জেলা

জয়নগরে ভয়াবহ পথ দূর্ঘটনায় মৃত ৮,আশংকাজনক আরও ১২,ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলো মৃতের পরিবারদের

উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়,জয়নগর : আবার রাতের অন্ধকারে ভয়াবহ পথ দূর্ঘটনা জয়নগরে।রবিবার গভীর রাতে এক পথ দুর্ঘটনায় আট পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হলো। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগণার জয়নগর ২ নং ব্লকের কুলতলি বিধানসভার বকুলতলা থানার সীমানা বাজার এলাকায়। রবিবার রাতে তাঁরা কুলতলি থেকে হাওড়া স্টেশনে যাচ্ছিলেন কেরল যাবার ট্রেন ধরবেন বলে। পথে তাঁদের গাড়িটি নিয়ন্ত্রন হারিয়ে প্রথমে একটি বিদ্যুৎখুঁটিতে ধাক্কা মারে, তারপরে একটি গাছে ধাক্কা মেরে পুকুরে গিয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলেই ছ’জন মারা যান। জখম হন আরও ১৯ জন শ্রমিক। তাঁদের প্রথমে স্থানীয় নিমপিঠ রামকৃষ্ণ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।সেখানে আরও ২ জনের মৃত্যু ঘটে। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় বেশ কয়েক জনের শ্রমিককে চিকিৎসার জন্য বারুইপুর মহকুমা হাসপাতাল ও কলকাতার চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে পাঠানো হয়। মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মৃতদের নাম রফিক শেখ (৮৫), বাবুরালি মিস্ত্রি(২৭), জামাল মল্লিক(৫৫), হাসান মোল্লা(৩০), সাহিদ আলি মোল্লা (২৭), অচিন সেখ(২৫), রসিদ গাজী ও মীরজাহান গাজী ।এদের মধ্যে হাসান মোল্লার বাড়ি মথুরাপুর থানার ডাকাতিয়া গ্রামে।বাকিদের বাড়ি কুলতলি থানার রাধাবল্লভপুর ও মনিরতট এলাকায়। এদের মধ্যে রফিক সেখ,জামাল মল্লিক,বাবুরালি মিস্ত্রি ও হাসান মোল্লা একই পরিবারের সদস্য ছিলেন।করোনা পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকায় ২৫ জন শ্রমিকের দলটি কেরলে যাচ্ছিল কাজে যোগ দিতে।

কুলতলির রাধাবল্লভপুর-মল্লিকপুর এলাকা থেকে একটি বোরেলো পিকআপ ম্যাটাডোর ভ্যানে চেপে তাঁরা রওনা হয়েছিলেন হাওড়া স্টেশন যাবেন বলে। বকুলতলার থানার সীমানার বাজারের কাছে এসে গাড়িটি নিয়ন্ত্রন হারিয়ে দূর্ঘটনার কবলে পড়ে।ঘটনার খবর পেয়েই রাতেই বারুইপুর এসডিপিও অভিষেক মজুমদারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয়। জখম শ্রমিকদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় নিমপিঠ গ্রামীণ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে সেখান থেকে বেশ কয়েকজনকে বারুইপুর ও কলকাতায় পাঠানো হয়।পুলিশ দুর্ঘটনাগ্রস্ত ভ্যানটিকে আটক করে থানায় নিয়ে গিয়েছে।চালক আক্তার মন্ডলকে গ্রেফতার করেছে বকুলতলা থানার পুলিশ।সে মদ্যপ ছিলেন কি না বা তিনি বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে মৃত শ্রমিকদের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ দিকে এই ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল ও মৃতদের বাড়িতে চলে যান কুলতলির বিধায়ক গনেশ মন্ডল।সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেন বারুইপুর পুলিশ জেলার সুপার বৈভব তিওয়ারি সহ একাধিক পদস্থ আধিকারিকগন।এদিন বিকালে সরকারি উদ্যোগে বারুইপুর মহকুমা শাসকের দপ্তর থেকে মৃত সাত জনের পরিবারের হাতে দুলক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরন তুলে দেওয়া হলো। তুলে দিলেন বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়,কুলতলির বিধায়ক গনেশ মন্ডল,জেলা শাসক পি উলগানাথন, বারুইপুর পুলিশ জেলার সুপার বৈভব তিওয়ারি, বারুইপুর মহকুমা শাসক সুমন পোদ্দার সহ আরো অনেকে। -+—–

Related Articles

Back to top button