মতামত

কবরস্থান সংস্কারের জন্য ওয়াকফ বোর্ডকে সক্রিয় করে তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

মৃত্যুঞ্জয় সরদার:আমরা ৩৪ বছর বাম জমানায় দেখেছিলাম যে মানুষের শেষ গতি করার কবরস্থান ও শ্মশানে তেমন কোনো উন্নতি ছিল না। তবে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার মসনদে বসে সেই দুঃখ-দুর্দশা দূর করেছেন দলিত সংখ্যালঘু মানুষের। প্রত্যেকটা গ্রাম পঞ্চায়েত ও পৌর সভাতে শ্মশান ও কবরস্থানের উন্নয়ন করেছে বৈতরণী প্রকল্পের মাধ্যমে। আর এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি গ্রামের প্রতিটি কবরস্থানের উন্নয়নের অগ্রগতি তুলে ধরতে, আমার কলমে সংখ্যালঘুদের কবরস্থানের বর্ণনা দেব।দর্শনার্থীদের কাছে মনে হতে পারে এটা একটি স্বর্গের বাগানের মতো।

এটা আসলে খ্রিস্টান ধর্মীয় বিভিন্ন মানুষের সমাধি। এই কবরস্থান বা সমাধি দেখতে এটাই দৃষ্টিনন্দন যে দূর থেকে দেখলে মনে হবে এ যেন স্বর্গের বাগান। জার্মান স্পেনে দেখা মিলবে এ ধরনের করস্থানের।তবে মৃত্যুর কথা প্রথমে মনে পড়লেই আমাদের কবরের কথা মনে পড়ে যায়। অন্ধকার কবরের কথা মনে পড়তেই গা শিউড়ে ওঠে।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যেমন লিখেছিলেন, ‘মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভুবনে, মানবের তরে আমি বাঁচিবারে চাই’– এ কথা যে আমাদের সবারই জানা। সত্যি তো এই সুন্দর পৃথিবীতে ছেড়ে কেউ চলে যেতে চায় না। তবে মানুষের মৃত্যু অবধারিত। প্রত্যেক মানুষ মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে।মৃত্যুর পরে সব মানুষের ঠিকানা কবর। কিন্তু এই কবরস্থানের কথা শুনে ভয়ে ঘুমাতে পারেন না অনেকে। কবরস্থান বা সমাধির কথা শুনলে আমাদের মতো একটা ভিত কাজ করে। তবে জার্মানির এই কবরস্থান দেখলে এই ভীতি দূর হবে। আমাদের দেশের বেশিরভাগ কবরস্থানগুলোতে চোখে মেলে হাড্ডিগুড্ডি, কবরে গর্ত, অপরিষ্কার জরাজীর্ণ। আমাদের দেশে রাতের বেলা যদি কেউ কবরস্তানে ঘুরে আসতে পারেন তাহলে তাকে সাহসী মানুষ হিসেবেই ধরা হয়।কবরস্থান নিয়ে লিখতে গেলে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর কথা বারবারই চলে আসে, সে কথা না লিখলেই লেখাটি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।
বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর মমতার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন গ্রামবাংলার মানুষ। তারই ফলশ্রুতি বিগত ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত, বিধানসভা, পৌরসভার  নির্বাচনে হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের জয়জয়কার। সন্ত্রাস, সারদাকাণ্ড, কামদুনি, পার্ক স্ট্রিট কাণ্ড ইত্যাদি ঘটনার পর অনেকেই ভেবেছিলেন, মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসের জমানায় নির্বাচনে পালটা চাল দেবেন। কিন্তু গ্রামবাংলার মানুষ কার্যত সেই আশায় জল ঢেলে মমতার উপর সম্পূর্ণ আস্থা রেখেছেন।২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের ফলেই প্রমাণিত যে, সাধারণ মানুষ মর্মে মর্মে জানে এই সরকারই সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারবে।

 

অন্যদিকে সখ্যালঘুউন্নয়নের প্রশ্নে বামশাসকেরা ছিলেন নির্বিকার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিন্তু উদ্যোগী। সংরক্ষণের ক্ষেত্রে তিনি অনেক মুসলমান গোষ্ঠীকে ওবিসি-র অন্তর্ভুক্ত করেছেন। চাকরিক্ষেত্রে এবং উচ্চশিক্ষার সংরক্ষণ ঘোষণা করেছেন। ক্ষেত্রে বিভিন্ন জায়গায় মসজিদ, কবরস্থান, ইদ্গাহ সংস্কারের জন্য ওয়াকফ বোর্ডকে সক্রিয় করে তুলেছেন। রাজ্যে হজ টাওয়ার ও হস্টল নির্মাণ করেছেন। সংখ্যালঘু সংকটে তিনি গুরুত্ব সহকারে বোঝার চেষ্টা করেছেন। রাজ্যে এই প্রথমবার এত সংখ্যালঘু রাজনৈতিক নেতৃত্বের অধিকার অর্জন করেছেন। পঞ্চায়েতে সংখ্যালঘুদের এত বড় সুযোগ অন্য সরকার দেয়নি। ফলে সামগ্রিক বিচারে এই উন্নয়নকে সার্থক বলা যায় অনায়াসেই। যা চৌত্রিশ বছরে সম্ভব হয়নি, তা মাত্র কয়েক বছরে সম্ভব নয় কখনওই – এই বোধ আমাদের থাকা দরকার। বিরোধীদের অর্থনৈতিক জোট যে মানুষ বরদাস্ত করেনি, তার প্রমাণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুনরায় ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন।

কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর দেহ সমাহিত করতে হয়। এটা মুসলমান, খ্রিষ্টান, ইহুদিসহ অনেক ধর্মের বিধান। আর কবর দিতে প্রয়োজন জমির। সে কারণেই বর্তমান রাজ্য সরকার বিভিন্ন জায়গায় জমি খুঁজে অধিগ্রহণ করে শ্মশান কবরস্থান উন্নয়ন করছে। আর সেই কথাগুলো বাংলার মানুষ হয়তো ভুলতে বসেছে, তবে মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য বর্ধমানের একটি কবরস্থানের কথা উল্লেখ করতে চাই।মরহুম বিলাত আলি কবর স্থান।আনুমানিক ১৫০ বছরের পুরাতন কবর স্থান পূর্ব বর্ধমানের গোলাহাটের কাছে, ম্যালেরিয়া অফিসের বিপরীতে গ্লাস ফ্যাক্টরির গলিতে, বনজঙ্গলে অবহেলায় পড়ে ছিলো দীর্ঘদিন ধরে যার নাম মরহুম বিলাত আলি কবর স্থান। এই কবর স্থান বহু বছর ধরে বন জঙ্গলে এমন ভরে গিয়েছিলো যে ওই কবর স্থানের পথ দিয়ে দীর্ঘ গলি পথ ধরে যেতে মানুষের ভয় লাগত । সন্ধের পর অন্ধকার নেমে এলে মানুষের ওই পথে যেতে গা ছম ছম করত নানা রকম ভয়ে লাগত, আবার অসামাজিক কাজকর্ম করে যারা তারাই ওই গলিতে অন্ধকারে আড্ডা দিত বলে লোক মুখে এটা এখুন ও শোনা যায়।

গোলাহাট ১৮ নম্বর ওয়ার্ড এর পৌর কমিশনার তরুণ পৌরপিতা মাননীয় প্রদীপ রহমান মহাশয় মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় কবর স্থান সংস্করণের জন্য অর্থ সাহায্য পেয়ে ঘরে না বসে থেকে মানুষের জন্য কাজে মন দেন। তিনি কমিশনার হয়ে ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের সুখ সুবিধা দেখার জন্য একটি সবসময় অফিস খুলে রেখেছেন , সেখানেই মানুষ তাদের নানান সমস্যার কথা বলেন ও প্রদীপ রহমান তার যথাসাধ্য সমাধান করার চেষ্টা করে জন দরদী নেতা বলেও সুনাম অর্জন করেছেন।সেই বিশাল জায়গা জুড়ে কবর স্থানের বনজঙ্গল কেটে পরিস্কার করেন । এবং কবর স্থানটিকে ঢেলে সাজান নবরূপে ।কবরস্থানে চারিদিকে লাইট লাগিয়ে রাত্রে আলোয় আলোয় আলোকিত করে তুলেছেন, এ যেন এক স্বর্গ উদ্যানের মত। সবুজ ঘাসের গালিচা পাতায় চারদিকে রংবেরঙের ফুলের গাছে ফুলে ভরা ।চারিদিকে বাউন্ডারি বড় পাঁচিল তুলে কবর স্থানটিকে রক্ষা করেছেন ,এবং কংক্রিটের বাঁধানো রাস্তা , ফুলের বাগান , কবরস্থানে জলের কল ও হাত পা ধোবার জন্য ও গোসল করার জন্য জলের পাম্প বসিয়ে অফুরন্ত জলের ব্যাবস্থা করেছেন , মানুষ মারা গেলে যারা কবরের জন্য মাটি দিতে আসেন তাদের জন্য জল ঝড়ে দাঁড়ানোর জন্য ঘর করা ও মানুষের বসার জন্য জায়গা করে রীতিমত একটি মনোরম পার্ক তৈরি করে এলাকার মানুষদের তাক লাগিয়ে দিয়েছেন । তবে এই কবর স্থানে নিয়ম মেনে চলতে হবে এখানে যে কেউ যখন তখন ঢুকে আড্ডা দিতে পারবে না সুন্দর গেট করে চাবি তলার ব্যাবস্থা করে মনরোম বাগান টিকে রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য লোক রেখেছেন।শুধুমাত্র মানুষ দেহ রাখলে যারা মাটি দিতে আসবেন তাদের জন্য এই ব্যবস্থা । এ বিষয়ে স্থানীয় মানুষজন অনেকেই বলেন কবর স্থান পবিত্র জায়গা, সেই বন জঙ্গলে ভরা কবরস্থানক এত সুন্দর মনোরম স্বর্গ উদ্যান বানিয়েছেন তরুণ কমিশনার প্রদীপ রহমান ভাবলেই অবাক হতে হয় । তার এই অপূর্ব কৃত্তি অক্ষয় ওমর হয়ে থাকবে ভবিষ্যতে ।

সকলেই তার এই কাজের জন্য সাধুবাদ জানিয়েছেন পবিত্র কবর স্থানকে রক্ষা করার এমন সুন্দর মানসিকতা ও সুন্দর মনের চিন্তা ভাবনার পরিচয় দেওয়ার জন্য । এ ব্যাপারে প্রদীপ রহমান বলেন আমি কিছুই করি নি আমি কেউ না , মানুষের আশির্বাদ আমার পাশে আছে মানুষের জন্য কাজ করতে আমার ভালো লাগে এবং আমি শুধুমাত্র চেষ্টা করেছি । সবই আল্লা খোদা মেহেরবান আর ভগবান ই বলুন উনি আমাকে দিয়ে করিয়ে নিয়েছেন মানুষের মঙ্গলের জন্য । মানুষের কাজে লাগলে আমি খুব আনন্দ পাবো আর কিছুই না।
এই প্রসঙ্গে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা ঠিকই ছিল । সে বিষয়ে পুনরায় মনে করিয়ে দিতে চাই।ক্ষমতা আশায় পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন বিধায়ক ও সাংসদের ভূমিকা কী , তা -ও ব্যাখ্যা করেছেন মমতা৷ পরিকাঠামোর উন্নয়নে কী কী করা প্রয়োজন , তাও বিস্তারিত জানিয়েছেন৷ বিধায়ক -সাংসদদের তিনি জানিয়ে দিয়েছেন যে রাজ্যের আর্থিক টানাটানি সত্ত্বেও , পশ্চিমবঙ্গ সরকার বৈতরণী প্রকল্পের প্রতি দায়বদ্ধ৷ সেই অনুযায়ী জনপ্রতিনিধিদেরও এই কাজে সামিল হতে তিনি আহ্বান জানিয়েছেন৷

প্রাথমিকভাবে বিধায়ক ও সাংসদ মিলিয়ে প্রায় ২০০ জনকে এই চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর৷ মুখ্যমন্ত্রী ওই চিঠিতে লিখেছেন , ‘রাজ্য সরকার সত্কারের পরিকাঠামোর উন্নয়নে ‘বৈতরণী ’ শীর্ষক একটি নয়া প্রকল্প চালু করেছে৷ ওই প্রকল্প অনুযায়ী শ্মশান ও কবরস্থানের চলতি পরিকাঠামোর উন্নয়ন করতে হবে৷ ’ বস্ত্তত , রাজ্যের নানা জায়গায় শেষকৃত্য সম্পাদনের জায়গাগুলির পরিকাঠামো খুবই জরাজীর্ণ৷ যেমন , বিভিন্ন শ্মশানে আকছার দেখা যায় মৃতদেহ আংশিক দাহ হয়ে পড়ে রয়েছে৷ পূতিগন্ধময় নোংরা বা আবর্জনার স্তুপ আর জমা জল পেরিয়েই সারতে হয় প্রিয়জনের অন্তিম সংস্কার৷ শ্মশান বা কবরস্থানে মৃতের আত্মীয়রা সত্কার করতে এসে একটু বসার জায়গাও পান না৷ মমতা চান , এই অব্যবস্থা দূর হোক৷ সেই প্রসঙ্গে তিনি চিঠিতে লিখেছেন , ‘প্রতিটি শ্মশান ও কবরস্থান উন্নয়নে রাজ্য সরকার ৮ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ করেছে৷আমাদের আর্থিক সমস্যা রয়েছে৷ তা সত্ত্বেও , রাজ্যবাসীর সামাজিক পরিকাঠামোর উন্নয়নে বৈতরণীর পূর্ণ রূপায়ণে আমরা দায়বদ্ধ৷ ’ এই প্রকল্পে পরিকাঠামোর গুণমান উন্নয়নে আশু কর্তব্য কী , তার তালিকাও তিনি চিঠিতে পেশ করেছেন৷ চিঠিতে তিনি বলেছেন , ‘এই প্রকল্পটির কয়েকটি মৌলিক অনুষঙ্গ রয়েছে৷ সেগুলি হল , ১) চিতার জন্য একটি উঁচু জায়গা বানানো , ২) শ্মশান ও কবরস্থানের চারপাশে দেওয়াল বানানো , ভালো করে দরজার নির্মাণ ও ৩ ) একটি আচ্ছাদন বানানো৷ ’ সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে , সাংসদদের মাথাপিছু তাঁদের কেন্দ্রগুলি থেকে ২৫টি শেষকৃত্য সম্পাদনের জায়গা ও বিধায়কদের মাথাপিছু পাঁচটি করে জায়গা বাছাই করতে হবে৷

এক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা কী থাকছে বা সরকারি প্রকল্পের সাফল্যে তাঁরা কী ভাবে অনুঘটক হিসাবে কাজ করবেন , চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী তা -ও ব্যাখ্যা করেছেন৷ তিনি তাতে লিখেছেন , ‘আপনারা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী কেন্দ্র এলাকা আপনাদের এলাকা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় শ্মশান ও কবরস্থান বাছাইয়ে সুপারিশ করুন৷জেলা স্তরে এই সংক্রান্ত প্রস্তাবনা পাঠাবেন জেলাশাসকের কাছে৷ আর কলকাতা পুরসভা এলাকায় পুরকমিশনারের কাছে৷ রাজ্যের নানা স্থানে প্রায় কুড়ি হাজারের মতো শেষকৃত্য সম্পাদনের মধ্যে প্রথম বছরে চার হাজার বাছাই করা হবে৷ ’ আর্থসামাজিক সুরক্ষা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হালে নানা জনমুখী কর্মকাণ্ডে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন মমতা৷ যেমন , বিমুদ্রাকরণের আঘাতে ভিন্ রাজ্যে কাজ হারিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের যে মানুষেরা , তাদের জন্য ‘সমর্থন ’ প্রকল্পে স্বনিযুক্তিকরণের জন্য মাথাপিছু ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ করেছেন৷ শেষকৃত্য সম্পাদনে গরিব মানুষদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রীতিও তিনি দিয়েছেন৷

Related Articles

Back to top button