হেদিয়ায় ফের আতঙ্ক! সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় সরদারের বাড়ির পিছনে গুলি চলার অভিযোগ, সিআইডি তদন্ত ও নিরাপত্তার দাবি
নিজস্ব সংবাদদাতা, জীবনতলা: দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলা থানার হেদিয়া গ্রামে ফের অশান্তির আশঙ্কা ঘনিয়ে এসেছে বলে অভিযোগ। গত ৩ জুলাই রাত প্রায় ৯টা ৫৪ মিনিট থেকে ১০টার মধ্যে দৈনিক কাগজের সম্পাদক, লেখক ও সমাজকর্মী মৃত্যুঞ্জয় সরদারের বাড়ির পিছনে একাধিক রাউন্ড গুলি চলার অভিযোগ ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। খবর পেয়ে জীবনতলা থানার ওসি ত্রিদিব কুমার মল্লিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিদর্শন করেন এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেন।
মৃত্যুঞ্জয় সরদারের অভিযোগ, দীর্ঘ ২২ বছর ধরে সমাজের বিভিন্ন অসঙ্গতি, দুর্নীতি ও সমাজবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে লেখালেখি করার জেরেই তাঁকে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, প্রাণনাশের হুমকি, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা এবং ভয় দেখানোর ঘটনা দীর্ঘদিন ধরেই চলছে।
সম্পাদকের আরও দাবি, ভোট গণনার পর এলাকায় রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন এসেছে। তাঁর অভিযোগ, আগে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত থাকা কয়েকজন ব্যক্তি বর্তমানে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। পাশাপাশি, জেলার একাংশের স্বয়ংসেবক ও বিজেপির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে ওই ব্যক্তিদের সহায়তা করার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনও সরকারি মন্তব্য করা হয়নি।
মৃত্যুঞ্জয় সরদারের দাবি, তাঁর বাড়ির পিছনে গুলি চলার ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে চলা ভয় প্রদর্শনের ধারাবাহিক অংশ। তাঁর আশঙ্কা, দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নিলে যে কোনও সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। শুধু তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তাই নয়, গোটা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও অবনতি হতে পারে বলে তিনি দাবি করেছেন।
এই ঘটনার পর তিনি সমগ্র ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে সিআইডি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, প্রাণনাশের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে অবিলম্বে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা প্রদানের আবেদনও করেছেন। তাঁর বক্তব্য, একজন সাংবাদিক ও সম্পাদক হিসেবে সত্য প্রকাশের দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই তিনি বারবার হামলা ও হুমকির মুখে পড়ছেন।
অন্যদিকে, জীবনতলা থানার পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে। গুলি চলার অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা, এর নেপথ্যের কারণ এবং কারা জড়িত থাকতে পারে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।



