মতামত

মহিপ নাগ লহোরার স্মরণে

মহিপ নাগ লহোরার স্মরণে

মহিপ নাগ লহোরা। ইনি আজ আমাদের মধ্যে নেই। এই না থাকার শূন্যতা কোনদিন পূরণ হবার নয়। কেন কি, আমরা হঠাৎ যেভাবে তাকে কাছে পেয়ে ছিলাম, সেভাবেই হঠাৎ তিনি আমাদের কাছ থেকে হারিয়ে গেলেন । তাঁর এই অকস্মাৎ হারিয়ে যাওয়াটা আমাদের ভাষার জগতে, সাদরি ভাষার জগতে ,জনজাতি জনসমাজের ব হু গোষ্ঠীর সং যোগ কারী মাতৃ ভাষা হিসাবে যে সাদরি ভাষা তার ভবিষ্যতের জ্গৎটা অনেকটা পিছনে পড়ে গেল, অনেকটা শূন্যতা পরিণত হল।

তাঁর সাথে এই পরিচয় কিভাবে তৈরি হয়েছিল সেটাকে এই মুহূর্তে কিছুটা তুলে ধরতে চাই। 2012 সাল আমাদের সং গঠন অল আদিবাসী সাদির সুষার এসোসিয়েশন ‘আসা’এর মাত্র পাঁচ বছর অতিক্রম করছে । এই সময় সংগঠন ‘আসা’ নানা ব্যক্তিত্বের সংস্পর্শে আসার ফলে আমরা খুঁজে পেয়েছিলাম পরস্পরকে। আমরা ভাষার ভবিষ্যৎ কে সামনে রেখে আমরা গিয়েছিলাম একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং তার ব্যক্তিত্বদের কাছে। একাধিক গুণী মানুষদের কাছে। 2011 এ সময় উত্তর বঙ্গ বিশ্ব বিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীপক রায়এর সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগেরা সুজগ পাই।এবং সেই সূত্র ধরেই 2012 সালে আমরা ভারত সরকারের ভাষা প্রতিষ্ঠান সিল(CIIL)কে আমরা আবেদন করি যে , সাদরি ভাষা নিয়ে আমরা আমাদের তরুণ প্রজন্ম , নবীন প্রজন্ম কে নিজেদের ভাষা রক্ষার সার্থে প্রশিক্ষণ দিতে চাই ।

এবং সে কারণে আমরা আমাদের জনসমাজের মধ্যে কিভাবে এই ভাষাটি কে জীবিত রাখতে পারি, এবং কিভাবে আমরা সেটাকে ভাষা হিসাবে রাষ্ট্রের কাছে তুলে ধরে রাষ্ট্রে ভাষা হিসেবে মান্যতার দাবী করতে পারি। তারই চেষ্টা তখন আমরা অনবরত ব্যস্ত ছিলাম এই সময় উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডঃ দীপক রায়ের সাথে আমাদের আলাপ হয়। আমদের সংগঠন আসা’র উত্তর বঙ্গ সভাপতি প্রশান্তর লহোরা মাধ্যমে সেই আলাপ করা হয়। 2010- 2011 সালের মধ্যে আমরা সংগঠনের কর্ম কর্তারা কয়েকবার উত্তরবঙ্গ ইউনিভার্সিটি তে পৌঁছাই ।এবং উত্তরবঙ্গ পৌঁছে আমরা সেখানের সাদরি ভাষি জন সমাজের মধ্যে যারা সাদরি ভাষা নিয়ে কাজ করেন তাদেরকে সাথে নিয়ে নানারকম আলাপ-আলোচনা চালাতে থাকি। সে সময় যে সমস্ত ব্যক্তিত্ব এসেছিলেন সে ব্যক্তিত্বদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ এসেছিলেন কালচিনি থেকে। কেন না উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে যত মানুষ এসেছিলেন তাদের মধ্যে কালচিনি মানুষ ছিলেন বেশি। এবং কালচিনি যে সমস্ত ব্যক্তিত্বরা এসেছিলেন তারা আজকে অনেকেই নেই।

কিন্তু ভারতীয় ভাষা সংস্থা সিল (CIIL)এর সহযোগিতায় ও আমাদের সং গঠনের উদ্বোগে ছয় দিনের ভাষা প্রশিক্ষণের শিবির টি করাতে পারি কালচিনি ধরমশালায় । সেখানে মহীশূর থেকে ওড়িষা থেকে শুরু করে দিল্লির অধ্যাপকরা এবং পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন ভাষা প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিত্বরা দীর্ঘ ছয় দিন ধরে সাদরি ভাষার 60 জন তরুন প্রতিনিধি বা তরুন প্রজন্মকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় । এই প্রশিক্ষণ দেওয়ার সময় আমরা কালচিনির একাধিক চা বাগান বলয়ের মধ্যে যাদের সহযোগিতার সবচেয়ে বেশি পেয়েছিলাম, এবং যাদের সান্নিধ্যে আসতে পেরে ছিলাম তাদের মধ্যে মহিপ নাগ লোহরা এক উজ্বল ও উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব। কেন কি, যত যুব সমাজ এই প্রশিক্ষণ শিবির কে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছিলেন তাদের মাথায় প্রশান্ত লহরা,সাধুলাল তিরকি, রাম মাহালি, সীতারাম দা থেকে শুরু করে সীতারাম এবং আসা’র সহ সভাপতি সাধুলাল তিরকি সাহেব সহযোগিতা করেছিলেন। এই প্রসঙ্গে বলে রাখি উপস্থিত ছিলেন সল্পায়ুর সাদরি সঙ্গীত শিল্পী পুনম মাহালি। সাদরি সঙ্গীতের অপর শিল্পী অমর নায়েক ।সেই সহযোগিতার চলাকালীন মোহিপ নাগের সাথে আমাদের আলাপ হয়ে যায় ।এবং আলাপ হওয়ার পর, প্রায় একটি অপরিচিত পরিস্থিতির মধ্যে, প্রায় জনবল, অর্থবলহীন পরিস্থিতির মধ্যে আমরা যে যে সমস্যায় পড়েছিলাম সেই সমস্যা হতে সমাধানের ক্ষেত্রে মহিপ নাগ লহোরা কে পেয়েছিলাম সবার আগে। পরবর্তীকালে আমরা তার কৃতিত্ব সম্পর্কে, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে অনেকটাই জানতে পারি ।এবং তার তৈরি করা একাধিক সাদরি ভাষার সিনেমা, তার কথা শুনতে পারি । ঐ সময় খুব প্রচেষ্টা চলিয়ে ছিলেন ও গুলিকে চালিয়ে দেখাবার।এবং তার সাথে জানলাম যে লেখার ক্ষমতা রয়েছে অসীম । তার সাহিত্য রচনায় ক্ষমতা রয়েছে অসীম। কবিতা লেখার ক্ষমতাও রয়েছে অপরিসীম। দেখে সেটা বুঝতে পারি বোঝার উপায় ছিল না যেটা সেটা হল ওইটুকু বয়সেই এত বড় দায়িত্ব নিয়ে, এতো উদ্যোগ নিয়ে এত উৎসাহ নিয়ে ,এতো মানুষকে সাথে নিয়ে, তখন একাধিক সিনেমা তৈরি করে ফেলেছেন !এবং যারা সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন তারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন । কারণ কি কালচিনি ব্লকের যিনি নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন সেই সভাপতি ও আমাদের এই প্রশিক্ষণ চলার সময় যথেষ্ট সহযোগিতা করেছিলেন। তিনি একটি সিনেমার প্রধান চরিত্রে ছিলেন। সেটাও তিনি জানিয়েছিলেন ।এই ক্ষেত্রে বলা যায় যে, যে সমস্ত সিনেমা তৈরি করেছিলেন তার মধ্যে (1)সনম তোর লেগিন
(2)সাজা
(3) সাথী রে
(4 ) জিন্দেগি
(5 )ধাঁগার
( 6 )জিন্দেগী তেরে নাম
(7) আসরা
(8) ময় তহরে হেক
এসমস্ত সিনেমাগুলো তার হাতে তৈরি করা এবং উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো যে আমাদের সংগঠন কে সাথে পেয়ে তিনি যেভাবে উৎসাহিত হয়েছিলেন এবং একটা গুরুত্বপূর্ণ আবেগ সৃষ্টি করেছিলেন তা সত্যিই এক অভাবনীয় পরিবেশ।
60 জন প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার্থীর মধ্যে 50 জন উত্তরবঙ্গের যারা স্নাতক থেকে শুরু করে স্নাতকোত্তর যুবক-যুবতীরা উপস্থিত ছিলেন। বাকী দশ জ্ন আমরা ছিলাম দক্ষিণবঙ্গের মানুষ। এবারে কথাগুলো যে, নানা প্রতিকূলতার পরও যে প্রশিক্ষণ শেষ হল সেই প্রশিক্ষণের শেষে যখন আমাদেরকে তিনি বিদায় দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে নিউ আলিপুর স্টেশনে উপস্থিত হলেন সেখানে আমাকে আলাদা করেই আবেদন রেখেছিলেন যে দাদা আমরা আমার হাতে লেখা যে বইটি আমি অতি যত্নে রেখেছি, সেটি এই বীর পাঁইখ।এবং এটি সিলেবাস বানাতে তৈরি করা। কারণ সিলেবাস ছাড়া আমাদের তো ভাষা বাঁচানো সম্ভব নয়, পঠন-পাঠন সম্ভব নয় ,এই প্রশিক্ষণ সে কথাই বলল। সেই কথাটা অনেক আগেই স্মরণ করে আমি যে বই রচনা করেছি এবং শিশু সাহিত্য হিসাবে মনে করছি। সেটি হলএই বীর পাইক। বইটি আমার কাছে এখনো আছে ।এছাড়াও তার সাথে বাকি যে কথাবার্তা আমরা আলোচনা করেছিলাম সেগুলি হলো আমাদের সমাজকে নিয়ে।তার মধ্যে দু একটি হলো আমরা তার পরিচালনায় তৈরি হাওয়া একাধিক সিনেমা সেগুলোকেই দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় এবং সাদরি ভাষী জ্ন সমাজের মধ্যে আমরা প্রশিক্ষণ হিসাবে দেখাবার জন্য আমরা সেটাকে ব্যবহার করব। সাদরি ভাষা যে এত অমূল্য সাহিত্য রচনা করা যায়, এত মূল্যবান জীবন্ত সিনেমা তৈরি করা যায়,এই যে উৎসাহ এটা সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য তরুণ প্রজন্মকে সাদরি ভাষার প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য আমরা পরস্পরের মধ্যে অনেক কথাই আলাপ আলোচনা করেছিলাম । দৃশ্যত তিনি আমার ওপর পুরো ভরসা রেখেছিলেন যে আপনি দক্ষিণবঙ্গে ফিরে গিয়ে এই আইডিয়াটা করুন আমি আমার প্রজেকশন মেশিন নিয়ে এবং বই গুলোকে নিয়ে পৌঁছাব
। সেখানে সাধারণ মানুষের মধ্যে সেটা দেখানো হবে।

এর পর এলো 2014 সাল।
চা বলয়ের ভয়ংকর ক্ষুধার বছর।102 জ্ন শুধু আদিবাসী মানুষ মারা যান
অনাহারে ও অপুষ্টি তে। সেবারে কালচিনি বিডিও অফিস বাংলো তে থাকা পুরো চা বাগান গুলি তে ঘোরা,আদবাসী চা বস্তির মানুষের সাথে নানাভাবে আলাপ আলোচনা করা। হান্টা পাড়া,কালচিনি, মাদারিহাট, মালবাজার এই সমম্ত জাগায় নিয়ে যাওয়া এসবের দায়িত্ব যে কয় জন নিয়ে ছিলেন তার মধ্যে প্রশান্ত লহোরা , আসার উত্তর বঙ্গ কমিটির সম্পাদক রাম মাহলি , সাংস্কৃতিক সম্পাদক মহিপ নাগ লহোরা সীতারাম দাদা তো ছিলেন ই । মাল বাজারে চন্দন লহোরার সাথে বিশেষ দুটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত করার দায়িত্ব ওনার হাতেই ছিলো ।
পর পর এতো গুলি বাগান ঘোরা , নানা মানুষের সাথে আমাদের পরিচিতি করানো
সবেতেই তাঁর উপস্থিতি সমান তালে ছিলো। ‘আসা’র কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক মণ্ডলীর জে কোনো রকমের চলাচলে মহিপ নাগ এর অবদান ছিলো মনে রাখার মতো ।

কিন্তু পরবর্তীকালে একাধিক কোন কারণে এবং ব্যক্তিগত ভাবে নিজের কিছু সমস্যার সৃষ্টি হবার কারনে ও সাংগঠনিক নানা কারনে,
আর্থ সামাজিক নানান বাধায় যোগাযোগ করে ওঠা সম্ভব হয়নি। আশা ছিল যে ভবিষ্যতে তাকে নিয়ে আমরা উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গের একাধিক জায়গায় পৌঁছে যাব। এবং সেখানে সাদরি ভাষায় এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত অর্থাৎ এক জনপদ থেকে আরেক জনপদে এক জেলা থেকে আরেকজন জেলার মধ্যে সাদরি ভাষার কিছুটা উচ্চারণ গত সমস্যা রয়েছে সেগুলো দূর করার ক্ষেত্রে সাদরি ভাষায় সিনেমা, তার কথোপকথন, তার সংগীত পরিবেশন , চরিত্র, সাসামাজিক সঙ্কট,সংঘাত সবকিছু যদি ধারাবাহিকভাবে বারংবার একটি জনসমাজের মধ্যে বিতরণ করতে পারা যায় তাহলে ভাষার মধ্যে উচ্চারণ গত বিভেদ রয়েছে বা কিছুটা হলেও যে পরস্পরের দূরত্ব রয়েছে সেটা দূর হয়ে যাবে। এর মধ্যে তিনি 2017 সালে সম্ভবত সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে তিনি আমাদের সংগঠন আসার উত্তরবঙ্গের সভাপতি প্রশান্ত লহোরা কে সাথে নিয়ে আমার দক্ষিণবঙ্গে এসেছিলেন এবং করম উৎসবের সময় তিনি আমাদের দক্ষিণবঙ্গের কোন একটা জায়গায় উত্তর 24 পরগনা মালঞ্চ, মিনাখা,এ সমস্ত জায়গার মধ্যে তিনি গিয়েছিলেন। এবং সবচেয়ে বড় আনন্দের ছিল যে তিনি দক্ষিণবঙ্গের জনসমাজকে নিয়ে একটি সিনেমা তৈরি করবেন এটা বারবার তিনি বলছিলেন স্মরণ করেছিলেন আমাদের সভাপতি প্রশান্ত লহোরা কে ।

উত্তর বঙ্গ সভাপতি প্রশান্ত লহোরা সে কথা বারবার স্মরণ করিয়ে দিলেন ।আমরা তার সেই অপূরণীয় আশা পূরণ করতে পারলেন না। করোনার মত একটি কালান্তক ব্যাধি তার জীবনের সমস্ত আকাঙ্ক্ষাকে অসমাপ্ত করে ছিনিয়ে নিয়ে গেল। জীবনের পন্ঞ্চাশ তি বসন্ত পার করার আগে আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন । জানা যায় না আগামী দিনে আমরা এইরকম ব্যক্তিত্ব আর কবে অর্জন করতে পারব! কবে খুঁজে পাবো! ব্যাক্তিগত জীবনে চরম দরিদ্রতা নিয়ে তিনি সাহিত্য ,সিনেমা ,সঙ্গীত এ সমস্ত নিয়েই তার জীবন যেটুকু সময় পেলেন সেটুকু কে জাতির জন্য উত্সর্গ করলেন বলা যায়। তার হাতে গড়ে ওঠা কলাকুশলী দল,একাধিক নায়ক, থেকে নায়িকা সবাই আজ মহিপনাগ লহোরা কে স্মরণ করছেন ।এবং আমার সাথে ওনার ব্যক্তিগত আলাপচারিতা ঘটেছে বিভিন্ন সময়ে, তিনি তখন রয়েছেন ঝাড়খণ্ডে এবং সেখানে তিনি সিনেমা সাহিত্যের উপর কাজে গিয়েছেন ।এটাও তিনি আমাকে বলেছিলেন খুব তাড়াতাড়ি ফিরে এসে আমার সাথে দেখা করে যাবেন তিনি জানিয়েছিলেন।

আর একটি সবচেয়ে বড় কথা আসাম রাজ্য কে নিয়ে তার একটা বড় আশা ছিল যে, আসামের সাদরি ভাষার সম্প্রসারণে সম্প্রচার বিভাগ এর জন্য মহারাষ্ট্র থেকে সম্প্রচার মেশিন তিনি ক্রয় করবেনএ স্বপ্ন তার কাছে ছিল। এবং প্রশান্ত লহোরা আমাদের আসা’র সভাপতি তাকে সামনে রেখে আসামের সমাজের মধ্যে, উত্তরবঙ্গ জনসমাজের মধ্যে, ঝাড়খন্ড, ওড়িষা, ছত্রিশ গড় , এবং দক্ষিণ বঙ্গে সাদরি ভাষা যতদূর পর্যন্ত ব্যাপ্ত আছে সমস্ত জনসমাজের মধ্যে সাদরি ভাষার সম্প্রসারণ করাবেন । এই ভাষার জন সমাজকে একটা অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবেন। এই ভাষায় খবর পঠন-পাঠন থেকে শুরু করে, সাহিত্য চর্চার ক্ষেত্রে তিনি নব তরঙ্গ তৈরি করবেন । এত বড় মাপের ,এত বড় মানসিকতার, এত বড় চিন্তার সমাহার নিয়ে সারাটা সময় ডুবেই ছিলেন একথা আমরা নিশ্চিন্তে বলতে পারি। এতো স্বপ্ন হৃদয়ে নিয়ে আজ তিনি পাহাড়ি নদীর তীরে চিতা ভষ্ম হয়ে সারা ডুয়ার্স তরাই থেকে সারা সাদরি ভাষার জন সমাজে বিরাজ করবেন।যাবার আগে রেখে গেলেন এক মাত্র পুত্র কে পেরালসিসে আক্রান্ত স্ত্রী কে।আর অগণিত সাদরি ভাষার জন মণ্ডলী কে। তার অমরতা আমাদের কাছে সবসময়ের জন্য থেকে যাবে। আমার সারনা মায়ের কাছে প্রার্থনা করব যেন তিনি স্বর্গবাসী হন। ঈশ্বরের জগতে তিনি পৌঁছে যান। তার স্বপ্ন গুলো যাতে আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি। তার ভাবনা গুলো যাতে আমরা আরও সুদুরপ্রসারী করতে পারি। সেই ফিলিঙ্স টা সেই মানসিকতা টা আমাদের জন সমাজ এবং আগামী প্রজন্ম সবাই বহন করবে আসা’র কেন্দ্রীয় কমিটি সহ উত্তর বঙ্গ কমিটির সভাপতি,সম্পাদক,সহ সাধারণ মানুষের কাছে এইটুকু কামনা করি।

Related Articles

Back to top button