সারদা মায়ের “শেষ আশীর্বাদ—শেষ স্পর্শ”
“সবাই ভালো থাকবে… পরস্পরকে ভালোবাসবে।” ---এটাই ছিল সারদা মায়ের শেষ আশীর্বাদ।

১৯২০ সালের জুলাই।
কাশীপুর উদ্যানবাটী নয়—এবার বেলুড় মঠের মাতৃমন্দির সংলগ্ন কক্ষে শয্যাশায়ী সারদা মা।
শরীর ক্রমশ ক্ষীণ, শ্বাস গভীর ও ধীর। চারদিকে নীরবতা—কেবল প্রদীপের মৃদু আলো আর গঙ্গার জলধ্বনি। ঘরের ভেতরে আছেন স্বামী ব্রহ্মানন্দ, স্বামী শিবানন্দ, স্বামী প্রেমানন্দ, ভগিনী নিবেদিতার শিষ্যারা এবং কয়েকজন অন্তরঙ্গ ভক্ত।
শেষ রাতের আগে মায়ের চেতনা বারবার ক্ষীণ হয়ে আসছিল।
হঠাৎ গভীর নিস্তব্ধতার মধ্যে মা আস্তে করে চোখ খুললেন। তিনি ফিসফিস করে বললেন— “ঠাকুর… এসেছ?”
কেউ কিছু বলার আগেই মায়ের মুখে এক অপার্থিব শান্ত হাসি ফুটে উঠল—যেন অদৃশ্য উপস্থিতির সঙ্গে কথা বলছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা পরে বলেছেন, সেই মুহূর্তে ঘরের আবহাওয়াই বদলে গিয়েছিল—গভীর প্রশান্তি, অথচ হৃদয়-ভাঙা করুণা।
এরপর মা ধীরে ধীরে হাত তুললেন এবং উপস্থিত সকলের দিকে তাকিয়ে বললেন— “সবাই ভালো থাকবে… পরস্পরকে ভালোবাসবে।” —এটাই ছিল সারদা মায়ের শেষ আশীর্বাদ।
এক তরুণ সন্ন্যাসী তখন কেঁদে উঠলে মা ক্ষীণ স্বরে বললেন— “কাঁদিস না। শরীর যায়—মা তো আছিই।”
১৯২০ সালের ২০ জুলাই রাত ১টা ৩০ মিনিটে সারদা মা শান্তভাবে মহাসমাধিতে বিলীন হন। কোনো আড়ম্বর নয়—কেবল গঙ্গার ঢেউ, ঘণ্টাধ্বনি এবং ভক্তদের অশ্রু।
মায়ের দেহ যখন শ্মশানে নেওয়া হয়, তখন বহু দরিদ্র গ্রামবাসী পথের দু’পাশে দাঁড়িয়ে প্রণাম করছিল। তাঁদের একজন বৃদ্ধা বলেছিলেন— “আজ মা আমাদের ছেড়ে গেলেন, কিন্তু আমাদের বুকের ভেতরেই রইলেন।”
তথ্যসূত্র :- “শ্রীশ্রীমা সারদাদেবী” — স্বামী গম্ভীরানন্দ
“Mother as I Saw Her” — স্বামী নিত্যপ্রিয়নন্দ
রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের ঐতিহাসিক বিবরণ


