ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের রাহুমুক্তি ঘটাতেই চাই অর্ণবদের মত সাংবাদিকদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি
মিঃনিরপেক্ষ–ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের রাহুমুক্তি ঘটাতে হলে অর্ণব গোস্বামীর মত সাংবাদিকদের জেলেই আসল জায়গা হওয়া উচিত।অন্তত আমার সে রকমটাই মনে হয়।সম্প্রতি একটি জাতীয় টিভি চ্যানেলের কর্ণধার অর্ণব গোস্বামীকে মহারাষ্ট্র সরকারের পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
যেখানে তার বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেবার অভিযোগ আনা হয়েছে এবং খুব স্বাভাবিক ভাবেই তাকে অজামিনযোগ্য ধারায় বন্দি বানানো হয়েছে।ঘটনা হল ২০১৮ সালে একটি অভিযোগের ভিত্তিতে এদিনে মহারাষ্ট্র পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।যেখানে এফ আই আরে বলা হয়েছে যে অর্ণব গোস্বামী উক্ত সময়কালে তার অফিসের ইন্টিরিয়ার ডেকরেশানের জন্য এক ব্যাক্তিকে বরাত দেন,যা প্রায় পাঁচ কোটি টাকার মত।
ওই কাজে বরাত পাওয়া ইন্টিরিয়ার ডেকরেশানের মালিক অনভয় নায়েক ও তার মা কুমুদ নায়েকের অর্ণব গোস্বামীর কাছে পাওনা টাকা প্রায় ৮৪ লক্ষ টাকা স্রেফ ক্ষমতার জোরে তিনি চিটিং করেন।যা নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার বারবার দরবার করেও কোন ফল না হওয়ায় বাধ্য হয় মা ও ছেলে একসঙ্গে আত্মহত্যা করতে।
এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বিচারের জন্য বারবার পুলিশ প্রশাসনের দরজায় হত্যে দিলেও তাদেরকে কোনভাবেই গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।কারণ তখন মহারাষ্ট্রে শিবসেনা বিজেপি জোট ক্ষমতায় ছিল।বিজেপির পেয়ারের এই রিপোর্টারকে বাঁচতে তাই সেদিন বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ পুরো অভিযোগেই জল ঢেলে দিয়েছিল।
যাই এবারের নতুন করে উন্মোচন করেছে এই মহুর্তে মহারাষ্ট্রে বিজেপির পয়লা নম্বর শত্রু শিবসেনার কংগ্রেস জোট সরকার।যেখানে সম্প্রতি এই রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী উদ্ভোব ঠাকরেকে খুবই অপমানজনক ভাবে চ্যানেলে বসে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নিজের অপরিসীম ধৃষ্টতার পরিচয় দিয়েছিল অর্ণব গোস্বামী।
বলা বাহুল্য রিপাবলিকান টিভির এই সাংবাদিক(আদৌ যাকে সাংবাদিক বলা যায় কিনা তাই নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন তোলা যেতেই পারে)গত ছয় বছর ধরে প্রকাশ্যে যেভাবে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের দালালি করে গেছেন তা যে সংবাদ মাধ্যমের সমস্ত রীতিনীতিকে উলঙ্ঘন করেছে যাকে শুধু হলুদ সাংবাদিকতাই বলা যায়।প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে দেশের শাসকদলের হয়ে নগ্ন প্রচার থেকে মিথ্যা ,অতিরঞ্জিত,খবর দেখানো যা মাঝে মধ্যে শালীনতাকেও টপকে গেছিল।
যেখানে সোনিয়া গান্ধী থেকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী এক কথায় বিজেপি বিরোধী সমস্ত দল ও ব্যাক্তিদের সম্পর্কে অবিরাম কুৎসা অপপ্রচার করে চলেছিলেন।যা কোনভাবেই সংবাদ মাধ্যমের কাজ হতে পারে না।সবচেয়ে বড় কথা এই চ্যানেলে বসে অভিযুক্ত অর্ণব গোস্বামী দিনের পর দিন সাম্প্রদায়িক ওসকানি দিয়ে গেছেন।
লকডাউনের পর দিল্লির নিজামুদ্দিন তবলিকিতে অংশগ্রহণ করতে আসা মুসলিমদের সম্পর্কে অপমানজনক ভাবে করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর দায়ে অবিরাম প্রচার চালিয়ে দেশের হিন্দু সম্প্রায়কে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলতেন যা সবাই দেখেছে।যারা জামিয়া মিলিয়া ইউনিভার্সিটিতে ঢুকে পুলিশের সন্ত্রাসকে প্রাকাশ্যে সমর্থন করে এক পেশে নিউজ পরিবেশন করে গিয়েছে।
সত্যি কথা বলতে ভারতবর্ষের সংবাদ মাধ্যমের দুনিয়াতে এত নিম্নমানের পক্ষপাত মুলক সাংবাদিকতা অতীতে কেউ দেখেননি যা এই দেশে অর্ণব গোস্বামী এন্ড কোম্পানি দেখিয়েছে।একথা বলা অন্যায় হবে না যে সৎ সাংবাদিকতার কারণেও আমাদের দেশে বহু সাংবাদিককে জেলে যেতে হয়েছে বা এখনো হয়।
মাত্র কিছুদিন আগেই আমাদের রাজ্যের একটি নিউজ পোর্টাল চ্যানেলের মালিককে কিভাবে পুলিশ দিনের পর দিন হয়রানি করেছে তা অনেকেই জানে।যেখানে পুরো পরিবারটিকে জেলে ভরে দিতেও বাধেনি বর্তমান মা মাটি মানুষের পুলিশ প্রশাসনের।আমরা দেখেছি গৌরি লঙ্কেশের মত সৎ সহসী সাংবাদিককে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করতে।
যেখানে উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন ঘটনায় প্রকাশ্যে সাংবাদিক হত্যা এখন নিত্যদিনের ব্যাপার।তবুও মানুষের কাছে শেষ আসা ভরসা হল সাংবাদিকরাই।যেখানে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস থেকে বিচার ব্যবস্হার যেকোন অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে একমাত্র সাংবাদিকরাই হল গণতান্ত্রিক দেশের একমাত্র আশা ভরসা।অথচ সেই মহান পেশাটাকে একপ্রকার দালালির পর্যায়ে নামিয়ে এনে তার ব্যাপচ্ছেদ ঘটাচ্ছিলেন এই কুলাঙ্গার সাংবাদিক।
তাই আজ সংবাদ জগতের একজন ক্ষুদ্র পত্রিকার সাংবাদিক হয়েও আরো একজন সাংবাদিকের হেনস্হা দেখেও বলতে পারছি না যে মহারাষ্ট্র পুলিশ যা করেছে তা অন্যায়।বরং বলতে বাধ্য হচ্ছি এই যে অর্ণব গোস্বামীর এই গ্রেফতারের পর কিছুটা হলেও সংবাদ মাধ্যমের রাহুমুক্তি ঘটবে।যেখানে ভুলভাল দালালি যুক্ত সংবাদ পরিবেশনের আগে এবার অনেকেই দুবার ভাববেন।




