আত্মাশুদ্ধি

ঋতুস্রাব অশুচি ! মনই শুচি অশুচি , শরীরে শুচি অশুচি হয় না : ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণ 

ঠাকুরের জন্যে রান্না এবং পুজো করে কুসংস্কারকে হেলায় উড়িয়েছিলেন মা সারদা

 

মেনস্ট্রুয়েশন বা ঋতুস্রাব মেয়েদের এক স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া | কিন্তু আজও ঋতুস্রাব নিয়ে রয়েছে হাজারও কুসংস্কার | সরকারি সমীক্ষা বলছে, ভারতের ৭০ শতাংশ মায়েরা নিজের মেয়েকে ঋতুস্রাব সংক্রান্ত বিষয়ে নীরব থাকতেই বলে থাকেন | দেশের ৪৫ শতাংশ মেয়ের কাছে ঋতুস্রাব আজও অস্বাভাবিক | গ্রাম ও শহরাঞ্চল সবজায়গাতেই “ঋতুকালীন সুরক্ষার বিষয়” আজও বহুলাংশে অবহেলিত |

একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও ঋতুস্রাব নিয়ে মেয়েদের মেনে চলতে হয় বহু নিয়ম | অনেকেই ঋতুস্রাবের দিনগুলোতে ঘরের বাইরে বেরোন না কিংবা পুজো করেন না | এমনকী ঠাকুরের ভোগ – প্রাসাদও খান না। রয়েছে ছোয়াছুয়ির বিধিনিষেধও |

কিন্তু উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকের সময়ে দাঁড়িয়েও উল্টো পথে হেঁটেছিলেন “মা সারদা” | একজন সমাজ সংস্কারকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।

কী করেছিলেন তিনি? 

মায়ের কথা থেকে জানা যায়, ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণের পেটের সমস্যা ছিল | ঝালে ঝোলে অম্বলে জাত রান্না খেতে পারতেন না । হালকা খাবার না খেলেই তাঁর পেটের রোগ দেখা দিত | মা সারদা শ্রী রামকৃষ্ণদেবকে ইচ্ছেমত শুক্তো, হালকা ঝোল রেঁধে দিতেন | কিন্তু প্রথম প্রথম মেয়েদের অশুচির তিনদিন মা সারদা রাঁধতেন না | এই সময় মন্দির থেকে প্রসাদ আসত আর ঠাকুর সেই খাবার খেতেন | আর সেই খাবার খেলেই ঠাকুরের অসুখ শুরু | একদিন ঠাকুর মা সারদাকে বললেন, “দেখ, তুমি ও-কদিন রাঁধলে না আর আমার কি শরীর খারাপ হল |” মা বললেন, “মেয়েদের অশুচির তিনদিন রাঁধতে নেই |”

ঠাকুর এই কথা শুনে বললেন, “মনই শুচি অশুচি , শরীরে শুচি অশুচি হয় না | তুমি আমাকে খাবার বানিয়ে দিও | দোষ হবে না |”

এই কথা শোনার পর সারদাদেবীই রোজ রান্না করে দিতেন | কোনও কুসংস্কার মানতেন না | এমনকি ওই সময়ে পূজারী এই সম্বন্ধে ঠাকুরকে জিজ্ঞাসা করায় তিনি সারদা দেবীকে বলেছিলেন,যদি পূজা না করলে মনের কষ্ট হয় তবে করবে, নতুবা নয় | এরপর থেকে ওই সময়ে পুজোও করতেন শ্রী মা সারদাদেবী |

এভাবেই মন এবং সমাজের সংস্কার ভেঙেছিলেন মা সারদা ও ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ |

(এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে অবশ্যই পড়ুন স্বামী লোকেশ্বরানন্দজীর লেখা বই “শতরূপে সারদা” |)

Related Articles

Back to top button