রাজ্য

ফালাকাটা মুজনাই নদী থেকে উদ্ধার হল এক ব্যক্তির মৃতদেহ,ঘটনায় চাঞ্চল এলাকায়

 

হরেকৃষ্ণ মন্ডল,ফালাকাটা:বেশ কিছু দিন হল মুজনাই নদীতে এক যুবক মাছ ধরতে গিয়ে নদীর জলে তলিয়ে যায়।অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও তার খোঁজ মেলেনি বলে জানা যায়।সেই রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও বুধবার ওই মুজনাই নদীতেই,নদী পারাপার হতে গিয়ে যুবক নদীর জলে তলিয়ে যায়।প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে গিয়ে ওই যুবকের সন্ধান মিলে কিন্তু ততক্ষণে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে।সময়টা ছিল বুধবার।
ভোর বেলায় তখনও ঘাটে নামেনি নৌকা।অগত্যা উপায় না পেয়ে থার্মোকলের ভ্যালায় চেপেই উত্তাল মুজনাই নদী পার হচ্ছিলেন ওই ব্যক্তি।কিন্তু মাঝ নদীতে ভ্যালা থেকে পড়ে যান তিনি।প্রায় ৬ঘন্টা পর তিন কিলোমিটার দূরে অন্য এলাকা থেকে ওই ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার হল।বুধবার সকালে এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে ফালাকাটা পুরসভার ১৭নম্বর ওয়ার্ডের বড়ডোবায়।ফালাকাটা থানার আইসি সমিত তালুকদার জানান,মৃত ব্যক্তির নাম আনন্দ ভট্টাচার্য(৪৫)পেশায় তিনি একজন সব্জি বিক্রেতা।তবে কি ঘটেছে বুধবার বড়ডোবাতে? স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে থেকে জানাগেছে,অন্যদিনের মতো এদিনও আনন্দ ভট্টাচার্য শাক-সব্জি নিয়ে ফালাকাটা হাটখোলা সুপার মার্কেটের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।ভোর তখন প্রায় সাড়ে ছয়টার মতো।ঘাটে অবশ্য তখনও নৌকা চলাচল শুরু হয়নি।তবে ঘাটে একটি থার্মোকলের ভ্যালা বাঁধা ছিল।কম জল থাকলে সাধারণ মানুষ ওই ভ্যালা দিয়েও নদী পাড়াপাড় হন।কিন্তু এখন উত্তাল নদী।জল ভরপুর থাকায় নৌকা ছাড়া যাতায়াত করেন না।এই অবস্থার মধ্যেও মৃত আনন্দ ভট্টাচার্য এদিন নাকি ওই ভ্যালা নিয়ে নিজেই নদী পাড়াপাড় হচ্ছিলেন।কিন্তু হঠাৎ মাঝ নদীতে এসে ভ্যালা থেকে পড়ে যান তিনি।তার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।এদিকে ঘটনার পরেই মৃত ব্যক্তির আত্মীয় প্রশাসনের সাহায্যের জন্য সব জায়গায় যোগাযোগ করেন।খবর দেওয়া হয় সিভিল ডিফেন্সের টিমকে।আলিপুরদুয়ার থেকে প্রায় সাড়ে১০টা নাগাদ সিভিল ডিফেন্সের টিম এসে পৌঁছায়।তারা নদীতে স্পিড বোর্ড নামিয়ে তল্লাশি শুরু করে।প্রায়১ঘন্টার উপরে তারা মুজনাই নদীতে দেহ খোঁজার কাজ চালিয়ে যান।এদিন বেলা১২টার পর অবশ্য আনন্দ ভট্টাচার্যের নিথর দেহ বড়ডোবা অধিকারী কলোনীর থেকে প্রায় ৩কিলোমিটার দূরে গিয়ে পান।বোর্ডে করেই তারা ওই মৃতদেহ তুলে নিয়ে আসেন।এদিকে নদীতে পড়ে এভাবে ওই ব্যক্তির মৃত্য কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না বাসিন্দারা।মৃত আনন্দ ভট্টাচার্যের পরিবার সহ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।এলাকাবাসীরা জানান বড়ডোবা থেকে ফালাকাটা শহরে আসার যোগাযোগের জন্য,খুব শীঘ্রই ব্রিজ তৈরীর দাবি রাখেন তারা।

Related Articles

Back to top button