জেলা

দখল হওয়া কার্যালয় ফিরে পেল সিপিআইএম

দখল হওয়া কার্যালয় ফিরে পেল সিপিআইএম

বৈশাখী সাহা, উত্তর ২৪ পরগনাঃ
বিধানসভা ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর গত ৪ঠা জুন সকালবেলা হঠাৎই তৃণমূলের কিছু কর্মী সমর্থক বসিরহাটের পিফায় সিপিআইএমের কৃষক সংগঠনের কার্যালয় দখল করে নেয়। বেদখল হয়ে যাওয়া কার্যালয়ের চাবি বহুবার ফেরত চাওয়া সত্ত্বেও না মেলায় পুলিশ প্রশাসনের দ্বারস্থ হয় সংগঠনের কর্মীবৃন্দ। এরপর পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় তৃণমূল নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে কার্যালয় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে মেটায় খুশি সিপিআইএম সহ তৃণমূল নেতৃবৃন্দ।
গত ২রা মে বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভার অন্তর্গত পিফা এলাকায় অবস্থিত সিপিআইএমের কৃষক সংগঠনের একটি কার্যালয় হঠাৎই বেদখল করে নেয় রাজ্যে তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় আসার পর তৃণমূলের কিছু কর্মী-সমর্থকেরা। বামেদের কৃষক সংগঠন এর কার্যালয়টি হারিয়ে কার্যত অসহায় হয়ে পড়ে বাম কর্মী সমর্থকরা। তাদের অভিযোগ ১৯৮৫ সালে তৈরি হওয়া দলের ওই কৃষক সংগঠনের কার্যালয়টি ৪ঠা মে হঠাৎই সকালে দখল করে নেয় তৃণমূলের কিছু কর্মীরা। এরপর সেখানে তৃণমূলের পতাকা তোলা হয়, বদলে ফেলা হয় ঘরের ছবিগুলিও। অনেক চেষ্টার পরেও কার্যালয়টি পুনরুদ্ধার করতে না পেরে বসিরহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। এরপর সরকারি ডকুমেন্টস সহ জেলার কৃষক নেতৃত্বরা কৃষক সংগঠনের কার্যালয় পুনরুদ্ধারের জন্য এসপি-র দ্বারস্থ হন। এসপি সমস্ত ডকুমেন্টস খতিয়ে দেখেন ঈদ পেরিয়ে গেলে তৃণমূল নেতৃত্বদের সাথে কথা বলে অফিস ফিরিয়ে দেবার ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বস্ত করেছিলেন বলে সিপিআইএম সূত্রে খবর। সেইমতো তৃণমূলের ব্লক সভাপতি সাহানুর মন্ডল, বসিরহাট থানার আইসি সুরিন্দার সিংহ-র উপস্থিতিতে বসিরহাট দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক সপ্তর্ষি ব্যানার্জীর হস্তক্ষেপে এদিন ওই কার্যালয়ের চাবি তুলে দেওয়া হয় সিপিআইএম-এর জেলা কমিটির সদস্য রাজু আহমেদের হাতে। একইসাথে এদিন সৌজন্যমূলক মিষ্টিমুখও করান একে অপরকে। তারপর পরস্পর দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে শান্তির বার্তা প্রেরণ করেন।
মিষ্টিমুখ পর্ব শেষে সপ্তর্ষি ব্যানার্জি বলেন দলের কিছু ছেলেরা ওই কার্যালয় সেই অর্থে দখল করেনি। ভোটের পরে আবেগ আনন্দের বসে ছেলেমানুষি করে ওই কাজ করেছে। ওটা আনন্দ উত্তেজনার বহিঃপ্রকাশ মাত্র, রাজনৈতিক হিংসা হানাহানি নয়। মানুষ চেয়েছে বলেই রাজ্যে পুনরায় তৃণমূল সরকার বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে। আমরা পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্রিক বাতাবরণ রক্ষা করতে চাই। সাম্প্রদায়িক কোন শক্তিকে নয়, বিরোধী দল হিসেবে সিপিএমকেই চাই। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন আমি রাজনীতির মানুষ কোনদিনই ছিলাম না, ছিলাম শুধুমাত্র চিকিৎসক এখন বিধায়ক হয়েছি। সিপিএমের কার্যালয় দখল করা হয়েছে এই অভিযোগ পেয়ে আমি সেটি ফিরিয়ে দেবার জন্য আইসি সাহেব, ব্লক সভাপতির নেতৃত্বে তাদের হাতে হস্তান্তর করার চেষ্টা করেছি। পুলিশ এ বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।
এ বিষয়ে রাজু আহমেদ জানান তৃণমূল নেতাদের আমাদের সংগঠনের তরফ থেকে অসংখ্য ধন্যবাদ। এই ঘটনা একটি নজিরবিহীন সৌজন্য হয়ে থাকবে। পাশাপাশি তিনি এও বলেন ‘আমরা কখনও কারও দলীয় কার্যালয় দখলের রাজনীতি করি না। এই এলাকায় সিপিএম এবং তৃণমূলের বহু কর্মী একইসাথে বসবাস করি। আমরা শান্তি বজায় রেখেই দলীয় কার্যালয় পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেছি মাত্র।’
সিপিআইএম-এর কৃষক সংগঠনের কার্যালয় ফিরিয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে তৃণমূলের ব্লক সভাপতি শাহানুর মন্ডল বলেন কোন দলেরই দলীয় কার্যালয় দখল করা তৃণমূলের সংস্কৃতি নয়।যারা একাজ করেছিল তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আজ আমরা কারও কার্যালয় দখল করলে, কাল অন্য কেউ আমাদের কার্যালয় দখল করতে পারে। অতএব এমন কাজের পুনরাবৃত্তি না করাই ভালো। তৃণমূল সর্বদাই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পক্ষে।

Related Articles

Back to top button