*হিমালয়ের ঋষি মুনিদের দ্বারা অনুপ্রাণিত সমর্পণ ধ্যান*
ধ্যান, মানুষের শরীর, আর জলের সম্বন্ধ :*

পর্ব ৩
এবার প্রশ্ন উঠবে, ধ্যান কিভাবে আমাদের শারীরিক অবস্থায় পরিবর্তন আনবে! যখন আমরা অনুভব করতে শুরু করি যে সমস্ত শক্তি আমার মধ্যেই রয়েছে, হয়ত সুপ্ত অবস্থায় রয়েছে তখন ধ্যানের মাধ্যমে সেই শক্তির জাগরণ হতে থাকে। ধীরে ধীরে এটা আমার স্নায়ু তন্ত্রের ওপর কাজ করতে আরম্ভ করে, তাকে শক্তশালী করে, ব্যবস্থিত করে। আমাদের ব্যক্তিত্বের মধ্যে পরিবর্তন হতে থাকে।
আজকের দিনে আমরা সহজে কিছু মেনে নিতে চাই না। বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রমাণাদির ভিত্তিতে প্রকাশিত পত্রপত্রিকার উদাহরণ ছাড়া কোন বিষয়ই আমাদের কাছে সহজে গ্রহণীয় হয় না। মানুষের শরীরের সত্তর শতাংশ জল। ধ্যানের মাধ্যমে বিশেষ ভাবে সামূহিক ধ্যানের (যেখানে অনেক মানুষ এক সঙ্গে বসে ধ্যান করেন) মাধ্যমে আশেপাশের বাতাবরণে এমন এক ব্যবস্থিত শক্তি তরঙ্গ সৃষ্টি হয় যে সেখানে রক্ষিত বোতলের জল গবেষণাগারে পরীক্ষা করে দেখা গেছে জলেরও কেলাসের গঠন (সজ্জারীতি) পরিবর্তিত হয়েছে ।এই বিষয়ে নিচে দুটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার উদাহরণ উপস্থাপন করা হলো : জাপানি বিজ্ঞানী ডঃ মাসারু এমোতো (Dr. Masaru Emoto and his water crystal )তার গবেষণায় প্রমাণ করেছেন যে মানব মনের চেতনাশক্তি দ্বারা জলের আণবিক গঠন পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে ( molecular structure of water is changed by the presence of human consciousness) ড. এমোতো দেখিয়েছেন পাত্রে জল রেখে তার সামনে প্রার্থনা, ঈশ্বর প্রসঙ্গ আলোচনা করলে বা ভালোবাসার প্রকাশ ছড়ালে জলের আণবিক গঠন অত্যন্ত সুন্দর হয়ে ওঠে( যা জলকে ঠান্ডা করে কেলাস গঠন করলে সুন্দর চিত্ররূপে প্রকাশ পায়)। অপরদিকে খারাপ কথা,গালি দেওয়া বা ঝগড়া চললে জলের আণবিক গঠনও বিকৃত হয়ে যায়। কলকাতার বসু বিজ্ঞানমন্দিরের গবেষণা দেখিয়েছে যে (A Multidisciplinary research journal : 2023, Feb11, V -(13) (page 19 to 39) ধ্যানের ফলে জলের বিন্যাস সুন্দর হয়। আমাদের মানব মস্তিষ্কে প্রায় ৭০ শতাংশ জল বর্তমান ( Medical News Today) ধ্যানের ফলে তার গঠন বিন্যাসও সুন্দর হয়। ফলস্বরূপ মানুষ শারীরিক ও মানসিক উভয় স্বাস্থ্যেরই উন্নতি হবে। তার ধীর, স্থির ব্যক্তিত্ব গড়ে উঠবে, যে কোনো কাজ সর্বশ্রেষ্ঠ ভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে সেই মানুষ।
ক্রমশঃ


