ঠাকুরের নামে জপ – তপ করলে মন শুদ্ধ হয় – মা সারদা
জপমন্ত্র নিজে নির্বাচিত না করাই ভালো। গুরুর প্রয়োজনীয়তা ভীষণভাবে জরুরি।

‘মন অনিচ্ছুক এবং অস্থির থাকলেও, জপ ত্যাগ করো না।’
মনের ভিতর কত ঝড় — হাজারো চিন্তা, ব্যথা, ভয়, আকাঙ্ক্ষা…
কিন্তু তবুও নামজপ থামিও না।
এক সময় তুমি নিজেই দেখবে —
মন ধীরে ধীরে নিস্তব্ধ হয়ে উঠছে… ঠিক বাতাসহীন কোণে জ্বলতে থাকা আগুনের শিখার মতো।
যে মুহূর্তে মন ঈশ্বরে স্থির হয় —
সেই মুহূর্তেই শান্তি নেমে আসে।
— শ্রী মা সারদা দেবী
জপের ছোট্ট ছোট্ট কিছু কথা যা জীবনকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করে। ছোট্ট কিন্তু অতীব গভীর। বারবার জপের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়, কারণ এটা এক অমোঘ সত্য যে, ব্যক্তির চরমতম বিকাশ বা পরিবর্তন জপের মাধ্যমে দৃঢ় হয়। অসম্ভব জেদ আর অনুশীলনের মাধ্যমে আমরা নিজেদের মধ্যে আর এক সত্তার পরিচয় পাই- যে দৃঢ়তার সঙ্গে জীবন সংগ্রামে লড়াই করে যায়।
১. মন্ত্রজপ একমাত্র শক্তি যা আমাদের মনকে ত্রাণ করে। সংসারের জটিলতা ও দুঃখ থেকে মনকে টেনে আলোর দিকে নিয়ে যায়।।
২. আমাদের মন ক্লান্ত ও মলিন। জপ শিশিরের বিন্দু বিন্দু ফোঁটার মতো দেহ-মন-প্রাণের উপর ক্রিয়া করে। রাতারাতি আমরা পরিবর্তিত হব না। ধৈর্য্য ধরতে হবে।।
৩. জপ শুরু করা মানে মনের তীব্র অনিশ্চয়তার মাঝে নিশ্চয়তার সন্ধান পাওয়া। মন বাইরের ঘটনায় বেশি রিঅ্যাক্ট করে না।।
৪. শুরুতে প্রবল লড়াই আর বিরোধিতা। হিংস্র মন বাগে আসবে না। হাল ছাড়লে চলবে না। মনে জেদ রাখতে হবে।।
৫. প্রতিটি মন্ত্রের উচ্চারণ আমার ইষ্টের কাছে আত্মনিবেদন। শুধু মুখে বলে কোনো ফল নেই। চেষ্টা করতে হবে, প্রতি মন্ত্রোচ্চারণে সেই সুতীব্র বিশ্বাস আর ভালোবাসাকে জাগিয়ে তোলা। বিশ্বাস রাখতে হবে, ” যেখানে ইষ্টের চিন্তা, সেখানে অনিষ্ট নেই।”
৬. মন্ত্রসাধনের উপকারিতা সর্বক্ষেত্রেই। দেহ হবে সুস্থ, স্নায়ু হবে স্নিগ্ধ। মনে আসবে ধৈর্য, পরিতৃপ্তি আর শান্তি। আর আত্মিক দিক দিয়ে আত্মস্বরূপের উপলদ্ধি।

৭. জপের লক্ষ্য কি? বিশ্বের এক স্পন্দনের মধ্যে নিজেকে মিশিয়ে দেওয়া। আমরা বিশ্বের সাথে এক অনুভব করি।
৮. জপসাধনা ও পরমাণুবিজ্ঞানসাধনা একই প্রকার। মাথায় রাখতে হবে, প্রকৃতি-পুরুষ এক হয়ে নিউক্লিয়াস গঠন করে। এটি বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ শক্তি। আমরা এর মধ্যে বিভাজন ঘটিয়ে নিউক্লিয়ার এনার্জি তৈরি করি। পজিটিভ চার্জ হলেন প্রকৃতি। আর চার্জলেশ হলেন পুরুষ। বিশ্বমাতার সাথে বীজমন্ত্রের মাধ্যমে সংযোগ ঘটে অর্থাৎ গোটা বিশ্বের ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ফোর্সের সাথে নিজেকে যুক্ত করা।
৯. জপমন্ত্র নিজে নির্বাচিত না করাই ভালো। গুরুর প্রয়োজনীয়তা ভীষণভাবে জরুরি।
১০. বারবার কৃতজ্ঞ থাকবেন। আমরা জপ করি না, তিনি আমাকে জপ করিয়ে নেন।
১১. প্রতিটি মন্ত্রোচ্চারণ শ্রদ্ধার সঙ্গে করলে আমরা ধীরে ধীরে এগোতে থাকি।
১২. আমার এক ডাক যেন হাজার ডাকের কাজ হয়- এরকম নিষ্ঠা ও গভীরতা চাই।
১৩. প্রতিটি ডাক তিনি গভীর প্রীতি সহকারে শুনছেন। প্রতিটি ডাকে আমি তাঁর অধিকতর নিকটবর্তী হচ্ছি- এই বিশ্বাস সুদৃঢ় হওয়া চাই।
১৪. জপ হল আমার পরম বিশ্রাম, আরাম, শান্তি, সমৃদ্ধি ও আনন্দের আধার। এটি শক্তি ও সময়ের চূড়ান্ত উপযোগ।
১৫. ঘুমোতে যাওয়ার আগে ও ঘুম থেকে যখন প্রথম সজাগ হই তখন জপ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
১৬. সবশেষে, সংসারের হাজার সমস্যার জন্য হাজার সমাধান খুজতে না চাওয়া। জোর দিতে হবে শুধুমাত্র নামের উপর। ঐ একটিমাত্র উপায়ে সর্ব সমস্যার সমাধান হয়।।


