আত্মাশুদ্ধি

গুরু পূর্ণিমা:

গুরুপূর্ণিমার দিনটি সাধকের জীবনে একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আনন্দময় দিন। সাধক বলতে যে পরম চৈতন্য কে জানতে অনুভব করতে ব্যাগ্র অর্থাৎ যে কোন মূল্যে পরম চৈতন্যের অনুভূতি পেতে চায়। আর এই ব্যাগ্রতাই একজন সাধারণ মানুষকে সাধকে রূপান্তরিত করে। সাধক ব্যাকুল হলে পরমাত্মাও তার প্রতিনিধি স্বরূপ গুরু কে তখন তাঁর সাধকের জীবনে পাঠান। পরম চৈতন্যের অনুভূতি পেতে গেলে এমন একজনের সান্নিধ্য দরকার যিনি নিজে সেই অনুভূতি প্রাপ্ত করেছেন। যিনি সেই পরম চৈতন্য কে নিজের মধ্যে পেয়েছেন একমাত্র তিনিই সেতু হয়ে সাধককে তার লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে পারেন।

সংস্কৃতে গুরু শব্দের তাৎপর্য “গু” অর্থে অন্ধকার “রু” অর্থে নাশ হওয়া, অর্থাৎ যিনি আমাদেরকে জড়রূপী আঁধার থেকে চৈতন্যরূপী আলোর পথে নিয়ে যান তিনিই গুরু। গুরুই পরমাত্মার সেই মাধ্যম যার মধ্যে দিয়ে তাঁর পরম চৈতন্য প্রবাহিত হয়।

আষাঢ় মাসের পূর্ণিমা তিথি গুরু শিষ্য পরম্পরার এক সুবর্ণ তিথি ; জগৎগুরুদের গুরুশক্তির বর্ষা মানব সমাজের উপর বর্ষিত হওয়ার তিথি। কথিত আছে এই পুণ্য তিথিতেই স্বয়ং ভগবান শিব গুরু রূপে প্রকট হয়ে তাঁর প্রথম সাত শিষ্যকে পরম জ্ঞান (ব্রহ্মজ্ঞান বা আত্মজ্ঞান) দান করেছিলেন। তাঁর সেই সাত শিষ্য সপ্তর্ষি নামে পরিচিত আমাদের কাছে।
মহামুনি দ্বৈপায়ন বেদব্যাসের জন্মতিথিও এই দিনটি।

শুধু তাই নয় এই পবিত্র দিনটি বৌদ্ধ ধর্মেও অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে উদযাপন করা হয়। কেননা ভগবান গৌতম বুদ্ধের বোধিলাভেরও তিথি এই পূর্ণিমা। সারনাথে ভগবান বুদ্ধ তাঁর শিষ্যদের প্রথম আত্মজ্ঞান প্রদান করেছিলেন এই দিনটিতেই।

পরমাত্মা তো মান্যতার উপর নির্ভর করে। তাঁর চৈতন্য তো সর্বত্র বিরাজমান। মানলে আমরা তাঁকে পাথরের মধ্যেও অনুভব করতে পারি। তবে হিন্দু সংস্কৃতিতে পরমাত্মাকে গুরু রূপে অনুভব করার সহজ মার্গের নির্দেশ আছে। আমরা যে দেব দেবী রূপেই পরমাত্মাকে উপাসনা করি না কেন তার প্রকৃত স্বরূপের প্রকাশ সদগুরুর মধ্যেই উপলব্ধি করা সম্ভব। তাই হিন্দু সংস্কৃতিতে স্পষ্ট রূপে বলা হয়। “গুরু ব্রহ্মা; গুরু বিষ্ণু; গুরুদেব মহেশ্বর।
গুরু সাক্ষাৎ পরব্রহ্ম; তস্মৈ শ্রী গুরবে নমঃ l”
পরমাত্মাকে গুরু রূপে প্রাপ্তির দিন এই গুরু পূর্ণিমা তিথি। নিজের নিজের কলস রূপী চিত্তকে খালি করে গুরুর দেওয়া অমৃতে তা পূর্ণ করার দিন এই গুরু পূর্ণিমা।

গুরুই ব্রহ্মারূপে শিষ্যের আত্মাকে প্রকট করেন, এবং বিষ্ণুরূপে সংসারের সব নেতিবাচক পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করে শিষ্যের নব-প্রাপ্ত আত্মাকে প্রতিপালন করেন। আবার তিনিই মহেশ্বর রূপে শিষ্যের অতীতের নেতিবাচক স্মৃতির জাল কে ধ্বংস করে আত্মাকে মুক্ত করেন। অতএব প্রত্যেক সাধকের জীবনে তার গুরুর মধ্যেই পরব্রহ্মের প্রকাশকে অনুভব করা সম্ভব ।

হিমালয়ান মেডিটেশন পশ্চিমবঙ্গ কর্তৃক এই দিনটিতে সব সাধক সাধিকার সম্মিলিত প্রয়াসে হুগলির হরিপালে কাশি বিশ্বনাথ সমিতিতে উদযাপিত হবে। আমরা সকল সৌভাগ্যশালী সাধকগণ জীবন্ত সদ গুরুর সূক্ষ্ম শরীরের সান্নিধ্যে সামূহিকতায় গুরু পূর্ণিমার পূণ্য তিথিতে গুরু চরণে নিজেদের সমর্পণ করে গুরুর আশীর্বাদ স্বরূপ তাঁর চৈতন্যবর্ষায় স্নাত হয়ে জীবন ধন্য করি।গুরু পূর্ণিমার উৎসব হলো আত্মার উৎসব। তাই আত্মার সাথে পরমাত্মার এই মহামিলনের উৎসবে সকল উৎসাহী সকলকে জানাই হিমালয়ান মেডিটেশনের তরফ থেকে সাদর আমন্ত্রণ। তাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াসকে হারিপাল কাশি বিশ্বনাথ সমিতির প্রাঙ্গণে নিজেদের উপস্থিতি দ্বারা সাফল্যমন্ডিত করুন।

এই আত্মোৎসবে যুক্ত হতে আগ্রহীরা (আগামী 9th জুলাই ও 10th জুলাই 2025) নিম্নলিখিত ফোন নম্বরে যোগাযোগ করবেন :
8697349477
8617422352

Related Articles

Back to top button