খেলাধুলা

আক্রমণাত্মক ফুটবলেই জয়ের রাস্তা খুঁজছেন বাগান কোচ ফেরান্দো

নিজস্ব সংবাদদাতা: অ্যাওয়ে ম্যাচ। তবু রক্ষণ নয়, আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে চায় মোহনবাগান। স্ট্র্যাটেজিতে বদল আনতে নারাজ বাগানের স্প্যানিশ কোচ। বরং আক্রমণাত্মক ফুটবলে বিপক্ষকে ছারখার করেই ঘরের মাঠে নামার লক্ষ্য হুগো বোমাস, দিমিত্রি পেত্রাতোসদের। গতবছর প্লে অফে হায়দরাবাদের কাছেই হেরে বিদায় নেয় সবুজ-মেরুন। এ বারও সেমিফাইনালে সামনে হায়দরাবাদ‌। প্রথম পর্বের ম্যাচে বিপক্ষের ডেরা থেকে পয়েন্ট ছিনিয়ে আনতে মরিয়া মোহনবাগান। বদলার ম্যাচের আগে চার্জড আপ প্রীতমরা। যদিও বোমাসরা মুখে সেই কথা বলছেন না। যুবভারতীতে অনুশীলন করেই হাইভোল্টেজ সেমিফাইনাল খেলতে হায়দরাবাদ উড়ে গেল মোহনবাগান। মেগা ম্যাচে হায়দরাবাদের ওগবেচের খেলা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। তবে গত বারের আইএসএল চ্যাম্পিয়নদের দলে তারকার অভাব নেই। শুধু ওগবেচে নন, হায়দরাবাদের এগারো জনকে নিয়েই ভাবছেন ফেরান্দো। সেই মতো ছক সাজিয়ে রেখেছেন। আক্রমণ আর রক্ষণ মোহনবাগানের দুটো বিভাগই বেশ নজর কেড়েছে। প্রথম সেমিফাইনালে ধারাবাহিকতা দেখাতে তৈরি সবুজ-মেরুন শিবির।

শেষ দুটো ম্যাচেই সেট পিস থেকে গোল পেয়েছে মোহনবাগান। তাহলে কি ফেরান্দোর স্ট্র্যাটেজি কাজ করছে? বাগান কোচের উত্তর, ‘এর আগেও আমরা প্রত্যেক ম্যাচে প্রচুর সেট পিস পেয়েছি। তবে সেগুলোকে কাজে লাগাতে পারিনি। শেষ দুটো ম্যাচে সেট পিস থেকে গোল এসেছে। যে কোনো কাজেই সফল হলে ভালো লাগে। প্রত্যেক ম্যাচে আলাদা আলাদা পরিস্থিতি থাকে। তাই সেই মতো ভাবতে হয়।’

বিপক্ষের ডেরা থেকে পয়েন্ট ছিনিয়ে আনার জন্য কি রক্ষণ আগলে দল এগোবে? ফেরান্দোর উত্তর, ‘অবশ্যই প্রথম লেগ থেকে আমরা চাইব পয়েন্ট নিয়ে ফিরতে। গত বছর প্রথম পর্বে ১-৩ হারের খেসারত আমাদের দিতে হয়েছিল। তবে অ্যাওয়ে ম্যাচ হলেও রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলতে চাই না। আক্রমণই আমাদের অস্ত্র। সারা বছর যে ফুটবলটা খেলি, সেটাই খেলতে চাই সেমিফাইনালে।’

কেরালা ব্লাস্টার্স-বেঙ্গালুরু ম্যাচের ‘বিতর্কিত’ গোলের প্রসঙ্গ অবশ্য এড়িয়ে গেলেন ফেরান্দো। শুধু বললেন, ‘সুনীল ছেত্রী, আদ্রিয়ান লুনা, রেফারি ক্রিস্ট্যাল জন বলের কাছে ছিল। ওরাই জানে ঠিক কী হয়েছিল।’ একই সঙ্গে তিনি বললেন, ‘ভারতীয় ফুটবলে রেফারির ভুল এর আগেও অনেক বার হয়েছে। লাইন্সম্যান এক সিদ্ধান্ত দিয়েছে, রেফারি আর এক সিদ্ধান্ত দিয়েছে। এগুলো হয়ে থাকে।’ সেমিফাইনালের মতো মেগা ম্যাচের আগে নিজের দলকেও মানসিক ভাবে সতর্ক রাখছেন ফেরান্দো। বলতে ভুললেন না, ‘আমার ছেলেদেরও বলব আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে। এসব ম্যাচে শারীরিক নয়, মানসিক ভাবে প্রস্তুত থাকাটা খুব জরুরী। তাই রেফারির কোনও খারাপ সিদ্ধান্তে মাথা গরম করলে তার ফল অন্যরকম হতে পারে।’

ফাইনালে উঠলে কাকে চান ফেরান্দো? বেঙ্গালুরু এফসি না মুম্বই সিটি এফসি? বাগান কোচ বললেন, ‘দুটো দলই খুব ভালো খেলছে। মুম্বই লিগ শিল্ড জিতেছে। বেঙ্গালুরু শেষ ৭টা ম্যাচে অপ্রতিরোধ্য। ওদের দেখে উদ্বুদ্ধ হচ্ছি। কী ভাবে ওরা এই টুর্নামেন্টে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তবে ফাইনালে যেই উঠুক, আমাদের কাছে তা কঠিনই হবে। এখন হায়দরাবাদ ম্যাচ নিয়েই ভাবছি।’

Related Articles

Back to top button