মতামত

নির্বাচনের রাজনীতিতে অসম্ভব বলে কিছু নেই

নির্বাচনের রাজনীতিতে অসম্ভব বলে কিছু নেই

মৃত্যুঞ্জয় সরদার : বাংলার রাজনীতি কেন ভারতবর্ষের রাজনীতিতে অসম্ভব শব্দটির গুরুত্ব অনেক বেশি, তাই এককথায় বলা যায় রাজনীতিতে অসম্ভব বলে কিছু নেই। ভারতবর্ষে অন্যান্য রাজ্যের তুলনায়ও বাংলাতে ভোটের বলি অনেক বেশি। এর মূল কারণ বিশ্লেষণ করলে রামায়ণ ও মহাভারত হয়ে যাবে। এই জঘন্য থেকে জঘন্যতম রাজনীতির জন্য দায়ী উচ্চতম নেতৃত্বরা। প্রতিটি রাজনৈতিক নেতারা হিংসার বীজ বপন করে চলেছে দীর্ঘদিন ধরেই বাংলায় ,আর তার জন্য এতক্ষণ খারাপই রাজধানী ও মানুষের উপর অকথ্য অত্যাচার। গ্রাম গঞ্জের রাজনীতিতে এতটাই হিংসাত্মক মনোভাব এবং সৎ ও নিষ্ঠাবান মানুষের প্রতি অবিচার, অত্যাচা,র, অনাচার অব্যাহত। এর হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না গ্রাম গঞ্জের সাংবাদিকরাও। সৎ নিষ্ঠাবান সংবাদিক দের বরাবর সত্য কথা বলার জন্য যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসুক না কেন তাদের প্রতি অবিচার অত্যাচার এবং যত রকম অবিচার আছে তারা করেই চলেছে। প্রতিটি গ্রাম গঞ্জের একশ্রেণীর নেতারা যাদের দু’বেলা দু’মুঠো অন্ন না তারা আজ টিএমসির জামানায় কোটিপতি হয়েছে, একথা ধ্রুব সত্য ।

অন্যদিকে সৎ মানুষগুলো ও চলে গেছে এই যদি বাংলার কালচার হয় তাহলে আগামী দিনে বাংলার জন্য আর কি অপেক্ষা করছে তা দেখতে চলেছে বাংলার মানুষ।চলতি মাসেই শেষ হতে চলেছে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ পর্ব। তারপরেই ২মে হবে ভোটগণনা ও ফলপ্রকাশ। অনুমান করা হচ্ছে মে মাসের মাঝামাঝি সময়েই মধ্যেই বাংলায় নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে। তবে এই ভোটপর্ব মিটলেই বাংলায় আবার একটি ভোটপর্ব শুরু হওয়ার সম্ভাবনা ছিল যা এখন কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কায় কার্যত চূড়ান্ত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বাংলার বুকে শতাধিক পুরসভায় নিত্যদিনের কাজকর্ম চালাচ্ছে প্রশাসক বোর্ড। আদালতের নির্দেশে ওই সব প্রশাসক বোর্ড থেকে সব ধরনের রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সরিয়ে দিয়ে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়ে প্রশাসক বোর্ড গঠন করা হয়েছে। রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের পরেই এই সব পুরসভায় ভোট করানোর পরিকল্পনা ছিল রাজ্য সরকারের যা তাঁরা সুপ্রিম কোর্টকেও জানিয়েছিল। কিন্তু এখন যেভাবে রাজ্যে কোভিডের দাপট ফের শুরু হয়ে গিয়েছে তাতে করে এই পুরনির্বাচনের সম্ভাবনা এখন আবারও বিশ বাঁও জলে চলে গিয়েছে।তবে আমরা সবাই জানি রাজনীতিতে অসম্ভব বলে কিছু নেই। তাই এই লেখাটা ভিন্ন দেশের রাজনীতিক নেতা ও আমলাদের ভূমিকা নিয়ে সূচনা করার একটাই উদ্দেশ্য যে, আমরা কিছুকাল আগে থেকে শুনতে পাচ্ছি, দেশের উন্নয়নকে একটা নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছে দেয়ার প্রচেষ্টা চলছে। কিন্তু আমাদের সরকার আর আমলাদের কি সে জন্য ষোলোআনা প্রস্তুতি ও পারঙ্গমতা রয়েছে, নাকি তা অর্জনের জন্য কোনো কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এ কথা অবশ্যই স্বীকার করছি, করোনা আমাদের অনেক পিছিয়ে দিয়েছে এবং এখনো তা আমাদের পিছু ছাড়েনি, তারপরও ঘরে বসে তা নিয়ে আমাদের সবার কতটা ‘হোম টাস্ক’ হয়েছে? আমাদের মিডিয়া যেহেতু সব কথা বলতে পারে না বলে অভিযোগ রয়েছে, সম্ভবত সে জন্য মিডিয়াও আমাদের এ সম্পর্কে হালনাগাদ কোনো তথ্য দিয়ে ওয়াকিবহাল করতে পারছে না। মিডিয়া প্রসঙ্গে আর কিছু কথা বললে হয়তো অতিরিক্ত বলা হবে না। কারণ উন্নয়নের সাথে হাজারও অর্থ ও তথ্যের সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে উন্নয়ন ও তার সাথে অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। সেখানে হিসাব-নিকাশের বেশুমার তথ্য জড়িত থাকে।

এদিকে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন ধীরে ধীরে অনেকটাই হয়ে গেল। সবথেকে দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হল, আট দফায় ভোট হওয়ায় সবচেয়ে বেশি সময় নিয়ে ভোট হচ্ছে এই পশ্চিমবঙ্গে। এদিকে আবার করোনার দ্বিতীয় ঝড় উঠেছে! হাজার হাজার মানুষআক্রান্ত হচ্ছেন। জনসভায় রাজনৈতিক নেতারা যখন ভোট প্রচারে ব্যস্ত তখন দেখাযাচ্ছে, তাঁর চারপাশের মানুষেরা অধিকাংশই মাস্ক ছাড়া ঘোরাঘুরি করছেন। টানা দু’মাসধরে পশ্চিমবঙ্গের জেলায় জেলায় ঘুরে, করোনা সচেতনতার কোনও পরিচয় অন্তত আমার চোখে পড়ল না। সেই কারণে বলছি জনগণকে সব কিছু কড়ায় গণ্ডায় বুঝিয়ে দেন। আর আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের হালটা কী তা আর কাউকেই বোঝানোর দরকার পড়ে না। কেননা, কেবল ভোটের সময়ই তাদের চেহারা দেখা যায়। তারপর আর তাদের কোনো হদিস পাওয়া যায় না। অন্য দিকে
জনগণকে প্রকল্পের যে ধারণা আমাদের প্রশাসনের কাছ থেকে আমরা পেয়েছি এবং কিছু প্রকল্প স্বচক্ষে দেখছি এসব থেকে আমাদের এই ধারণাই জন্মেছে যে, বড় বড় সব মেগা প্রকল্পের আরও কাজ শুরু হবে।

 

কিন্তু আমরা সাধারণ মানুষের উন্নয়নের সূচনাটা কী করে, কেমন ভাবে শুরু হবে? বিশ্বে কোথায় কিভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে? এসব বিষয় সম্পর্কেও অনেকেরই ধারণা থাকার কথা নয়। তাই বারবার বলছি, এবারের নির্বাচন একটা অভূতপূর্ব নির্বাচন! এককথায় বলা যায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এর চেয়ে কঠিন নির্বাচন এর আগে কখনও আসেনি। তাঁর জন্যে এটা একটা মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ কেন্দ্রের ক্ষমতায় বিজেপি থাকার ফলে, শুধু তো কেন্দ্রের সরকার নয়, নির্বাচন কমিশন, সব রাজ্যের সংবাদ মাধ্যম, গোয়েন্দা এজেন্সি এবং অন্যান্য সমস্ত পরিকাঠামো বিজেপির পক্ষে থাকে।তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন বাংলার লড়াকু নেত্রী।সেইসময় বামফ্রন্ট শাসন চলছে। জ্যোতি বসু তখন মুখ্যমন্ত্রী। সময় কতো বদলে গেছে! পরিস্থিতি বদলে গেছে! বাজপেয়ী-আডবাণীর পরে এসেছে মোদি এবং অমিত শাহের যুগ। মোদি এবং অমিত শাহের এই যুগে রাজনৈতিক রণকৌশলটাও বদলে গেছে। ভোট করার জন্য নরেন্দ্র মোদি যেভাবে সর্বশক্তি দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের আসরে নেমেছেন, তা এককথায় অভূতপূর্ব! নরেন্দ্র মোদিকেও প্রশংসা করতেই হবে যে, তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েও তিনি যেন একটা ইলেকশনের মেশিন এবং তিনি হলেন ইঞ্জিন। তার সঙ্গে তাঁর সহকারী অমিত শাহের তো কোনও তুলনাই হয় না, যেভাবে তিনি আক্রমণাত্মক রাজনীতিটা করেন!মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোবল ভেঙে দেওয়ার জন্য মনোস্তাত্ত্বিক লড়াইতেও বিজেপি অসম্ভব পটু। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে যেভাবে মতুয়া ভোট, হিন্দু- মুসলমান ভোট, গোর্খা ভোট, আদিবাসী ভোট নিয়ে যা হচ্ছে, এটা কিন্তু আগে কখনও হয়নি। এটা সত্যি দুর্ভাগ্যজনক! আপনি বলবেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী করেন নি? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমন কিছু করেছেন, যাতে সিপিএম-কে নাকানি-চোবানি খেতে হয়েছিল। শ্যামল চক্রবর্তীর মতো সিপিএম নেতা বলেছেন, মমতা’দির মতুয়া রাজনীতিতে আমরা একেবারে হিমসিম খেয়ে যাচ্ছি।

 

এখন আমাদের মতুয়া প্রার্থী খুঁজতে ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে। আমরা শ্রেণী রাজনীতি করেছি। মতুয়াদের যে আলাদা ভোটব্যাঙ্ক হতে পারে, তা ভাবিনি। মমতা সেটা করেছেন। এখন ওঁর থেকেও বেশি করে শুরু করেছে বিজেপি।তাই আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় আইডিয়া তৈরির মাধ্যমে কীভাবে চিন্তাশক্তিকে কাজে লাগানো যায়, সেটি নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। আমরা যদি প্রকৃতির দিকে আগ্রহ নিয়ে তাকাতে পারি তবে প্রকৃতি থেকে আমরা নতুন নতুন ধারণা তৈরি করতে পারব। যেমন একটি গাছকে চিকিৎসাবিজ্ঞান, বায়োফুয়েল, সেলুলোজ, কাগজ, বায়োলুব্রিকেন্ট, ন্যানোফাইবার, ম্যাটেরিয়ালসহ বিভিন্ন কাজে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। কেবল দরকার একটার পর একটা আইডিয়া তৈরি করে সেটাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা। আমাদের তরুণ প্রজন্মকে বলব, তোমরা তোমাদের সৃষ্টিশীল দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে উদ্ভট কিংবা বাস্তব যে কোনো ধরনের ধারণা তৈরি করার মনোভাব গড়ে তোলো। কারণ ভাবনাটা উদ্ভট না হলে সৃষ্টিটাও নতুন হয় না।

আজ যেটা নতুন ভাবনা, সেটা আগামী দিনের গবেষণার সম্ভাবনা। পাখি নিয়ে না ভাবলে উড়োজাহাজ কিংবা রকেট তৈরি হতো না। মনের টানকে অনুভব না করলে মানুষ তথ্য, প্রযুক্তি ও যোগাযোগের আধুনিক ধারণা তৈরি করতে পারত না। টিকটিকির দেওয়াল বেয়ে চারপাশে ঘুরতে না দেখলে মানুষ রোবট কিংবা নিজেদের চারপাশে ঘোরানোর প্রযুক্তি তৈরি করতে সক্ষম হতো না। মানুষ চাঁদকে ভালো না বাসলে চাঁদে ও বিভিন্ন গ্রহে যাওয়ার মতো প্রযুক্তি গড়ে তুলতে পারত না। মানুষ পারে না, এমন কিছু পৃথিবীতে নেই। যে যেভাবে পারি সেভাবে ভাবতে থাকি। হয়তো এ কাল্পনিক ভাবনাগুলো একদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভালো ফল করতে পারেন তবে এটা হবে তাঁর বিরাট একটা জয়! যদি মোদিকে পরাস্ত করতে পারেন তবে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে, সর্বভারতীয় রাজনীতিতেও মমতা কয়েকধাপ এগিয়ে যাবেন। এছাড়া তিনি পশ্চিমবঙ্গে রাজনীতিকে তো সুসংহত করবেনই, দিল্লিতেও আগামী দিনে একজন নেতা হিসেবে উঠে আসবেন। যদি হেরে যান তাহলে মোদির পক্ষে সুবিধে হবে এবং ২০২৪টা অনেক সহজ হয়ে যাবে। তিনি পশ্চিমবঙ্গ জয়টাকে মূলধন করে হই হই করে আরও জয়যাত্রা চালাবেন। সমস্ত অর্থনৈতিক সমস্যা, করোনার সমস্যা, সবকিছুকে ভুলিয়ে দিয়ে এই জয়টাকে তিনি তুলে ধরতে চাইবেন।সবশেষে একটা কথা বলব, এবারের ভোটে মমতার জন্য আরো বেশি কঠিন চ্যালেঞ্জ এইজন্য যে, বিজেপি কিন্তু ক্ষমতায় নেই। বিজেপির জন্য ভালো বিজেপি যদি জিততে পারে তাহলে খুব ভালো, যদি জিততে না পেরে, ভালো ফল করতে পারে তাহলেও খুব ভালো। কেননা, বিজেপি এই মুহূর্তে বিধানসভায় এমএলএ আছেন তিনজন। লোকসভায় ১৮টা হওয়াতে উচ্চাশা বেড়েছে। তিন থেকে যদি একশো হয় তাহলে সেটা
মোদীর মনবল।তাই অমিত-আকাঙ্ক্ষা বিজেপির, দু’শো পাবেন ওঁরা। তৃণমূলের মুশকিল আসান পিকে অবশ্য খুব গোঁড়া নন। বলেছেন, বিজেপি ১০০ ছুঁলে উনি এই ভোটের কারবার ছেড়ে দেবেন। বোঝাই যায়, দু’ লাইনের মধ্যে কোনো না বলা বাণীটি আছে। বিজেপি ৯৯ পাবে, বিরোধী দলের মুরুব্বির এই মন্তব্য কেন্দ্রের শাসকদের দিল খুশ করে দিয়েছে। শত্রু যদি এতটা দেয় তা হলে বন্ধু কী না দেবে? সুতরাং পেশা ছেড়ে দিলেও খেলা ছাড়তে হবে না পিকেকে। উনি বলেছেন, কী ভাবে ‘খেলা’ দিয়ে বিজেপির ব্যাবিলনের শূন্যোদ্যান বানানোর কৌশলে কাঁটা দেওয়া গেছে।

প্রথমে বাজারে নেমেই তিন জন বিধায়কের দল এমন ভাবে কথা বলছিল যেন ওরা তিনশোর পার্টি। সেই ফাঁকা মাঠেই ফাঁক বুঝে মমতার ভাঙা পায়ে খেলা শুরু।  দেখা গেল, তৃণমূল সুপ্রিমোর বা পিকের ওই মগজাস্ত্র মনে ধরেছে খোদ মোদীরও।  বিজেপি মুখে মুখে গোটা ভারতে ছড়িয়ে দিল আগুনের মতো: ‘খেলা হোবে’। মমতাও তৃণমূলকে নাচিয়ে দিলেন ছন্দে ছন্দে তালে আনন্দে: খেলা হবে খেলা হবে। অবশেষে, একি খেলা খেলিস বুঝে মোদী বললেন, দশ বছর অনেক খেলা খেলেছ দিদি! এ বার তোমার খেল খতম। কিন্তু কীসের খতম? মোদী তো দান চালছেন খেলার। অতএব খেলাটা জমে গেল। জমানা বদলের হাওয়া ফিকে। পিকে-পর্বেও অনেকটা ইতি টানার পালা এল। এবং শেষে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি তৃণমূলের বড়জোর তিরিশ চল্লিশ পিছে । এই ক’টা আসন আবার আসন নাকি! অমিত আশা নয়, সীমিত বিক্রমের পরিচয় দিয়েছেন শাহজি। একশো আসন পেলেই বিজেপি সরকার গড়বে, এই স্লোগান এখন আপ্তবাক্যে, বিশ্বাসে পরিণত হয়েছে।মমতার কথায় এই বিশ্বাস প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। মমতা বড়ো মুখে মনের কথা বলেছেন জনসভায়। বলেছেন, আমাকে ২২০ আসন দিন। না হলে জিতেও কোনো লাভ হবে না। সব কিনে নেবে! এই আতঙ্ক জনমনে সঞ্চারিত করতে চেষ্টা করছেন, কিন্তু করছেন না। কারণ বিজেপি-বিরোধীরা তা হলে যদি বিশ্বাস করে ভোট না দেন তৃণমূলের সন্দেহভাজনদের। কারণ, কংগ্রেসি, বামপন্থীরা সাধারণ মানুষকে বলছে, তৃণমূলের অমুককে জেতালে ওরা ভোটের পর বিজেপির দল ভারী করবে। এতে খানিক থেমে দু’পা এগিয়ে, এক পা পিছিয়ে ভাবতেই হচ্ছে, ভোটটা কোন দিকে পড়ে নষ্ট হবে। এই পর্ণে পরিচিত কিশলয় সংযুক্ত মোর্চার যুবা উজ্জ্বল চোখের ছেলেমেয়েদের মুখে পাদপ্রদীপের আলো খেলে যাচ্ছে। ওরা দিদির ‘খেলা’ মেলা সারা বেলার বিরোধিতা করে বলছে, আমাদের ছেলেমেয়েদের চাকরি চাই, পায়ের নীচে মাটি, মাথা গোঁজার আচ্ছাদন চাই। দিদির এ কেমন খেলা? এ যে দারুণ দহন জ্বালা!যদিও এই প্রাণের খেলাতে হার মানবে কি ওরা? চোখে প্রত্যয় প্রত্যাশা জাগায় নতুন প্রজন্মকে। সাম্প্রদায়িক তাস হাতে নিয়ে যারা পীরজাদা আব্বাসকে দুয়ো দিচ্ছে তারা দশ বছর পর এই প্রথম আক্রমণ করছে সিপিএমকে। এতেই তো কিছু ভোটের গন্ধ লেগে আছে। যে দাওয়াই কাজ করে তার কিছু সাইড এফেক্ট থাকেই। যার এফেক্ট নেই তার সাইড এফেক্টও নেই। সাপের বিষ থেকে যেমন মারক ব্যাধির ওষুধ হয়। তাই এই ভোটের রুপোলি রেখা ওই মাঝের মন্দাকিনী। তার ধারাটি এখনও সজীব স্বচ্ছ। দূষণের বর্জ্য তাকে ব্রাত্য করেনি।এ দিকে গঙ্গা আর রামকে নিয়ে সন্ধি করছেন মোদী। গঙ্গারামপুরের জনসভায়। শিবরাম চক্রবর্তীর সঙ্গে ওঁর দেখা হয়নি ভাগ্যিস, যিনি লিখতেন শিব্রাম। ওঁকে নিশ্চয় নিয়ে যেতেন মুক্তারামবাবুর ডেরায়। মুক্ত আরামে থাকার ঠিকানায়। যার সঙ্গে রামের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে বিজেপি কিন্তু সব শেষে রামে ও ইমামেই ফিরেছে।

বাংলার প্রাথমিক স্লোগানগুলো সব বদলে গিয়েছে। কারণ বিজেপির অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক সমীক্ষায় মালুম বাংলা ও বাঙালির গৌরবের যে ডাক মমতা দিয়েছেন তা মোদীর গুজরাতি অস্মিতার স্লোগানের সঙ্গে পুরো মিলে যায়। ওটাই ২০০১/২-এর স্লোগান। গুজরাত যদি পথ দেখিয়ে থাকে তা হলে আপত্তি কোথায়? আর ‘দিদি’ ছেড়ে ‘আন্টি’ বললেও  দিদির তুরুপের তাসটা ছাড়েননি। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেই হন কিংবা নন্দীগ্রামের মমতা হিসেবেই হন, তাঁর ‘পরিবর্তনের প্রতীক’ আইডেনটিটি তো সিঙ্গুর আর নন্দীগ্রাম। সুতরাং মমতাকে বহিরাগত বানানোর অঙ্ক আর হিসেব তাঁর পরিবর্তনের ডাকের যুক্তিকেই গুলিয়ে দিয়েছে। প্রতিষ্ঠা পেয়েছে দিদির গুজরাত আর বহিরাগত তত্ত্ব। যার পালটা কোনো একটা নির্দিষ্ট স্লোগানে দাঁড়াতে পারেনি বিজেপি। এটা মোদীশাহীর সাফল্যের পূর্বাভাস নয়।

Related Articles

Back to top button