জেলা

দশটি পুরনো প্লাস্টিকের বোতল দিলেই মিলবে নতুন বোতল!

সুন্দরবনকে প্লাস্টিক মুক্ত করার জন্য সরকারি তরফে একাধিক নির্দেশিকা ঘোষণা করা হয়েছিল কিন্তু সেগুলিকে বাস্তবে রূপান্তরিত করা যায়নি।তবে দশটি পুরনো প্লাস্টিকের বোতল দিলেই মিলবে নতুন বোতল! প্লাস্টিক মুক্ত গ্রীন সুন্দরবনের লক্ষ্যে বিশ্ব পরিবেশ দিবসের দিন এমন অভিনব উদ্যোগ নিলেন বারুইপুরের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা।

সুন্দরবনকে প্লাস্টিক মুক্ত করার জন্য সরকারি তরফে একাধিক নির্দেশিকা ঘোষণা করা হয়েছিল কিন্তু সেগুলিকে বাস্তবে রূপান্তরিত করা যায়নি। এখনো সুন্দরবনের বিভিন্ন টুরিস্ট লঞ্চ গুলিতে প্লাস্টিকের ব্যবহার দেখা যায় এবং সুন্দরবনের একাধিক জায়গায় এবং নদীতে প্লাস্টিক চোখে পড়ে। সদ্য ইয়াশ ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত সুন্দরবনে প্রতিদিন প্রতিনিয়ত ত্রাণ সামগ্রী যাচ্ছে সেইসব ত্রাণ সামগ্রী মধ্যে প্রধান হলো পানীয় জলের বোতল । ১ লিটার ২ লিটার থেকে শুরু করে বিভিন্ন পরিমাপের লক্ষ লক্ষ প্লাস্টিকের জলের বোতল ঢুকেছে সুন্দরবনের বিভিন্ন দ্বীপে। সুন্দরবনের মতো দ্বীপে এইসব প্লাস্টিকের প্রভাবে পরিবেশের উপর মারাত্মক ক্ষতি হবে সেটা আশঙ্কা করছেন সাধারণ মানুষ থেকে পরিবেশ বিজ্ঞানীরা! প্রশাসনের তরফ থেকেও এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে সেরকম ব্যবস্থা চোখে পড়েনি। এর মধ্যেই আজ বিশ্ব পরিবেশ বিশ্ব পরিবেশ দিবসে বারুইপুরের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা সুন্দরবনের বিভিন্ন দ্বীপে ঘুরে ঘুরে পুরনো প্লাস্টিকের বোতল সংগ্রহ করছেন এবং কোনো বাড়ি থেকে দশটি পুরনো প্লাস্টিকের বোতল ফিরিয়ে দিলে তারা নতুন একটি স্থায়ী পানীয় জলের বোতল প্রদান করছেন।

বারুইপুরের চম্পাহাটি স্বাস্থ্যমেলা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি নামে এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা সুন্দরবনের বিভিন্ন দ্বীপে দ্বীপ ঘুরে ঘুরে পড়ে থাকা প্লাস্টিকের বোতল সংগ্রহ করছেন এবং সেই সমস্ত দ্বীপে বাড়িতে ঘুরে ঘুরে প্লাস্টিকের বোতল সংগ্রহ করছেন এবং বিনিময় নতুন একটি স্থায়ী পানীয় জলের বোতল প্রদান করছেন। এই সংগঠনের কর্ণধর প্রসেনজিৎ মিস্ত্রি বলেন: কলকাতা থেকে একাধিক সংগঠন কয়েকদিনের মধ্যে লক্ষ লক্ষ পানীয় জলের বোতল সুন্দরবনের মধ্যে এনেছেন। সেই সমস্ত লক্ষ লক্ষ প্লাস্টিকের বোতল গোটা সুন্দরবনের বিভিন্ন দ্বীপে ছড়িয়ে পড়েছে। আগামী দিনে এর ফলে সুন্দরবনের মতো দ্বীপে কতটা ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে সেটা সবাই বুঝতে পারছে। সুন্দরবনে এই মুহূর্তে আর পানীয় জলের অভাব নেই সুতরাং প্রশাসনের উচিত এই মুহূর্তে ১ লিটার ২ লিটার ছোট পানীয় জলের বোতল সুন্দরবনের প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠোর ভাবে নিষেধাজ্ঞা করা হোক। নইলে আগামী দিনে আমরা সুন্দরবনকে বাঁচাতে পারবো না। তিনি বলেন আমাদের সংগঠনের সদস্যরা আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবসে সুন্দরবনকে প্লাস্টিক মুক্ত করবার যে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে আগামী দিনেও চলবে এটি। বিশ্ব পরিবেশ দিবসের দিন বারুইপুরের এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের অভিনব প্রয়াসেকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন সুন্দরবনবাসি থেকে সাধারণ মানুষ এবং পরিবেশ বিজ্ঞানীরা।

Related Articles

Back to top button