আত্মাশুদ্ধি

*হিমালয়ের ঋষি মুনিদের দ্বারা অনুপ্রাণিত সমর্পণ ধ্যান:*

পর্ব 4

(*নিয়মিত ধ্যান অভ্যাসের প্রাপ্তিযোগ : সার্বিক নিরাপত্তা ও সর্বাঙ্গীণ উন্নতি)*

ধ্যান হল সেই সাধনা যার থেকে আমাদের সম্পর্ক বিশ্ব চেতনার সঙ্গে জুড়ে যায় , মানে পরমাত্মার শক্তির সাথে যুক্ত হয়। পরে ওই শক্তি আমাদের ভিতর এক সুস্থ ও সুষম ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটায়।

*যেমন যেমন আমাদের ধ্যানের পরিস্থিতি ভালো হতে থাকবে তেমন তেমন আমাদের রোগমুক্ত শরীর প্রাপ্ত হতে থাকবে,* এবং আমাদের সুস্থ শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তিও বাড়তে থাকবে।

*আমরা ধ্যান সাধনার মাধ্যমে মানসিক চাপ ভয় চিন্তা আত্মগ্লানি ও নৈরাশ্য ( depression ) প্রভৃতি মানসিক রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারি।* অতীতকালের দুঃখজনক ঘটনা সমূহের স্মৃতির করাল ছায়া থেকে মুক্তি পেতে পারি। তেমনই ভবিষ্যতের চিন্তা থেকেও মুক্ত হয়ে বর্তমানে থেকে শান্তিপূর্ণ আনন্দিত জীবন অতিবাহিত করতে পারি।

জীবনে সন্তুষ্টি ও শান্তি থাকার ফলে জীবন আনন্দ পূর্ণ হয়ে ওঠে। *ধ্যান সাধনার ফলে সুষম ব্যক্তিত্বের অধিকারী হয়ে উঠলে জীবনের যে কোন ক্ষেত্রেই সাফল্য অর্জন সম্ভব।* আর্থিক স্থিতিও উন্নত হয়। আর নিজের মধ্যে এক পরিপূর্ণতার অনুভব হয়।

ধ্যানের মাধ্যমে একদিকে যেমন আত্মশক্তি বাড়তে থাকে তেমনি শরীর ভাব কম হয়, যা আমাদের শারীরিক কষ্টকে কমায়। *আত্মার শক্তি বৃদ্ধি হওয়া মানে আমাদের ভেতরে মানবিক গুণগুলোর বিকাশ হওয়া, আর আমাদের মধ্যে মনুষ্যধর্ম জাগ্রত হওয়া। এর ফলে আমাদের চারদিকে যে পবিত্র আভামন্ডল তৈরি হয় তা আমাদেরকে যেমন খারাপ সঙ্গের থেকে দূরে রাখে তেমনই যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করে।* এইভাবে ধীরে ধীরে নিজেদের জীবদ্দশাতেই এক মুক্ত অবস্থা প্রাপ্ত হয়, যাকে মোক্ষ বলা হয়। এই চিন্তামুক্ত( নির্বিচার স্থিতি) স্থিতি থেকেই কর্মমুক্ত অবস্থায় পৌঁছানোই হলো হিমালয়ীন সমর্পণ ধ্যানযোগের উদ্দেশ্য।

Related Articles

Back to top button