুষের নিদারুণ দুরাবস্থায় মনটা ভিষন ভারি হয়ে উঠছে।সত্যি কি আমরা করোনাকে প্রতিরোধ করতে পারতাম না?নাকি নিজেদের ভুলে, খানিকটা অবহেলা গাফিলতির দরুন এই রোগকে তার সংক্রমণ ছড়ানোর সুযোগ করে দিলাম।ঠিক এমনটাই তো ইঙ্গিত দিচ্ছেন বিশ্বের সর্বকালীন বিখ্যাত মেডিকেল জার্নাল”ল্যানসেট”।তাদের মতে ভারতে করোনা সংক্রমণের জন্য মুলতঃ দায়ী দেশের মোদি সরকার।যে সময় বিশ্ব ত্রাস এই ভয়ংকর মহামারীকে প্রতিহত করার জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রয়োজন ছিল সেই সময় এই সরকার ভারতকে করোনা মুক্ত দেশ বলে মিথ্যাই জাহির করেছেন।
বিভিন্ন রাজনৈতিক ধর্মীয় মিটিং মিছিলে ব্যাপক জমায়েত করেছেন,এমনকি নেতামন্ত্রীরা সর্বপরি দেশের প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরও নির্বাচনী প্রচারে মেতে ছিলেন।যেখানে শুধু বাংলার নির্বাচনে রোজ ডজন ডজন নেতামন্ত্রীরা এসেছেন আর করোনা ছড়িয়েছেন।আজ বাংলার ঘরেঘরে তথা গোটা দেশে যে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর মিছিল শুরু হয়েছে তার জন্য একমাত্র দায়ী কেন্দ্রের মোদী সরকার।যাকেই চরম দায়িত্ব জ্ঞানহীন এক আহাম্মক সরকার বলে তীব্র কটাক্ষ করেছেন পৃথিবী বিখ্যাত ওই সংস্থা।বলতে তাই দ্বিধা নেই রাজা যদি মুর্খ বলদ হয় তার ফল যে নিদারুণ ভাবে দেশের প্রজাদের উপর বর্তায় সেটা বলাই বাহুল্য।যারই শেষ পরিণতি আরো কত ভয়ংকর হতে পারে “ল্যানসেড”সেই ভবিষ্যত বাণীও করে দিয়েছেন,যেখানে আগামী আগষ্ট মাসের মধ্যে দেশে দশ লক্ষেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হবে।যে আঘাতের জন্য একমাত্র দায়ী থাকবে দিল্লির এই জল্লাদ সরকার।



