আত্মাশুদ্ধি

*হিমালয়ের ঋষি মুনিদের দ্বারা অনুপ্রাণিত সমর্পণ ধ্যান:* 

 

পর্ব ৫

*হিমালয়ান সমর্পণ ধ্যানযোগ*

‘হিমালয়ান সমর্পণ ধ্যানযোগ’ কোনো ধ্যান-পদ্ধতি নয়, বরং এটি গুরুর আত্মার দ্বারা শিষ্যের আত্মার উপর করা এক সংস্কার। আত্মসাক্ষাৎকারের মতো সর্বশ্রেষ্ঠ আধ্যাত্মিক ঘটনা গুরু-কৃপাতেই ঘটে থাকে। সমাজে সাধারণত ‘নির্বিচার অবস্থা বা চিন্তা শূন্য অবস্থা’কেই ধ্যান বলে মনে করা হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে, নির্বিচার অবস্থা অর্জনের পরই ধ্যান শুরু হয়—এই গভীর সত্যটি ‘হিমালয়ান সমর্পণ ধ্যানযোগ’ -এর মাধ্যমে অনুধাবন করা যায়।

 

এটি অনুভূতি ভিত্তিক ধ্যান। কোনো রকম বাহ্যিক ক্রিয়া ছাড়াই এই ধ্যান করা হয় যা আধুনিক জীবনের জন্য উপযোগী।

নিয়মিত মাত্র ত্রিশ মিনিট ধ্যান করলে সমাজে বাস করেও চক্র, নাড়ীর বিশুদ্ধিকরণ, আভামণ্ডলের শুদ্ধতা এবং মানুষের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব। ধ্যানের মাধ্যমে একজন সাধারণ মানুষও ধীরে ধীরে শারীরিক স্বাস্থ্য, মানসিক শান্তি, সুন্দর পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক, সাধারণ জীবনে সন্তোষ এবং অবশেষে মোক্ষ লাভ করতে সক্ষম হয়। এই ধ্যানে জাতি, ধর্ম, দেশ, বর্ণ, লিঙ্গ ইত্যাদি কোনো প্রকার বিভাজনের স্থান নেই। যেমন বাতাস, জল আর আলো সমগ্র সৃষ্টির জন্য রয়েছে তেমনি এই অমূল্য ধ্যানও সবার জন্যই উপলব্ধ। এটি সম্পূর্ণ নিঃশুল্ক। আজ পৃথিবীর সব মহাদেশে লক্ষ লক্ষ মানুষ হিমালয়ের এই প্রাচীন ধ্যানপদ্ধতি গ্রহণ করে নিজেদের জীবনকে সুখময় করে তুলছেন—এ যেন ‘বসুধৈব কুটুম্বকম্’ ধারণার বাস্তবায়নের সূচনা!

 

 

হিমালয়ের যোগী, সদগুরু শ্রী শিবকৃপানন্দ স্বামীজী ‘হিমালয়ের ধ্যানযোগ’-এর প্রবর্তক। প্রায় পাঁচ বছর বয়স থেকেই তাঁর মধ্যে পরমাত্মাকে জানার তীব্র আকাঙ্ক্ষা জন্মেছিল। বহু প্রচেষ্টার পর, এক অলৌকিক ঘটনার মাধ্যমে তাঁর জীবনে এক গুরু আসেন এবং হিমালয়ে তাঁর ধ্যানসাধনার সূচনা হয়। প্রায় ১৬ বছরের এই সাধনার পর তাঁর হিমালয়ের গুরুদের নির্দেশে ১৯৯৪ সালে তিনি সমাজে আগমন করেন। তাঁর আগমনের মূল উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য হল-

 

১)যুব প্রজন্ম আত্মানুভূতি লাভ করে সাধনা করতে করতে এমন যোগ্যতা অর্জন করুক যাতে তাঁরা এক পূণ্যাত্মা ও উচ্চস্তরের আত্মাকে জন্ম দিতে পারে।

 

২) সমাজে নারীরা তাঁদের উচ্চ মর্যাদা পুনরুদ্ধার করুন, যাতে হাজার হাজার বছর ধরে চলে আসা নারী-পুরুষের বৈষম্যের ব্যবধান পূরণ হয়।

 

৩) আগামী অন্তত আটশো বছর পর্যন্ত যে প্রজন্ম আসবে তাদেরও যাতে আত্মজাগরণ হতে পারে—এই সংকল্পশক্তি নিয়ে ‘শ্রী গুরুশক্তিধাম’ (ধ্যান মন্দির) নির্মিত হোক।

 

সদগুরু শ্রী শিবকৃপানন্দ স্বামীজী তাঁর হিমালয়স্থ গুরুদের মহান উদ্দেশ্য পূরণের জন্য তাঁর সমগ্র জীবন উৎসর্গ করেছেন। ১৯৯৪ সাল থেকে তিনি নিরবচ্ছিন্নভাবে গুরুকার্যে নিয়োজিত। সাধকদের আধ্যাত্মিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে তিনি সর্বদা চেষ্টা করে চলেছেন এবং তাঁর নতুন নতুন গবেষণার ফল সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেন। ভাগ করে নেওয়াই তাঁর স্বভাব—তিনি সম্মুখস্থ ব্যক্তির যোগ্যতা বিচার করেন না, কারণ তিনি বিশ্বাস করেন সেই ব্যক্তি তাঁর গুরু কর্তৃক প্রেরিত। বাস্তবিক অর্থে, পূজ্য স্বামীজী করুণা ও প্রেমের জীবন্ত প্রতিমূর্তি। গার্হস্থ্য ধর্ম পালন করেও আধ্যাত্মিকতার সর্বোচ্চ অবস্থায় পৌঁছানো যায়—এই সত্যের জীবন্ত প্রমাণ তিনি। সংক্ষেপে, তিনি শরীরের গুণ-দোষের ঊর্ধ্বে এক শূন্যাবস্থায় অবস্থান করছেন—এটি তাঁর আভামণ্ডলের আলোকচিত্র থেকেও বোঝা যায়।

 

পূজ্য স্বামীজী প্রত্যেক বছর সমাজের কোনো না কোনো অংশের কল্যাণে নিজেকে সমর্পণ করে তাঁদের জন্য বিশেষ ধ্যানশিবিরের আয়োজন করে থাকেন—যেমন যুবক, নারীশক্তি, কৃষক, শিক্ষক, চিকিৎসক, রক্ষক (পুলিশ, সামরিক বাহিনী), সাধুজন, শিশু ইত্যাদি।

তিনি সমাজে এই বোধ জাগিয়ে তুলবার জন্য সতত প্রয়াস করে চলেছেন যে যোগ কেবল যোগাসনেই সীমিত নয়—সমগ্র যোগের ক্ষেত্রটি অনেক বিস্তৃত। এজন্য তিনি যোগগুরু ও সাধুজনদের উৎসাহিত করছেন।

ক্রমশঃ

Related Articles

Back to top button