রাজ্য

DI-কে স্মারকলিপি, তৃণমূল প্রভাবিত প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের রোষানলে বামপন্থী শিক্ষক সংগঠন

নিজস্ব সংবাদদাতা: রাজ্যে নাকি বন্ধ হবে ৮ হাজার ২০৭টি বিদ্যালয়। সামাজিক মাধ্যমে এমন একটি খবর ছড়িয়ে পড়েছে (সত্যতা যাচাই করেনি টিভি৯ বাংলা)। এর জেরে ইতিমধ্যে ওই তালিকায় থাকা স্কুলগুলিতে শিশুদের ট্রান্সফার সার্টিফিকেট চাইছেন অভিভাবকেরা। যদি সত্যিই এমন হয় তবে শিক্ষক ও পড়ুয়া উভয়ের ক্ষতি হতে পারে। বিষয়টি ঠিক কী? তা জানতে গত সোমবার রাজ্যের সমস্ত জেলার ডিআই-দের কাছে স্মারকলিপি দেন বামপন্থী প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠন নিখিল বঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সদস্যরা।

এই কর্মসূচি অনুয়ায়ী জলপাইগুড়ি জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলির পরিদর্শক শ্যামল রায়কে স্মারকলিপি দেয় ABPTA এর জলপাইগুড়ি জেলা শাখার সদস্যদের একটি প্রতিনিধি দল।

অভিযোগ, জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শকের সঙ্গে অভব্য আচরণ করেছে বামপন্থী শিক্ষক সংগঠন এবিপিটিএর সদস্যরা। শুধু তাই নয়, ওই ঘটনায় ডিপিএসসি দফতরে শৃঙখলা ভঙ্গ হয়েছে এই অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার বিকেলে ডিপিএসসি দফতরে পোস্টার ব্যানার নিয়ে ধিক্কার জানায় পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি।

 

 ইডি-সিবিআইয়ের সাঁড়াশি চাপ, জমির বদলে চাকরির দুর্নীতি মামলায় আজ আদালতে কি হাজিরা দেবেন লালু-রাবড়ি

 

তৃণমূল প্রভাবিত শিক্ষক সমিতির অভিযোগ,স্মারকলিপি দিতে এসে বামপন্থী শিক্ষক সংগঠন দফতরের আধিকারিকের সঙ্গে যে ভাষা প্রয়োগ করে অভব্য আচর করেছে তা মেনে নেওয়া যায় না। শিক্ষকদের কাছ থেকে এই ধরনের আচরণ আশা করা যায় না। তৃণমূল শিক্ষক সংগঠনের পাশাপাশি একই দাবি করেছেন খোদ বিদ্যালয় পরিদর্শক শ্যামল চন্দ্র রায়। আর এতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জলপাইগুড়ি শিক্ষক মহলে।

যদিও তৃণমূল শিক্ষক সংগঠনের ওই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন এবিপিটিএ জেলা সম্পাদক বিপ্লব ঝাঁ। তিনি বলেন, “বর্তমান সময়ে তৃণমূল শিক্ষক সংগঠনের কথা কেউ বিশ্বাস করছে না। ডিআই শাসক দলের হয়ে কাজ করে। যেই কারণে এই অভিযোগ তোলা হচ্ছে। আমরা সোমবার রাজ্য জুড়ে এই আন্দোলন করেছি। জলপাইগুড়ি জেলায় আমরা শিক্ষা পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মোট ১৯ দফা দাবিতে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। আমাদের প্রধান দাবি ছিল রাজ্য জুড়ে ৮০০০ এর বেশি বিদ্যালয় বন্ধ করে দেবে রাজ্য সরকার। তার প্রতিবাদে আমারা স্মারকলিপি দিয়েছি। এখন দেখছি তৃণমূল আর ডিআই একই সুরে কথা বলছে। তাহলে আমাদের অভিযোগ সঠিক।”

প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক শ্যামল চন্দ্র রায় বলেন, “যারা স্মারকলিপি দিতে এসেছিলেন তাঁরা অভব্য আচরণ করে টেবিল চাপড়ে আপত্তিকর ভাষা প্র‍য়োগ করেছেন। এবং এই আচরণে তিনি মর্মাহত বলে জানান।”

ওই ঘটনা নিয়ে মঙ্গলবার ধিক্কারে সামিল হয় পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি। সমিতির পক্ষ থেকে ডিপিএসসি-তে পোস্টার লাগান হয়। সেই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান হয়েছে।

সমিতির জেলা সভাপতি স্বপন বসাক বলেন, “বিভিন্ন দাবিতে স্মারকলিপি দেওয়া যেতেই পারে। কিন্তু স্মারকলিপি দিতে গিয়ে যে ভাষা তারা প্রয়োগ করেছেন তা মেনে নেওয়া যায় না। তাই আমরা ধিক্কার কর্মসূচি পালন করে হুঁশিয়ারি দিলাম।”

Related Articles

Back to top button