আমিই ঠিক করব কখন কথা বলব: রোনাল্ডো

নিজস্ব সংবাদদাতা : কখনও ছাদের দিকে স্থির দৃষ্টি। কখনও একা একাই হাসলেন। সমালোচকদের তাচ্ছিল্য ফিরিয়ে দিতে। কখনও আবার ঠৌঁট উল্টে বোঝালেন, ‘আপনাদের আর কবে কাণ্ডজ্ঞান হবে!’ ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। শর্ট পমপ্যাডর হেয়ারস্টাইল। কানে হীরের ছোট্ট ক্রস। শক্ত চোয়াল, দৃঢ় মনোভাবের যথার্থ ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর। যা, যা বললেন মনে ছাপ রাখবে গভীর।
রোনাল্ডো : সময় মানে আমার সময়। কখন কথা বলব, সেটা আমিই ঠিক করব। লোকে কী ভাবছে তাতে আমার কিছু যায় আসে না। বিশ্বাস করি, জাতীয় দলের ওপর এই ঘটনার কোনও প্রভাব পড়বে না। দলের প্রতিটি প্লেয়ার, কোচ, কিট ম্যান সবাই জানে আমি কেমন। আমার যখন ১১ বছর বয়স, তখন থেকে ওরা আমাকে দেখছে। ফলে আমার সম্পর্কে কে, কী বলছে, লিখছে তার দ্বারা ওরা প্রভাবিত হবে না।
আমাদের দলের পরিবেশ দুর্দান্ত। কোথাও কোনও সমস্যা নেই। প্রত্যেকে লক্ষ্যে স্থির। সাংবাদিকদের বলছি, আপনারা আমাকে একটা ব্যাপারেই সাহায্য করতে পারেন। আমাকে নিয়ে চর্চা করা বন্ধ করে দিন। জেনে রাখুন, আমি বুলেট–প্রুফ। সারাক্ষণ লৌহবর্ম পরে থাকি। তাই কোনও সমালোচনাই আমাকে ছুঁতে পারে না। আপনারা যদি, আমাকে নিয়েই ক্রমাগত প্রশ্ন করেন পর্তুগালের অন্য প্লেয়ারদের তা হলে আমি তো বিরক্ত হবই।
বিশ্বকাপের সম্ভাবনা নিয়ে ওদের কাছে জানতে চান। পর্তুগাল টিম নিয়ে প্রশ্ন করুন। ঘুরে–ফিরে আমাকে নিয়ে প্রশ্ন করছেন কেন? দেখে শুনে মনে হয়, রোনাল্ডো মানেই আপনাদের কাছে বিতর্কের ইন্ধন! এটা কেন হবে? ব্রুনো ফার্নান্ডেজের সঙ্গে আমার সম্পর্ক? ওর সঙ্গে দেখা হওয়ার পর রসিকতা করেছিলাম। আসলে লিসবনে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শিবিরে ও দেরিতে পৌঁছেছিল। তা নিয়েই ওকে মজা করে জিজ্ঞেস করেছিলাম, বিমান দেরি করেছে তো কী? তুমি তো নৌকায় আসতে পারতে। আমরা রসিকতা করছিলাম। আর মিডিয়া সেটা নিয়েই ঝড় তুলে দিয়েছিল!
জানি, আমি বিশ্বকাপ জিতে গেলেও, সমালোচনা থামবে না। বিতর্ক নিয়ে চর্চা চলবে। আসলে কিছু মানুষ আমাকে পছন্দ করেন, কিছু মানুষ একেবারেই করেন না। জীবনে পছন্দ–অপছন্দের ব্যাপারটা এরকমই। চাপ সবসময়ই এরকমই থাকে। খুব ছোট বয়স থেকে আমি এই চাপ সামলাচ্ছি। কখনও খুব ভালভাবে চাপ সামলেছি, কখনও পারিনি। আসলে আমি নিখুঁত নই। কোনও মানুষই নিখুঁত হতে পারে না। তবে দায়িত্ব, চাপ নেওয়ার জন্য আমি সবসময়ই তৈরি থাকি। ফাইনাল যদি আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে হয়? মেসিকে চেকমেট দিতে চাইব। দেখা যাক। যদি সেটা হয় ভালই হবে। চেস খেলায় যেমন চেকমেটের মুহূর্তটা দাগ কেটে যায়, ফুটবলেও যদি এরকম মুহূর্ত তৈরি হয় তাহলে তা অসাধারণ হয়েই থাকবে।



