পাহাড়-জঙ্গল-ঝর্ণার টানে রাঁচি-বেতলা-নেতারহাট-পত্রাতু
সফর আসলে শুধু পাহাড়-জঙ্গল দেখা নয়— এ হল শহুরে কোলাহল, কালো ধোঁয়ায় মোড়া শহর, যাবতীয় ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলে প্রকৃতির কাছে কিছুটা সময় কাটানো।

ঈশানী মল্লিক: শীতকালের ভোর। শহরের কোলাহল পেরিয়ে পাহাড়-জঙ্গল-ঝর্ণাকে সঙ্গী করে কয়েকটা দিন কাটাতে কে না চায়! এই শীতে তাই ঠিক হল — রাঁচি, বেতলা, নেতারহাট আর পত্রাতু ঘিরে ৮ দিনের সফর। গন্তব্যের পথে হাওড়া স্টেশনে পৌঁছে রাতের ট্রেনে উঠে পড়া। সামনে অপেক্ষা করছে ছোটনাগপুর মালভূমির অরণ্য, উপত্যকা আর পাহাড়ি ঝর্ণার ডাক।
প্রথম দিন— হাওড়া থেকে রাঁচির পথে
রাত ৯টা ৩০-এ ট্রেন ছাড়ল হাওড়া স্টেশন থেকে। জানালার ওপারে অন্ধকার গ্রাম, দূরের আলো, ট্রেনের ছন্দময় দুলুনি—সব মিলিয়ে যেন এক অন্য রকম শুরুর রাত।
দ্বিতীয় দিন— রাঁচি পৌঁছে শুরু পূণ্যভ্রমণ ও প্রকৃতির সাথে পরিচয়।
ভোরের আলো ফুটতেই রাঁচি স্টেশনে ট্রেনের ঢোকা, সময় প্রায় সকাল ৭টা। হোটেলে ফ্রেশ হয়ে চা, জল খাবার খেয়ে বেরিয়ে পড়া—
দেওরী মন্দির — ঐতিহ্যে মোড়া তীর্থ
সান টেম্পল — পাহাড়চুড়োয় দাঁড়ানো শৈল্পিক সৌন্দর্য
দশম ফলস — পাহাড়ি জলের গর্জন
সন্ধ্যার পর ফিরে আসা রাঁচি শহরের নিরিবিলি হোটেলে। রাতের আকাশ পরিষ্কার — শীতের রাতের শান্তি যেন গায়ে মেখে নেয় ভ্রমণপিপাসু মন। রাতের বিশ্রাম: রাঁচি

তৃতীয় দিন — রাঁচির তিন ঝর্ণার দিন
আজকের পুরোটা সময় জলপ্রপাতের জন্য—
হুন্ডরু ফলস — ঝাড়খণ্ডের অন্যতম উঁচু ঝর্ণা
সীতা ফলস — নীরব, সবুজে মোড়া
জনা ফলস — আদিবাসী গ্রাম ঘেরা রূপকথার মতো এক প্রকৃতিস্থান
শীতের রোদের মধ্যে পাহাড়ি ঝর্ণার শব্দ — মন ভরে যায়। সন্ধ্যায় আবার রাঁচি ফেরা।
রাতের বিশ্রাম: রাঁচি

চতুর্থ দিন— রাঁচি থেকে বেতলা ন্যাশনাল পার্ক (প্রায় 186 কিমি)
সকাল ৮টা নাগাদ গাড়ি ছাড়ল বনের পথে। রাস্তার পাশে শুকনো পাতা, সোনালি রোদ।
দুপুরের দিকে পৌঁছনো বেতলা ন্যাশনাল পার্কে।
বিকেলে চাইলে জিপ সাফারির সুযোগ —
দেখা মিলতে পারে হরিণ, নানারকম পাখি, মাঝে মাঝে হাতিও।
রাতের বিশ্রাম: বেতলা ফরেস্ট

পঞ্চম দিন— বেতলা থেকে নেতারহাট (124 কিমি): পথে পথে ঝর্ণা
ব্রেকফাস্ট শেষে রওনা নেতারহাটের পথে। মাঝপথে থামা—
মিরচাইয়া ফলস
লোধ ফলস — এলাকায় অন্যতম উঁচু ঝর্ণা
দুপুরে নেতারহাটে পৌঁছে বিশ্রাম, সন্ধ্যায়—
ম্যাগনোলিয়া পয়েন্টের সূর্যাস্ত
নেতারহাট স্কুল চত্বর
ড্যাম এলাকা
নাশপাতি বাগান
Upper Ghaghri Falls
কুয়াশাঘেরা পাহাড় নেমে আসে সন্ধ্যার আঁধারে।
রাতের বিশ্রাম: নেতারহাট
ষষ্ঠ দিন — সূর্যোদয়ের সাক্ষী হয়ে পত্রাতুর পথে (156 কিমি)
ভোরে Sunrise Point-এ দাঁড়িয়ে দেখা—
আকাশ ধীরে ধীরে জ্বলে উঠছে কমলা-লাল আলোয়।

নাস্তার পর রওনা Patratu Valley-র দিকে।
বাঁক-খাওয়া পাহাড়ি রাস্তা, দূরে জলাধার — এক মনখোলা দিন।
👉 রাতের বিশ্রাম: পত্রাতু
সপ্তম দিন — রাজরাপ্পা মন্দির, রাঁচি জু ও বিদায়যাত্রা
আজ ফিরতি সূচি—
রাজরাপ্পা মন্দির দর্শন

দুপুরে রাঁচি জু-তে বেড়ানো
সন্ধ্যার মধ্যে পৌঁছে যাওয়া রাঁচি স্টেশনে (প্রায় ৭.৩০pm)
সেখান থেকে রাতের ট্রেনে ফেরার পালা।
অষ্টম দিন — হাওড়া ফিরে সফরের পরিসমাপ্তি
ভোর ৬টা ৪০-এ ট্রেন ঢুকে পড়ে হাওড়া স্টেশনে। হাতে রয়ে যায় পাহাড়-জঙ্গল-কুয়াশার স্মৃতি।
ঘোরা তো হবে। তার আগে একটা প্রপার প্ল্যান করে ফেলতে হবে যাতে ঘোড়াটা নিশ্চিন্ত হয়ে।
মোটামুটি আনুমানিক খরচের হিসাব (প্রতি জন)
হাওড়া–রাঁচি–হাওড়া ট্রেনভাড়া
₹800–₹2,000
লোকাল গাড়ি/ট্রিপ
₹4,000–₹8,000
হোটেল/রিসোর্ট (৭ রাত)
₹7,000–₹20,000
খাবার
₹3,500–₹6,000
সাফারি/এন্ট্রি
₹500–₹1,500
অন্যান্য
₹1,000
মোটামুটি: ₹16,000–₹37,000 প্রতি জন
(মৌসুম ও বুকিং অনুযায়ী কম-বেশি হতে পারে)
ভ্রমণ-পরামর্শ
✓ শীতে তাপমাত্রা ৫–১২° পর্যন্ত নেমে যায় — গরম জামা নিন
✓ মেডিসিন আগে থেকে রাখুন
✓ বনভূমিতে নিয়ম মেনে চলা জরুরি
✓ পাওয়ার-ব্যাঙ্ক-ক্যামেরা সাথে রাখুন
ঘোরার জায়গাগুলোর সারাংশ
রাঁচি: দশম ফলস, হুন্ডরু ফলস, জনা ফলস, সীতা ফলস, সান টেম্পল, দেওরী মন্দির, রাঁচি জু
বেতলা: ন্যাশনাল পার্ক, সাফারি, পালামু ফোর্ট এলাকা
নেতারহাট: Magnolia Sunset Point, Sunrise Point, Upper Ghaghri, Lodh Falls, Pine Forest, ড্যাম
পত্রাতু: Patratu Valley, লেক ভিউ

যদি একদম নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে শুধু ঘোরা ফেরা, খাওয়া আর বিশ্রামের মধ্যে এক অপার সৌন্দর্যের আমেজ নিতে চান তাহলে ঝাড়খন্ড ট্যুরিজমের এর অথরাইজড ট্রাভেল এজেন্সি “মোবাইল প্লাজা ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস” এর সঙ্গে ঝাড়খন্ডের শুধু এই জায়গাগুলো নয়। আরো বাকি জায়গাগুলো ঘুরে আসুন। বিশ্বাস, ভরসা, ভাল ব্যবহার, আথিতেয়তা, ভালো মানের খাবার, সুন্দর ঘোরা —- সবটাই পাবেন। খরচও পড়বে সাধ্যের মধ্যে। আর নিতে হবে না আপনাকে কোনো দায়িত্ব।
বুকিং তথ্য:
MOBILE PLAZA TOURS & TRAVELS
📱 9836468178 / 9831390524
Helpline: 7739089052
🌐 www.mobileplaza.in

