আত্মাশুদ্ধি
Trending

“যেদিন ঠাকুর তাঁর সর্বস্ব দিলেন নরেনকে”

এদিন স্বামীজি বুঝলেন— ঈশ্বরই তো পরম শান্তি।

ঘর তখন একেবারে ফাঁকা।

পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ শান্ত স্বরে বললেন—“নরেন, একবার ভালো করে উঁকি দিয়ে দেখে আয়—কেউ যেন উপরে না আসে।” নরেন ফিরে এসে জানাল, কেউ নেই।

ঠাকুর আস্তে বললেন— “বোস আমার কাছটিতে।”

নরেন নিঃশব্দে, তন্ময় হয়ে বসলেন—পিপাসু হৃদয়ে, নিঃসংশয় ভক্তিতে।

একদিন স্বামী বিবেকানন্দ ঠাকুরকে বলেছিলেন, “আমি শান্তি চাই, ঈশ্বর চাই না।”

কিন্তু এদিন স্বামীজি বুঝলেন— ঈশ্বরই তো পরম শান্তি।

ঠাকুরের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে নরেন অনুভব করলেন—অদ্ভুত এক স্পন্দন তাঁর সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ছে। মনে হল, এই দুই অভয়দৃষ্টি ছাড়া জগতে আর কিছু নেই।

হঠাৎ তিনি দেখলেন—ঠাকুর কাঁদছেন।

নরেন চমকে উঠলেন, “ঠাকুর, আপনি কাঁদছেন কেন?”

পরম করুণায় ভেজা কণ্ঠে ঠাকুর বললেন— “নরেন, আমার যা কিছু ছিল—আমার যথা-সর্বস্ব আজ তোকে দিয়ে দিলুম। আমি আজ ফকির হয়ে গেলুম, আর তুই রাজ-রাজেশ্বর হয়ে গেলি।”

এই কান্না পরাজয়ের নয়— এ ছিল রাজ্যাভিষেকের অশ্রু, আনন্দের নির্ঝর, আত্মদানের মহামন্ত্র।

ঠাকুর আরও বললেন— “তুই সবাইকে আঁকড়ে থাকবি, সকলের আশ্রয় হবি। সমস্ত মানুষের ভার তোর হাতে দিয়ে গেলুম। যেদিন তোর কাজ শেষ হবে, যেদিন তুই নিজের প্রকৃত স্বরূপ বুঝবি— সেদিন স্বাধামে ফিরে যাবি।”

ঠিক এই মাহেন্দ্রক্ষণ এই নরেন হয়ে উঠলেন—”বিবেকানন্দ”।

ঠাকুরের শেষ নির্দেশ— “এই বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দে— প্রত্যেক মানুষই ঈশ্বরের প্রকাশ। ওঠো, জাগো, লক্ষ্য পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত থেমো না।”

এই ছিল সেই দিব্য মুহূর্ত— যেদিন এক মানব থেকে জন্ম নিলেন যুগপুরুষ।

জয়তু বিবেকানন্দ। জয়তু শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ।

তথ্যসূত্র: “পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ” — অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

 

 

Related Articles

Back to top button