জেলা

মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, মুর্শিদাবাদ জেলার নশিপুর রেলব্রিজ চালুর আশা জেলাবাসীর

 

রাজেন্দ্র নাথ দত্ত :মুর্শিদাবাদ :
মুর্শিদাবাদ জেলার বাসিন্দারা প্রশাসনিক বৈঠকে নশিপুর রেলসেতু চালুর ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আশার আলো দেখছেন। বুধবার বহরমপুরের রবীন্দ্র সদনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রেল কিছু করবে না। রাজ্যবাসীর জন্য যা করার আমাদের করতে হবে। জেলাশাসক ওখানকার ৪৫টি পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি দেখে নেবেন। দ্রুত কাজ হোক, চাইছেন বাসিন্দারা।

রেলসেতু চালু হলেই পূর্বরেলের হাওড়া-আজিমগঞ্জ এবং শিয়ালদহ-লালগোলা শাখা জুড়ে যাবে। নবাবের জেলা মুর্শিদাবাদ রেলপথে সরাসরি উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে জুড়ে যাবে। একইসঙ্গে মুর্শিদাবাদ জেলার উপর দিয়ে অনেক দূরপাল্লার ট্রেন যাতায়াত করলে অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সামগ্রিক আর্থিক শ্রীবৃদ্ধি ঘটবে বলে মনে করছেন অনেকে।

মুর্শিদাবাদ জেলাবাসীকে উত্তর এবং উত্তরপূর্ব ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে যেতে হলে হাওড়া বা শিয়ালদহে গিয়ে ট্রেন ধরতে হয়। কিন্তু মুর্শিদাবাদ স্টেশন থেকে রেললাইন নশিপুর হয়ে আজিমগঞ্জের সঙ্গে জুড়ে দিলে জেলাবাসীকে ঘুরপথে না গিয়ে মুর্শিদাবাদ থেকে সরাসরি পাটনা, পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় জংশন হয়ে দিল্লি ও উত্তর পূর্ব ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাওয়া যাবে। বিষয়টি উত্থাপন করে ৩০ বছর আগে ১৯৯১ সালে নসিপুর রেলসেতুর দাবি ওঠে। ২০০১ সালের ৪০০মিটার দৈর্ঘ্যের নশিপুর রেলসেতু নির্মাণের অনুমোদন দেয় ভারতীয় রেল।

২০০৫ সালে রেল মাটি পরীক্ষার পর্ব শেষে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১০ সালকে লক্ষ্যমাত্রা রেখে ২০০৬ সালে নশিপুরে ভাগীরথী নদীর উপরে রেলসেতু তৈরির কাজ শুরু হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রেলসেতু নির্মাণের কাজ শেষ করে সেতুর উপর রেললাইন পাতার কাজও শেষ হয়। পরবর্তীতে জমিজট সমস্যায় কাজ বন্ধ থাকে। পরে জেলা ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে জমি জট সমস্যা মিটে যায় এবং কাজ শুরু হয়। ২০১৮সালের ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কাজ চলে। এরপরই জমিদাতা ৪৫টি পরিবার চাকরির দাবিতে আন্দোলনে নামে। বাধ্য হয়ে রেল কর্তৃপক্ষ কাজ বন্ধ করে দেয়। তারপর থেকে প্রায় চার বছর ধরে কাজ বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে।লালবাগের এক হোটেল ব্যবসায়ী বলেন, নশিপুর রেলসেতু মুর্শিদাবাদবাসীর কাছে এক আবেগ। চার বছর আগে রেলসেতু চালু হওয়ার কথা থাকলেও রেলের চাকা গড়ায়নি। আমরা সেই দিনটির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে রয়েছি।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি জেলাশাসকের সঙ্গে রেলের আধিকারিকদের আলোচনা হয়েছে। রেলের পক্ষ থেকে খুব শীঘ্রই বাকি কাজ শেষ করে রেলসেতু চালুর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলা চেম্বার অব কমার্সের যুগ্ম সম্পাদক বলেন, নশিপুর রেলসেতু চালু হলে উত্তর-পূর্ব ভারতের পর্যটকরা সরাসরি মুর্শিদাবাদে আসতে পারবেন। হাওড়া ও শিয়ালদহ হয়ে মুর্শিদাবাদ আসতে হবে না। স্বাভাবিকভাবেই আরও বেশি সংখ্যক পর্যটকরা মুর্শিদাবাদ ঘুরতে আসবেন। তাছাড়া আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য এবং জেলার পর্যটন ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি হবে।

Related Articles

Back to top button